Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনকে ঘিরে (Indian Theatre)। অভিযোগ উঠেছে, ‘Cooled Off’ নামক একটি অস্পষ্ট ও ধোঁয়াশাপূর্ণ শব্দবন্ধের আড়ালে বহু পুরোনো ও সক্রিয় নাট্যদলকে সরকারি অনুদানের আওতার বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে এই নীতির প্রভাব গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।

নীতির আড়ালে অনিশ্চয়তা (Indian Theatre)
‘Cooled Off’ এই শব্দবন্ধটির কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা এখনও পর্যন্ত সরকারি তরফে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি। ফলে নাট্যদলগুলির মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ। বহু দলই দাবি করছে, তারা নিয়মিত নাট্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছে, নতুন প্রযোজনা করছে, কর্মশালা আয়োজন করছে তবুও তাদের ‘নিষ্ক্রিয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
বন্ধ স্যালারি গ্রান্ট ও গুরু-শিষ্য প্রকল্প (Indian Theatre)
অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, হঠাৎ করেই স্যালারি গ্রান্ট (Salary Grant) এবং ‘গুরু-শিষ্য পরম্পরা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির নবীকরণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলি শুধুমাত্র আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি মূল স্তম্ভ। স্যালারি গ্রান্ট: বহু থিয়েটার কর্মীর একমাত্র নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস গুরু-শিষ্য পরম্পরা: প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শিল্পচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অন্যতম মাধ্যম এই দুটি প্রকল্পে হঠাৎ স্থবিরতা গোটা নাট্যজগতকে গভীর সংকটে ফেলেছে।

পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক প্রভাব (Indian Theatre)
এই নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে, যেখানে নাট্যচর্চা একটি দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অংশ। প্রায় ৩০০টি নাট্যদল এবং ২,০০০-এর বেশি শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী সরাসরি এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানা যাচ্ছে। অনেক শিল্পীর জন্য এই অনুদান শুধুমাত্র সহায়তা নয়, বরং জীবিকার প্রধান ভিত্তি। ফলে অনুদান বন্ধ হয়ে গেলে তাদের ব্যক্তিগত জীবন যেমন বিপর্যস্ত হবে, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো।
সংস্কৃতির ভিত নড়ে যাওয়ার আশঙ্কা (Indian Theatre)
নাটক কেবল বিনোদন নয় এটি সমাজের দর্পণ, প্রতিবাদের ভাষা এবং মানুষের ভাবনার প্রতিফলন। এই অবস্থায় যদি সক্রিয় নাট্যদলগুলি আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়, তবে, নতুন প্রযোজনা কমে যাবে তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ হ্রাস পাবে, অভিজ্ঞ শিল্পীরা পেশা ছাড়তে বাধ্য হবেন ফলে দীর্ঘমেয়াদে নাট্যচর্চার ভিতই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: Matua: শাহকে রুটি-পায়েস খাইয়েও স্বপ্নভঙ্গ! সেই নবীন বিশ্বাসই এবার তৃণমূলের মিছিলে
স্বচ্ছতার দাবিতে সরব শিল্পীমহল
নাট্যজগতের শিল্পী ও সংগঠনগুলি এখন এই নীতির বিরুদ্ধে সরব। তাদের দাবি, ‘Cooled Off’ শব্দটির পরিষ্কার সংজ্ঞা দেওয়া হোক, অনুদান বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যুক্তিসঙ্গত মানদণ্ড নির্ধারণ করা হোক, বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রকল্পগুলি দ্রুত পুনরায় চালু করা হোক, তাদের মতে, সংস্কৃতির বিকাশে সরকারি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং তা বন্ধ করে দেওয়া মানে শিল্পচর্চাকে বাধাগ্রস্ত করা।



