Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের ধর্মীয় পরিমণ্ডলে দেবদেবীর প্রতিমা শুধুমাত্র উপাসনার বস্তু নয়, বরং তা সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং মানুষের আবেগের গভীর প্রতীক (Ganesh idol)। সেই প্রেক্ষাপটে কোনও দেবতার মূর্তির উপর “কপিরাইট” দাবি করা এ যেন এক নতুন ও বিস্ময়কর অধ্যায়ের সূচনা। সম্প্রতি সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির-এর ট্রাস্ট এমনই এক পদক্ষেপ নিতে চলেছে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির (Ganesh idol)
মহারাষ্ট্রের মুম্বই শহরের অন্যতম বিখ্যাত তীর্থস্থান এই মন্দির, যার প্রতিষ্ঠা ১৮০১ সালের ১৯ নভেম্বর। এখানে প্রতিষ্ঠিত ভগবান গণেশ-এর মূর্তি বহু বছর ধরে ভক্তদের আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্র। এই মূর্তিটি কালো পাথরের তৈরি এবং প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতার। চারটি হাতে পদ্ম, কুঠার, জপমালা ও মোদক ধারণ করা এই চতুর্ভুজ গণেশমূর্তি তার অনন্য গঠনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
ডানদিকে বাঁকানো শুঁড় (Ganesh idol)
সিদ্ধিবিনায়ক মূর্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর শুঁড় ডানদিকে বাঁকানো। সাধারণত গণেশের শুঁড় বামদিকে থাকে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি প্রচলিত। ধর্মীয় বিশ্বাসে ডানদিকে বাঁকানো শুঁড়বিশিষ্ট গণেশকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও কঠোর নিয়ম মেনে পূজিত দেবতা হিসেবে ধরা হয়। এই বিরল বৈশিষ্ট্যই মূর্তিটিকে অন্য সব গণেশ প্রতিমা থেকে আলাদা করেছে এবং এর প্রতি ভক্তদের আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়েছে।

কপিরাইটের দাবি (Ganesh idol)
মন্দির ট্রাস্টের অভিযোগ, এই বিশেষ মূর্তির নকল প্রতিরূপ তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ব্যাপক হারে। দেশীয় কারিগরদের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও, বিশেষত চিন থেকে, এই মূর্তির প্রতিলিপি আমদানি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাস্টের মূল উদ্দেশ্য, প্রতিমার বাণিজ্যিক অপব্যবহার বন্ধ করা, ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা করা, অননুমোদিত প্রতিলিপি তৈরি ও বিক্রি রোধ করা, তাদের মতে, যদি কপিরাইট বা ট্রেডমার্ক স্বীকৃতি মেলে, তবে এই প্রতিমার অনুমতি ছাড়া ব্যবহার আইনের চোখে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
কতটা বাস্তবসম্মত এই দাবি? (Ganesh idol)
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, কপিরাইট সাধারণত কোনও মৌলিক শিল্পকর্ম বা সৃষ্টির উপর প্রযোজ্য, ধর্মীয় প্রতীক বা ঐতিহাসিক নিদর্শনের উপর একচেটিয়া অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় না, এই মূর্তির স্রষ্টা অজানা এবং এটি বহু পুরনো, ফলে মৌলিকত্ব প্রমাণ করা কঠিন, অতএব, আইনের দৃষ্টিতে এই মূর্তির উপর কপিরাইট পাওয়া সহজ নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
কোথায় সীমারেখা? (Ganesh idol)
এই ঘটনা একটি গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করে, ধর্মীয় প্রতীক কি বাণিজ্যিক সম্পদে পরিণত হতে পারে? একদিকে মন্দির কর্তৃপক্ষের যুক্তি, ধর্মীয় প্রতিমার পবিত্রতা বজায় রাখা জরুরি, বাণিজ্যিক অপব্যবহার রোধ করা উচিত, অন্যদিকে সমালোচকদের মত, ধর্মীয় প্রতীক সমাজের সকলের সম্পদ, তা কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক মালিকানায় থাকা উচিত নয় এই দ্বৈত অবস্থানই পুরো বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: Record Vote Percentage: বঙ্গে ভোট শতাংশ ৯০% ছুঁইছুঁই! ভাঙল ২০১১ সালের রেকর্ড
সাংস্কৃতিক প্রভাব
যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। অন্যান্য মন্দিরও একই পথে হাঁটতে পারে, শিল্পী ও কারিগরদের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হতে পারে, ধর্মীয় শিল্পচর্চায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে, অর্থাৎ, এটি শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয় এটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।



