Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সূত্রের খবর অনুযায়ী সূর্যকুমার যাদবের উপর আস্থা হারিয়েছেন ভারতীয় কৃকেট বোর্ডের নির্বাচকরা (Sanju Samson)।
নেতৃত্বের দৌড়ে সঞ্জু, বদল সমীকরণ (Sanju Samson)
‘আজও আশা আছে বলে হেরে গেছে, যত হেরে যাবার ভয়।’ বাংলা গানের কাছে বারবার ফিরে গেলে হতাশ হতে হয় না। আবারও ধার করে নিলাম রূপম ইসলামের গানে কথা। যে কথার সরলীকরণ মতেও সহজ না তবে কিছুটা করার চেষ্টা করাই যায়। বারবার ধাক্কা খেলে মুখোমুখি হতে হয় হতাশার কিন্তু তার মধ্যেও যদি নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকে আর আশা থাকে ফিরে আসার, যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আগে ত্যাগ করা যায় হেরে যাওয়ার ভয় তবে জয় একদিন ঠিক আসবেই (Sanju Samson)।
যুদ্ধের আগেই যদি হেরে যাওয়ার ভূত মাথায় চেপে বসে তবে সেই যুদ্ধে যুদ্ধের আগেই হার নিশ্চিত। বিস্বাসে বিশ্বাস রেখে ফিরে আসার নামই জীবন। এই লম্বা ভূমিকা ভারতীয় ক্রিকেটের দুই তারকার জীবনরেখায় আলোকপাত করার জন্য। একজন যেমন শ্রেয়স আইয়ার তেমন আরেকজন সঞ্জু স্যামসন।

এই দুই তারকা বিশ্বাসকে অবিশ্বাসে পরিণত হতে দেননি। একদিকে শ্রেয়স আইয়ার ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আইপিএল-এর খেতাব এনে দিয়েছিলেন। আবার ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের আইপিএল-এ একদিকে যেমন দলকে দিচ্ছেন নেতৃত্ব তেমন ব্যাট হাতে পারফর্মও করছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও দুরন্ত কামব্যাক করেছেন। বারবার ধাক্কা খেয়েছেন নকিন্তু নিজেকে ভাঙতে দেননি। বরং যতবার তিনি ফিরেছেন ততবার নিজেকে আরও দক্ষ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
আবার অন্যদিকে যদি দেখা যায় সঞ্জু স্যামসনও অনেকদিন ব্রাত্য থেকেছেন। স্কোয়াডে থেকেছেন কিন্তু প্রথম একাদশে জায়গা পাননি। শুভমন গিল না খেললেও তখন সেই জায়গায় স্টপ-গপ্ হিসেবে খেলেছেন সঞ্জু। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বলা যায় শেষ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি একা ব্যাট হাতে দলকে জয় এনে দিয়েছেন। সুতরাং দুজনেই যে বরাবর লড়াই করে দলের জয়ের সরণি তৈরি করতে পারেন সেটাই প্রমাণ করেছেন।

এই মহুর্তে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। দীর্ঘদিন ব্যাটে তাঁর খরা। রোহিত শর্মা অবসর নেওয়ার পর দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় সূর্যর হাতে। তাঁর নেতৃত্ব ভারত এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মত টুর্নামেন্ট জিতলেও তিনি ব্যাট হাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এমনকি ম্যাচে অনেক সময় তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বেশ কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে রান না পাওয়ায় নির্বাচকদের মোহ ভঙ্গ হতে বেশি সময় নেয়নি। এবার শোনা যাচ্ছে নির্বাচকরা তাঁর পরিবর্ত মুখ খুঁজছেন।
জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে প্রথমে শোনা যাচ্ছিল শ্রেয়স আইয়ারের নাম। তবে ফের সমীকরণ বদলে এখন শোনা যাচ্ছে সঞ্জু স্যামসনের নামও। সূর্যকুমার চলতি আইপিএল-এও এখন ছন্দে নেই কিন্তু অন্যদিকে এই দুই তারকাই রয়েছেন দুরন্ত ছন্দে। একা হাতে ম্যাচও জেতাচ্ছেন দুই জন (Sanju Samson)।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সূত্রের খবর অনুযায়ী সূর্যর ব্যাটিং ফর্ম নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত দলের প্রধান নির্বাচক। নেতৃত্ব নিয়ে নির্বাচকদের মধ্যে অসন্তোষ না থাকলেও তাঁর ব্যাটিং নিয়েও চিন্তায় বোর্ড।
সঞ্জু ছিলেন ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার। দলের হয়ে ব্যাট হাতে সেরা পারফরম্যান্সও করেছেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই এসেছে সেরার খেতাব। ফাইনাল সহ তিন ম্যাচে করেছেন ৮০ প্লাস রান। ২৭৫ রান তাঁর সংগ্রহে বিশ্বকাপে। শুরুর দিকে জায়গা না পেলেও যখন পেলেন তখন নিজের হাতেই রচনা করলেন ইতিহাস। যে রূপকথার গল্প মনে থেকে যাবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলতে ভারত। সেখানেই অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হতে পারে চেন্নাইয়ের এই তারকা ওপেনারের (Sanju Samson)।
আরও পড়ুন: WB BJP Cabinet 2026: বাংলায় বিজেপির প্রথম মন্ত্রীসভা, শপথ নিলেন কারা?
শ্রেয়স আইয়ারও সেই দৌড়ে রয়েছেন তবে সেক্ষত্রে একটা বাধা কাজ করছে। তিনি জাতীয় দলের হয়ে শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। সেই কারণে নির্বাচকরা চাইছেন আগে তিনি দলে ফিরে পারফর্ম করে নিজের জায়গা পাকা পোক্ত করুক তারপর বাকিটা ভাবা যাবে। যদিও আইপিএল-এ তাঁর নেতৃত্বে ভাল পারফর্ম করছে পাঞ্জাব। একদিকে ১০টি ম্যাচ খেলে শ্রেয়স করেছেন ৩৩৩ রান আর অন্যদিকে ১০টি ম্যাচে সঞ্জু করেছেন ৪০২ রান। তার মধ্যে রয়েছে সেঞ্চুরিও। তবে এখন দেখার শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কী সিদ্ধান্ত নেয় (Sanju Samson)।


