Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চলতি আইপিএল-এ একটি ম্যাচেও এখনও পর্যন্ত জয় পায়নি কেকেআর। এগিয়ে থেকেও হারতে হল চতুর্থ ম্যাচ (IPL 2026)।
সামগ্রিক দুর্বলতার কারণেই কি হার? (IPL 2026)
চলতি আইপিএল-এ চারটি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে কলকাতার। যার মধ্যে তিনটে ম্যাচেই হেরেছে। আর একটা ম্যাচ? না সেটা বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গিয়েছে। সেই ম্যাচেও পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে নেমে যা অবস্থা হয়েছিল তাতে সেই ম্যাচও খুব বেশি সুবিধা করতে পারত বলে মনে হয়নি। যদিও হারের হ্যাটট্রিক থেকে কেকেআর-কে বাঁচিয়ে দিয়েছে সবথেকে দামি তারকা গ্রিন নন, বৃষ্টি (IPL 2026)।
মুম্বই, হায়দরাবাদ এবং লখনৌ সুপার জায়ান্টস কলকাতাকে উড়িয়ে দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। LSG-র বিরুদ্ধে একটি সময় পর্যন্ত কলকাতার হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও সেখান থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়ে যায় মুকুল চৌধুরী। বারবার নাইট সমর্থকদের হতাশ হতে হচ্ছে। বারবার সমর্থকরা যান দলের সমর্থনে আর শেষে একমুখ বিষাদ নিয়ে ফিরতে হয় কেকেআর ভক্তদের। ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে উঠে আসা ক্রিকেটাররা বারবার আইপিএল-এর মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করেছেন আর সেখানে কলকাতা এমন কাউকেই সেইভাবে খেলতে পারছে না। বরং যে প্লেয়াররা কলকাতা ছেড়ে অন্য ফ্রাঞ্চাইজিতে যাচ্ছে সেখানে তাঁরা ঠিকই পারফর্ম করছেন তাহলে ভুলটা কোথায়? ২০২৪ সালে দলকে আইপিএল জেতানোর পর শ্রেয়স আইয়ারকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল?

এবার যদি LSG-র বিরুদ্ধে ম্যাচের কথায় আসা যাক। এই ম্যাচে কলকাতার দুটি জুটি রান পেয়েছে। অজিঙ্ক রাহানে ও অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর ৫২ বলে ৮৪ রান। এরপর গ্রিন ও রোভমান পাওয়েলের ৪০ বলে ৭০ রান। কিন্তু দ্বিতীয় জুটিতে ৭০ রান হলেও সেখানে খেলা ছিল অত্যন্ত স্লো। গ্রিনের কাছ থেকে যে খেলা আশা করা হচ্ছিল সেটা পাওয়া যায়নি। তবু এরাই রান পেয়েছেন কিন্তু বাকি মিডিল অর্ডার চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। একজন প্লেয়ার এখনও পর্যন্ত এমন খেলা খেলতে পারল না যেখান থেকে দল তাঁর উপর ভরসা করতে পারে। চার উইকেট হারিয়ে স্লো রান তোলার খেসারত দিতে হল এই দিন (IPL 2026)।
ম্যাচের ১১ থেকে ১৫ ওভার কলকাতার ব্যাটিং দেখে বোঝা কঠিন এটা টেস্ট নাকি টি-টোয়েন্টি। হঠাৎ করে দেখতে বসলে মনে হবে যেন টেস্ট ম্যাচ চলছে। এই ১১-১৫ ওভারে কোনও চার মারতে পারেনি কেকেআর। এই সময়ের মধ্যে অঙ্গকৃষ রঘুবংশী এবং রিঙ্কু সিং আউট হন। রঘুবংশী এই ম্যাচে রান পেলেও আবারও ব্যর্থ হন রিঙ্কু সিং। বারবার এটা প্রমাণিত যে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নেওয়ার মতো প্লেয়ারের অভাব রয়েছে দলে।

অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন এই ম্যাচ বল করলেও কোনও প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। ২ ওভার বল করে ২৮ রান দিয়ে ঋষভ পন্থের উইকেট নেন। অন্যদিকে হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে চার উইকেট নেওয়া ব্লেসিং মুজ়ারাবানিকে কোনও অজ্ঞাত কারণে খেলানো হল না সেটার উত্তর রাহানে বা অভিষেক নায়ারই দিতে পারবেন। অন্যদিকে বৈভব আরোরা কিছুটা চেষ্টা চালালেও নভদীপ সাইনি, কার্তিক ত্যাগীরা দায়িত্ব নিয়ে বল করতে পারলেন না। পেসারদের মধ্যে একমাত্র বৈভবের ইকোনমিক রেট ভাল।
আরও পড়ুন: Dev: দেবের হস্তক্ষেপে মামলায় ইতি, স্বস্তির হাওয়া ইন্ডাস্ট্রিতে!
পুরো ম্যাচে মোটামুটি বলা যায় কলকাতার পেসারদের একটাই স্ট্রাটেজি ছিল। স্লোয়ার বাউন্সার দিয়েই তাঁরা ভাবছিল বাজিমাত করবেন কিন্তু সেটা যে সম্ভব না সেই পূর্বাভাস বোধয় ছিল না তাঁদের কাছে। কয়েকটা বলে পেস থাকলেও ২১ বছরের মুকুলের সেটা ধরতে সমস্যা হয়নি। সে যত রুম বানিয়ে খেলছিলেন তাঁকে সেই মতই বল করে গেলেন কলকাতার ‘দামি-দামি’ বোলাররা। হাতেগোনা ইয়র্কার আর স্লোয়ার বাউন্সারের প্রতি অতিরিক্ত ভালবাসা নাইট বাহিনীকে ভোগাবে (IPL 2026)।

এরপরেই আরেকটা প্রশ্ন আসছে সেটা হল প্রথম একাদশ নির্বাচন। রাচীন রবীন্দ্র স্কোয়াডে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বসিয়ে রাখা হয়েছে। বসে বসে দলের হার দেখায় বোধহয় এখন এই তারকা অলরাউন্ডারের একমাত্র কাজ। বরং তাঁকে খেলালে একদিকে যেমন বোলিংয়ে পারদর্শী তেমন ব্যাটিংয়ের দক্ষতা সবাই জানে শুধু বোধহয় নাইট ম্যানেজমেন্ট সেই সম্পর্কে অবগত নয়। আবার উমরান মালিক যেখানে গতিতে বাকিদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন সেখানে তাঁকে এখনও পর্যন্ত একটি ম্যাচেও খেলানো হল না। এসবের উত্তর হয়ত একদিন রাহানে ঠিকই দেবেন শুধু ততদিনে না এই মরশুম কেটে যায় (IPL 2026)।


