Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের আবহে ইরান বর্তমানে এক অভূতপূর্ব ডিজিটাল সংকটের মধ্যে রয়েছে (Iran)। রিপোর্ট অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরানের ভূখণ্ডে ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর দেশটির প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকে টানা প্রায় ৫৭ দিন ধরে ইরান কার্যত বিশ্বের ডিজিটাল নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলি বিশ্বের ইতিহাসে দীর্ঘতম জাতীয় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ (Iran)
নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগেই জানুয়ারি মাস থেকে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জেরে আংশিক ইন্টারনেট বন্ধ ছিল (Iran)। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার পর পুরো দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে প্রায় ৯ কোটিরও বেশি মানুষ কার্যত ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। মোবাইল ডেটা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অনলাইন ব্যাংকিং, শিক্ষা ও ব্যবসা—সবকিছুই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
মানবিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের আশঙ্কা (Iran)
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা নয়, বরং একটি গভীর মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করছে। ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রম বন্ধের পথে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে প্রভাবিত নেটব্লকস-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী ব্ল্যাকআউট অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি ধস নামাতে পারে এবং সামাজিক কাঠামোকেও দুর্বল করে দিতে পারে।

ইরান এখন শীর্ষে (Iran)
এর আগে দীর্ঘতম ইন্টারনেট শাটডাউনের রেকর্ড ছিল সুদানের দখলে, যেখানে গৃহযুদ্ধের সময় প্রায় ৩৬ দিন ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। এছাড়া মায়ানমার ও ইথিওপিয়ার মতো দেশেও বিভিন্ন সময়ে আংশিক বা ধাপে ধাপে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে টানা ৫৭ দিনের জাতীয় ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে ইরান এখন সেই সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে, যা প্রযুক্তি ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: Narendra Modi: ঠাকুরনগরের সভা থেকে মেসিকাণ্ডের জন্য মুখ খুললেন মোদি
কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও যুদ্ধের ছায়া
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা থেকে এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান বের হয়নি। যুদ্ধবিরতির পর দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। এই পরিস্থিতিতে আবারও উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।



