Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্র দীঘা এবার এক নতুন পরিচয়ে উজ্জ্বল আধ্যাত্মিক তীর্থক্ষেত্র হিসেবে (Jagannath Dham)। জগন্নাথ ধাম, দীঘা তার প্রথম বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে এক বিরল মাইলফলক ছুঁয়েছে ১.৩৩ কোটিরও বেশি ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমন। মাত্র এক বছরের মধ্যেই এই সংখ্যা শুধু জনপ্রিয়তার নয়, মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তির গভীরতার এক শক্তিশালী প্রমাণ। এই সাফল্যের সময়কালও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ পবিত্র অক্ষয় তৃতীয়া-র ঠিক আগে, যা হিন্দু ধর্মে নতুন সূচনা ও শুভ কর্মের প্রতীক।

উদ্বোধন থেকে বিশ্বমঞ্চে উত্থান (Jagannath Dham)
২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই জগন্নাথ ধাম দ্রুতই জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছে। দেশ-বিদেশের ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই মন্দির। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভক্তদেরও এখানে উপস্থিতি নজরকাড়া। বিশেষ করে ইসকন-এর অনুসারীরা নিয়মিতভাবে এই ধামে আসছেন, যা মন্দিরটির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেয়।
ভক্তির বাঁধনে একাত্মতা (Jagannath Dham)
জগন্নাথ ধাম আজ এমন এক মিলনক্ষেত্র, যেখানে ভাষা, ধর্ম, জাতি বা দেশের ভেদাভেদ মুছে গিয়ে মানুষ একত্রিত হচ্ছে একমাত্র ভক্তির টানে। এই প্রসঙ্গে ইসকন কলকাতার সহ-সভাপতি ও মন্দিরের প্রধান পুরোহিত রাধারমন দাস-এর বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এক বছরের মধ্যে এত বিপুল ভক্তসমাগম কেবল একটি পরিসংখ্যান নয় এটি ভগবান জগন্নাথের প্রতি মানুষের গভীর আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। তাঁর মতে, এই ধাম এমন এক আধ্যাত্মিক ক্ষেত্র, যা মানুষকে এক সুতোয় বাঁধছে।

অর্থনীতির চাকা ঘুরছে নতুন গতিতে (Jagannath Dham)
মন্দিরকে কেন্দ্র করে দীঘার স্থানীয় অর্থনীতিতে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। হোটেল ব্যবসা, পরিবহন পরিষেবা, রেস্তোরাঁ, ছোট দোকান সব ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে আয় ও কর্মসংস্থান। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরের প্রায় প্রতিটি সময়ই এখন পর্যটকদের ভিড় থাকে, যা আগে মূলত মৌসুমি ছিল। ফলে দীঘা এখন শুধুমাত্র সমুদ্রভিত্তিক পর্যটন নয়, বরং একটি সারাবছরের তীর্থ ও পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: BJP Attacks TMC: ‘তৃণমূলকে ভোট দেব’ বলাতেই মহিলাকে ঠাসিয়ে চড় বিজেপি নেতার
বর্ষপূর্তির মহোৎসবের প্রস্তুতি
আসন্ন অক্ষয় তৃতীয়াকে ঘিরে জগন্নাথ ধামে শুরু হয়েছে জোরকদমে প্রস্তুতি। বিশেষ পূজা, মহাপ্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এই উপলক্ষে আরও বড় সংখ্যায় ভক্তসমাগম হবে, যা আবারও এক নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।



