Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের সাক্ষী বাংলার রাজনীতি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সবকটি বুথেই পুনর্নির্বাচনের (Falta Re-poll) নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। গত ২৯ এপ্রিল নির্বাচনের দিন অশান্তি ও কারচুপির অভিযোগ ওঠায় পুরো বিধানসভায় ফের ভোটগ্রহণের কথা জানানো হয়েছে। আগামী ২১ মে ফলতায় নতুন করে ভোট হবে। ফল প্রকাশ করা হবে ২৪ মে। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই এবার রণংদেহি মেজাজে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
কমিশনকে কড়া চ্যালেঞ্জ অভিষেকের (Falta Re-poll)
কমিশনের এই পদক্ষেপের (Falta Re-poll) তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করে তিনি সরাসরি তোপ দাগেন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। অভিষেক লেখেন, “১০ জন্ম চেষ্টা করেও ডায়মন্ড হারবার মডেলে দাঁত ফোটাতে পারবে না এই বাংলা বিরোধী গুজরাটি ও তাদের দালাল জ্ঞানেশ কুমার। যা খুশি সঙ্গে নিয়ে ফলতায় আসুন। এমনকী গোটা ভারত, দিল্লি থেকে গডফাদারদের নিয়ে আসুন। স্নায়ুর জোর থাকলে ফলতায় লড়াই করুন।”
তৃণমূলের দাবি, একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ফল ঘোষণা স্থগিত রেখে পুরো বিধানসভায় ফের ভোট করানোর সিদ্ধান্ত (Falta Re-poll) সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল। এর নেপথ্যে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন জোড়াফুল শিবিরের সেনাপতি।
‘সিংহম’ পুলিশ পর্যবেক্ষককে সাসপেন্ডের দাবি
অভিষেকের সুরেই সুর মিলিয়েছেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। ভিডিও বার্তায় কমিশনের তৎপরতা নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “গোটা ফলতা জুড়ে রিগিং হল আর আপনারা দিনের দিন ধরতে পারলেন না? গন্ডারের গায়ে সুড়সুড়ি দিলে তিনদিন পর হাসে। আপনাদেরও সেই অবস্থা।”
আরও পড়ুন:Election 2026: ৪ মে ভোটগণনার আগে স্ট্রংরুমে নজরদারি বন্ধ
একইসঙ্গে ভোটের দিন দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল। তাঁর দাবি, এই ‘সিংহম’ পুলিশকর্তাকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা উচিত। বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেন রিগিং আটকানো গেল না, সেই প্রশ্ন তুলে কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, “যখন এই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ততক্ষণে ২৩০-এর বেশি আসন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গঠন করে ফেলেছেন। ফলতাতেও আবার তৃণমূলই জিতবে।”
সব মিলিয়ে, ফলতার পুনর্নির্বাচনকে (Falta Re-poll) কেন্দ্র করে ভোটের ময়দান এখন তপ্ত। একদিকে কমিশনের কড়া পদক্ষেপ, অন্যদিকে শাসকদলের ‘স্নায়ুর লড়াই’ দুইয়ের টানাপোড়েনে এখন নজর ২১ মে-র দিকে।


