Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সাই সুদর্শনের শতরান ফিকে পড়ে গেল বিরাট ঝড়ের সামনে (Royal Challengers Bengaluru)।
বিরাটের দাপটে জয় আরসিবি-র (Royal Challengers Bengaluru)
এক সময়ের জিম্বাবোয়ে দলের সঙ্গে বিগত কিছু বছরের জিম্বাবোয়ে দলের মিল খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু একটা সময় এই জিম্বাবোয়ে সমানে সমানে টক্কর দিত বাকি দলগুলির সঙ্গে। সেই সময়ে পেস বিভাগের বেশ চর্চিত হয়ে উঠেছিলেন এক তরুণ। জার্ বাউন্সার সামলাতে না পেলে প্যাভিলিয়ন ফিরতে হয় শচীন তেণ্ডুলকরকে। এই পর্যন্ত গল্পটা আর বাকি পাঁচটা ক্রিকেটের গল্পের মত লাগলেও এরপর যা হয় সেটা এই গল্পকে আলাদা করে দেয় (Royal Challengers Bengaluru)।
শচীনের উইকেট নেওয়া মানে সবথেকে সেরা ব্যাটারের উইকেট তুলে নেওয়া। কিন্তু তারপর সেই তরুণ বোলারের উদ্ধত আচরণ গল্পের বাঁক ঘুরিয়ে দেয় অন্য খাতে। বোলারের উদ্ধত আচরণ দেখে শচীনের চোয়াল তখন শক্ত। রাট জেগে অপেক্ষা পরের ম্যাচের জন্য। সেখানে এই আচরণের ‘শিক্ষা’ তিনি দেবেন। এ যেন মহাভারতের যুদ্ধে অর্জুনের পণ। আর সেই পণ ভাঙার ক্ষমতা বোধহয় বিপক্ষেরও নেই।
যে তরুণের কথা বলা হচ্ছে তিনি জিম্বাবোয়ের প্রাক্তন পেসার হেনরি ওলোঙ্গা। শচীনকে আউট করে পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন এই তরুণ পেসার। এরপর আসে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচ। সেখানে শচীন যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হলেন পুরোপুরি অন্য অবতারে। এই শচীন নির্দয়। যার কাছে ভুলের কোনও ক্ষমা নেই। আর জিম্বাবোয়ের সেই পেসার যখন আকাশে উড়ছে তাঁকেই নামিয়ে আনলেন বাস্তবের মাটিতে। তাঁকে মাঠের যত্রতত্র ছুঁড়ে ফেললেন। শচীনের সেই নির্দয় রূপ ক্রিকেটবিশ্ব কমই দেখেছে (Royal Challengers Bengaluru)।

সেই ম্যাচে শচীনের প্রহার আজও হয়ত তাড়া করে বেড়ায় সেই পেসারকে। সেই ইনিংসে ৯২ বলে ১২৪ করে অপরাজিত থাকেন মাস্টার-ব্লাস্টার। সেই ইনিংসে ছিল ১২টি বাউন্ডারি ও ৬টি ওভার-বাউন্ডারি। যে ওলোঙ্গা আগের দিন ছিলেন উদ্ধত সে আজ ঝুঁকে পড়া পরাস্ত সৈনিক। কাঁধ ঝুলে গিয়েছে মুখের হাসি তখন নেই। নিজের ভুল সে বুঝতে পেরেছেন কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। এরপর তিনি পেশা বদলেছেন দেশ ছেড়েছেন কিন্তু সেই ইনিংস আজও তাঁর কাছে দুঃস্বপ্ন। এরপর যতদিন ক্রিকেট খেলেছেন উইকেট নেওয়ার পর সেই উদযাপন আর করেননি। সেই শচীনকে দেখে যিনি অনুপ্রাণিত সেই বিরাট কোহলিও যে অপ্রতিরোধ্য হবেন এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই (Royal Challengers Bengaluru)।

টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট থেকে অবসর নিয়েছেন কিন্তু দেশের হয়ে ওয়ানডে এখনও খেলেন আর তাঁকে দেখা যায় আইপিএল-এ। এখনও যে তিনি জ্বলে উঠতে পারেন এবংহ বিপক্ষকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে পারেন তিনিই কোহলি, তিনিই কিং। গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল হাই স্কোরিং কিন্তু বিরাট রান তাড়া করতে নামলে যে যেকোন রানই কম সেটা গুজরাট অধিনায়ক শুভমন গিল ভাল করেই জানেন। আর বিরাট দাপটে বেঙ্গালুরু ১৮.৫ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয়।

আরও পড়ুন: Sensex and Nifty50: সপ্তাহের শেষ তিন ট্রেডিং সেশনে পতনের কবলে স্টক মার্কেট
ম্যাচ সেরা হয়ে বিরাট বলেন যে আগেই আমরা এই পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছিলাম, মাত্র একটা পার্টনারশিপ দূরে ছিলাম আমরা। তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম আমরা। পাড্ডিকল এই কাজটা আগেও করেছে। আমি চেয়েছিলাম পুরো সময়টা মাঠে থাকতে। আমাদের দলের বোলাররাও দারুন কাজ করেছে। স্পিনাররা বলের গ্রিপ না পেলেও বাকিরা রাশ ধরে নেয়। তবে আমাদের লক্ষ্য ছিল, ম্যাচ জিততে হবে। আর এটা থেকেই সবাই জ্বলে উঠেছে। আমাদের কাছে বিশ্বমানের বোলার আছে, ক্রুনালের মতো প্লেয়ার আছে। তাই আমরা কনফিডেন্ট ছিলাম। ঘরের মাঠে চারটে ম্যাচ জয়ের থেকে ভাল কিছু হয় না (Royal Challengers Bengaluru)।’
ম্যাচে প্রথম ব্যাট করতে নেমে দাপট দেখান সাই সুদর্শন। ৫৮ বলে তাঁর ১০০ রানের ইনিংসের সুবাদে ৩ উইকেটে গুজরাটের স্কোর দাঁড়ায় ২০৫ রান। তবে সুদর্শন বাদে যদি বাকিরা রান পেতেন তবে স্কোর বোর্ডে আরও কিছু রান যোগ হতে পার্ট। তবে এই দিন বিরাট বোলারদের প্রশংসা করলেও ভুবনেশ্বর কুমার, হ্যাজেলউড ও সূয়শ বাদে বাক্কীরা উইকেট তুলতে ব্যর্থ হন।
রান তাড়া করতে নেমে বিরাট এবং বেথেল জুটি ভাঙে ২৪ রানে। ১৪ রানে বেথেল ফেরার পর দলের হাল ধরেন কোহলি এবং পাড্ডিকল। এই জুটি যখন ভাঙে তখন স্কোর বোর্ডে ১৪১ রান। দেবদত্ত ২৭ বলে ৫৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আউট হন। তবে তিনি ফিরলেও এই রানের গতি ধরে রাখেন বিরাট কোহলি। একের পর এক ক্লাসিক শট খেলতে থাকেন তিনি। অন্যতম সেরা বোলার রশিদ খানকেও রেয়াত করেননি কোহলি। তাঁর ৪৪ বলে ৮১ রানের ইনিংসে রয়েছে ৮টি চার এবং ৪টি ছয়।
এরপর বিরাট কোহলি আউট হলে বাকি কাজটা করে দেন ক্রুনাল পান্ডিয়া ও টিম ডেভিড। গুজরাটের হয়ে রশিদ খান নেন দুটি উইকেট। একটি করে নেন মহম্মদ সিরাজ, জেসন হোল্ডার ও মানব সুথার। গুজরাটের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরসিবি (Royal Challengers Bengaluru)।


