Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইসলামাবাদের ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন কূটনৈতিক বৈঠক কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও, এর গুরুত্বকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই (US Iran Relations)। বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতির সূক্ষ্ম গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় এই সংলাপ ভবিষ্যতের সম্ভাবনার একটি দরজা খুলে দিয়েছে।

দীর্ঘ অচলাবস্থার পর ‘সংলাপের সূচনা’ (US Iran Relations)
ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত এই দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান-এর মধ্যে জমে থাকা উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। বহুদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রায় বন্ধ ছিল। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় বসা নিজেই একটি বড় অগ্রগতি। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কূটনীতি একদিনে ফল দেয় না এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এই সংলাপ ছিল “প্রথম ধাপ”, যা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
পাকিস্তানের কৌশলী মধ্যস্থতা (US Iran Relations)
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পাকিস্তান নিজেকে কেবল আয়োজক নয়, বরং সক্রিয় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অসীম মালিক এবং সেনাপ্রধান অসীম মুনির তিনজনই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে আসিম মুনির একাধিকবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি করেন।

‘ব্যর্থতা’ নয়, বরং ‘প্রাথমিক অগ্রগতি’ (US Iran Relations)
যদিও এই বৈঠক থেকে কোনও লিখিত চুক্তি বেরিয়ে আসেনি, পাকিস্তানের কর্মকর্তারা এটিকে ব্যর্থ বলতে নারাজ। তাঁদের মতে, দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ ধরে চলা আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই সংলাপ একটি ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। একজন কর্মকর্তা
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-কে জানান, “কূটনীতির ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দুই পক্ষ আবার কথা বলা শুরু করেছে।”
ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ (US Iran Relations)
বর্তমানে বলটি রয়েছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান-এর কোর্টে। চূড়ান্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানোর দায়িত্ব এখন সম্পূর্ণভাবে এই দুই দেশের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে পারমাণবিক চুক্তি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও অগ্রগতি সম্ভব।

আরও পড়ুন: Badminton Ayush Shetty: রূপোয় থামতে হল আয়ুষকে!
রাজনীতিতে পাকিস্তানের নতুন অবস্থান
এই আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নিজের গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণ করতে চেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নানা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা দেশটি এখন নিজেকে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী।



