Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মালদহ জেলার ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফার নির্বাচন মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে (Malda Election)। ভোটের দিন জুড়ে বড় ধরনের কোনও অশান্তি বা হিংসার খবর সামনে না আসায় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। গ্রাম থেকে শহর সব ক্ষেত্রেই ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা আরও একবার প্রমাণ করেছে।

নির্দিষ্ট স্ট্রং রুমে ইভিএম সংরক্ষণ (Malda Election)
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় ইভিএম সংরক্ষণের প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে মালদহে দুটি আলাদা স্ট্রং রুমে ইভিএম রাখা হয়েছে। মালদা কলেজে চাঁচোল, মালতিপুর, মালদা, ইংলিশ বাজার ও মোথাবাড়ি, এই পাঁচটি কেন্দ্রের ইভিএম সংরক্ষিত হয়েছে। অন্যদিকে মালদা পলিটেকনিক কলেজে হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া, গাজোল, মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর ও বৈষ্ণবনগর, এই সাতটি কেন্দ্রের ইভিএম রাখা হয়েছে। প্রতিটি ইভিএম যথাযথভাবে সিলমোহর করে রাখা হয়েছে এবং স্ট্রং রুমে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নজরদারিতে কোনও খামতি নয় (Malda Election)
স্ট্রং রুমগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মূল গেট থেকে শুরু করে মিডিল গেট এবং স্ট্রং রুমের প্রবেশদ্বার—প্রতিটি স্তরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ২৪ ঘণ্টা পাহারায় রয়েছেন। এর পাশাপাশি গোটা এলাকা জুড়ে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, যার লাইভ ফুটেজ বড় স্ক্রিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই নজরদারি ব্যবস্থার ফলে যে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি (Malda Election)
নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে দু’জন করে প্রতিনিধি স্ট্রং রুমে উপস্থিত রয়েছেন। তারা সিসিটিভির মাধ্যমে সারাক্ষণ নজরদারি চালাচ্ছেন এবং কোনও অনিয়ম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এই ব্যবস্থা সাধারণত ভোট-পরবর্তী আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক? (Malda Election)
তবে সমস্ত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বিরোধী পক্ষের অভিযোগ সামনে এসেছে। মোথাবাড়ির বিজেপি প্রার্থী নিবারণ ঘোষ দাবি করেছেন যে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তায় কিছু গলদ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি এবং একটি দরজা খোলা থাকার ঘটনাও উদ্বেগজনক। তিনি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনার কথা বলেছেন।
জনমতের প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন (Malda Election)
অন্যদিকে শাসক দলের তরফ থেকেও সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। ইংলিশ বাজারের তৃণমূল প্রার্থী আশীষ কুন্ডু জানান, বাহ্যিকভাবে নিরাপত্তা জোরদার দেখালেও বাস্তবে অনেক বিষয় সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন—মানুষের দেওয়া ভোট সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে তো? এই সন্দেহ রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: Record Vote Percentage: বঙ্গে ভোট শতাংশ ৯০% ছুঁইছুঁই! ভাঙল ২০১১ সালের রেকর্ড
কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর আস্থা
এই পরিস্থিতিতে তুলনামূলকভাবে সংযত অবস্থান নিয়েছে বামফ্রন্ট। সিপিআইএম প্রার্থী অম্বর মিত্র জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে, তাহলে কারচুপির আশঙ্কা কম। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, তাঁদের আস্থা রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর।



