Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কংগ্রেস (Election 2026)। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর যেমন ক্ষোভ-বিক্ষোভের ছবি সামনে এসেছে, তেমনি অন্যদিকে নতুন আশার কথাও শোনা যাচ্ছে দলীয় নেতৃত্বের মুখে। হুগলির শ্রীরামপুরে কংগ্রেস প্রার্থী শুভঙ্কর সরকারের প্রচারপর্ব সেই বার্তাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

প্রার্থী তালিকা ঘিরে ক্ষোভ (Election 2026)
কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই হুগলির বিভিন্ন এলাকায় দলের কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। বিশেষ করে শ্রীরামপুরে কংগ্রেস কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে আসে দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধেই। এতে স্পষ্ট, প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলের ভিতরে কিছু মতবিরোধ এখনও রয়ে গেছে।
পুরনো প্রার্থী, নতুন লড়াই (Election 2026)
শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস এবারও প্রার্থী করেছে শুভঙ্কর সরকারকে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনিই এই কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন, যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সুদীপ্ত রায়ের কাছে প্রায় ১০ হাজার ভোটে পরাজিত হন।
তবে এবার তিনি আত্মবিশ্বাসী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সমর্থন আরও বেড়েছে বলেই তাঁর দাবি।

ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা (Election 2026)
প্রচারের শুরুতেই শুভঙ্কর সরকার রিষড়ার বড় জামা মসজিদে গিয়ে ইমামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দেন। এই দুই ধর্মীয় স্থানে উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন সম্প্রীতি ও সহাবস্থানই তাঁর রাজনীতির মূল ভিত্তি।
“২৯৪টি গাছ” (Election 2026)
শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল “২৯৪টি গাছ” রূপক। তাঁর কথায়, “আমরা ২৯৪টি আসনে নতুনভাবে কংগ্রেস গাছ রোপণ করছি, যা আগামী দিনে ছায়া, ফুল ও ফল দেবে।” এই রূপকের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, প্রতিটি আসনে কংগ্রেসের সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে, যার ফল ভবিষ্যতে রাজ্যের উন্নয়নে প্রতিফলিত হবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যতের লক্ষ্য (Election 2026)
২০১৬ সালে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের সমর্থনের কথা স্মরণ করে শুভঙ্কর জানান, তিনি নিয়মিত শ্রীরামপুরে এসেছেন এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। যদিও ২০২১ সালে অন্য কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবুও এলাকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট রয়েছে। তাঁর মূল লক্ষ্য শ্রীরামপুরের উন্নয়নকে বিধানসভায় তুলে ধরা, বেকারত্ব দূর করা, নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা
কংগ্রেসের ঐতিহ্য ও প্রত্যাবর্তনের আশা (Election 2026)
তিনি মনে করিয়ে দেন, একসময় কংগ্রেসই বাংলায় শিল্প ও কলকারখানা গড়ে তুলেছিল। গত ৪৮ বছর ধরে সেই ধারার অভাব অনুভূত হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর মতে, বাংলার মানুষ এখন আবার কংগ্রেসকে সুযোগ দিতে চাইছে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়নের পথে হাঁটার জন্য।
কর্মীদের ভূমিকা ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ (Election 2026)
দীর্ঘদিন অনেক জায়গায় প্রার্থী না দেওয়ার ফলে কর্মীদের মধ্যে কিছু হতাশা থাকলেও, শুভঙ্কর বলেন, কর্মীরাই দলের আসল শক্তি, প্রলোভন সত্ত্বেও তারা দল ছাড়েননি, এবার সেই কর্মীদেরই প্রার্থী করা হয়েছে এতে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে বলেই তাঁর বিশ্বাস।
টিকিট বেচাকেনা নিয়ে তীব্র মন্তব্য (Election 2026)
তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে টিকিট বেচাকেনার অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভঙ্কর বলেন, “কংগ্রেসে টিকিট কিনতে হয় না। যদি এমন পরিস্থিতি আসে, তাহলে বুঝতে হবে অন্য দলগুলো শেষ হয়ে গেছে।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসের আদর্শগত অবস্থানকে তুলে ধরতে চান।

আরও পড়ুন: Leander Paes Joins BJP: ভোটের আগেই ফুল বদল, ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্মে যোগ লিয়েন্ডারের!
যুবসমাজ ও কংগ্রেসের প্রতি আগ্রহ
বর্তমানে যুবকদের মধ্যে কংগ্রেস নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি। অনেকেই কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচনে দাঁড়াতে চাইছেন এটিকে তিনি দলের পুনর্জাগরণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।



