Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে যখন রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের সংগঠন মজবুত করার চেষ্টায় ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে কংগ্রেস শিবিরে শুরু হয়েছে তীব্র অস্থিরতা (Congress)। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে, যা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

প্রার্থী ঘোষণার পরেই বিক্ষোভের ঝড় (Congress)
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জ্যোতির্ময় মন্ডলকে মন্তেশ্বরের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হতেই দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। কুসুমগ্রামের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখান এবং সরাসরি প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তোলেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই প্রার্থী কোনওভাবেই দলের ‘গ্রাসরুট’ কর্মী নন এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্তও নন। ফলে হঠাৎ করে তাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘অগণতান্ত্রিক’ বলেও মনে করছেন।
‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠ’ অভিযোগে বিতর্কের আগুন (Congress)
এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে যখন জ্যোতির্ময় মন্ডলের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ কর্মীদের একাংশ সরাসরি তাকে ‘তৃণমূলের দালাল’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। জেলা কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি বুলবুল আহমেদ শেখের বক্তব্যে এই অভিযোগ আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তিনি বলেন, জ্যোতির্ময় মন্ডলকে কখনও কংগ্রেসের কোনও কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। বরং তার পরিবারের সদস্যরা তৃণমূলের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

পারিবারিক যোগসূত্র ঘিরে প্রশ্ন (Congress)
বুলবুল আহমেদ শেখের দাবি অনুযায়ী, জ্যোতির্ময় মন্ডলের স্ত্রী উত্তরা মন্ডল বর্তমানে মন্তেশ্বর পঞ্চায়েতের একজন তৃণমূল সদস্য। এই পারিবারিক রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের অনেক কর্মী। তাদের বক্তব্য, যেখানে কংগ্রেসের কর্মীরা অতীতে তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন, সেখানে এমন একজন প্রার্থীকে সামনে আনা দলের আত্মসম্মান এবং সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অতীতের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ (Congress)
অভিযোগের তালিকা এখানেই শেষ নয়। স্থানীয় কর্মীদের দাবি, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় কংগ্রেসের হয়ে না লড়ে জ্যোতির্ময় মন্ডল তৃণমূলের পক্ষেই প্রচার চালিয়েছিলেন। ফলে বর্তমানে তাকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে রাজি নন দলের একাংশ। এই অভিযোগগুলি সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু রাজনৈতিক নয়, নৈতিক প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে।
দলীয় ঐক্যে বড় ধাক্কা? (Congress)
নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রকাশ্য বিক্ষোভ যে কংগ্রেসের দলীয় ঐক্যে বড় ধাক্কা দিতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিরোধী ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়তে পারে। একদিকে যেখানে দলীয় নেতৃত্ব সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে চাইছে, অন্যদিকে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভের বিস্ফোরণ সেই প্রচেষ্টাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

আরও পড়ুন: Priyanka Sarkar: রাহুলকে হারিয়ে কী লিখলেন চিরদিনের সঙ্গী প্রিয়াঙ্কা?
নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দলীয় ক্ষোভ প্রশমিত করা এবং কর্মীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। প্রার্থী পরিবর্তন করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে দ্রুত কোনও সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।



