Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: KKR-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে লখনৌ সুপার জায়ান্টসকে একা হাতে ম্যাচ জিতিয়েছেন মুকুল চৌধুরি (Mukul Choudhary)।
কলকাতার বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিল মুকুল (Mukul Choudhary)
ইডেনে এক টানটান থ্রিলারের দৃশ্যায়ন রচনা হল বৃহস্পতিবার। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কলকাতা হারিয়ে ম্যাচ জিতে নিয়েছে লখনৌ সুপার জায়ান্টস। তবে বলা ভাল কলকাতাকে একাই হারিয়ে দিয়েছে মুকুল চৌধুরী। তবে মুকুল বেশি ভাল ব্যাট করেছে নাকি কলকাতা বাজে বল বেশি করেছে সেটা এখন তর্ক সাপেক্ষ। তবে কলকাতার বুকে ঝড় হয়ে যে তাণ্ডব চালিয়েছেন মুকুল সেটা এখন সবার জানা। ইডেনের মাঠে কলকাতার বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছেন মুকুল। রাতারাতি খবরে শিরোনামে তিনি। এই ২১ বছরের তরুণ যে ঝড় তুলেছেন সেই ঝড়ে নাইট রাইডার্সের সলিল সমাধি হয়ে গেছে ৯ এপ্রিলের ম্যাচে (Mukul Choudhary)।
সাতটা ছয় যে মুখের কথা নয় সেটা সবার জানা। একদিকে যখন মনে হতে শুরু করে ম্যাচ হয়তো কলকাতার দিকে রয়েছে জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই মত কলকাতার সমর্থকরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে ম্যাচ জয়ের পর উদযাপনের। খবরের হেডলাইনে তখন জ্বল জ্বল করছে নাইটদের প্রথম ম্যাচ জয়ের হেডলাইন। শুধু ছাপার অপেক্ষা। কিন্তু সবার সব পরিকল্পনা পাল্টাতে বাধ্য করলেন রাজস্থানের এই তরুণ। একের পর এক ছয় যেন গিয়ে জমা হচ্ছে গঙ্গা বক্ষে। এরপর নাইট সমর্থকদের চোখে মুখে শুধু পড়ে থাকল হতাশা। পেসার হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই তরুণ একা হাতে ম্যাচ বের করে মনে করিয়ে দিলেন ধোনিকে।

রাজস্থানের ঝুনঝুনুর বাসিন্দা মুকুল চৌধুরী। তবে ছোট থেকে লড়াই করতে হয়েছে অনেক। ছোট শহরে পরিকাঠামোর অভাব সত্ত্বেও পিছিয়ে থাকেননি তিনি আর তাঁর এই উত্থানের পিছনে তাঁর বাবার ভূমিকাও রয়েছে অনস্বীকার্য। তাঁর বাবা দিলীপ নিজেকে আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করেছেন শুধুমাত্র ছেলের প্রশিক্ষণ ঠিক রাখবেন বলে। এরপর জয়পুরের আরাবল্লি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে যায় মুকুল (Mukul Choudhary)।

তবে পেশাদার ক্রিকেটে মুকুলের শুরুটা কিন্তু উইকেটকিপার হিসেবে নয়। প্রথমে তিনি শুরু করেন মিডিয়াম-ফাস্ট বোলার হিসেবে। এক ম্যাচে দলের প্রয়োজনে তাঁকে হঠাৎ করেই উইকেটকিপিং করতে হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন যাত্রা। ধোনিকে আদর্শ মেনে দ্রুত নতুন ভূমিকায় নিজেকে মানিয়ে নেন এবং এরপর সাফল্য।

আরও পড়ুন: Voter List: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াই মৃত্যুর কারণ?
তিনি নজর কাড়েন ২০২৫ সালে ছেলেদের অনূর্ধ্ব-২৩ স্টেট ‘এ’ ট্রফিতে। ওই টুর্নামেন্টে ১০৩ গড়ে ও ১৪২ স্ট্রাইক রেটে মুকুল করেন ৬১৭ রান। এর মধ্যে ছিল পরপর দুই ম্যাচে ছিল সেঞ্চুরি। মোট ৩৪টি ছয় হাঁকান, যা ছিল ওই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ।
এই পারফরম্যান্সের সুবাদেই রাজস্থানের সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির দলে জায়গা পান মুকুল। ২০২৫-২৬ মরশুমে পাঁচ ম্যাচে ১৯৯ স্ট্রাইক রেটে মোট ১৭৩ রান করেন এবং এরপর ফিনিশার হিসেবে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন। নিলামে ২.৬ কোটিতে দলে নেয় LSG আর সেটার সঠিক দাম দিলেন কলকাতাকে একা হাতে ধ্বংস করে। সাতটি ছয় এবং দুটি বাউন্ডারিতে রূপকথার গল্প লিখলেন মুকুল। ২৭ বলে ৫৪ রানের ইনিংস যা থেকে যাবে অপরাজিত (Mukul Choudhary)।


