Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল, গোপাল শীল: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের (BJP News) পর থেকেই একের পর এক এলাকায় উত্তেজনার ছবি সামনে আসছে। তারই মধ্যে সোমবার সকালে ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে তৈরি হলো নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে ডায়মন্ড হারবার পৌরসভা সহ চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতে তালা ঝুলিয়ে দেয় একদল দুষ্কৃতী। এরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা চালু করার দাবি করেন ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী দীপক কুমার হালদার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর (BJP News)
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডায়মন্ড হারবার (BJP News) পৌরসভার পাশাপাশি ধনবেড়িয়া কানপুর গ্রাম পঞ্চায়েত, পারুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত, সরিষা গ্রাম পঞ্চায়েত এবং বোলসিদ্ধি কালিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের মূল গেটে তালা ঝুলতে দেখা যায় সোমবার সকালে। প্রতিদিনের মতো বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার কাজে আসা সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েত ও পৌরসভার দরজায় তালা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, আবাস যোজনা, বার্ধক্য ভাতা, পানীয় জল ও অন্যান্য প্রশাসনিক পরিষেবার জন্য বহু মানুষ সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সমস্ত দপ্তর বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ।
তালা ভাঙার উদ্যোগ (BJP News)
ঘটনার খবর পেয়ে সকালেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের (BJP News) নিয়ে এলাকায় পৌঁছে যান বিজেপি নেতা তথা ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দীপক কুমার হালদার। প্রথমে ডায়মন্ড হারবার পৌরসভা এবং পরে একে একে চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় গিয়ে তালা ভাঙার উদ্যোগ নেন তিনি ও তাঁর অনুগামীরা। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সেই কারণেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা (BJP News)
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক (BJP News) উত্তেজনা দেখা যায়। “জনগণের অফিসে তালা চলবে না”, “দুর্নীতিবাজদের জবাব দেবে মানুষ”, “জয় শ্রীরাম” ইত্যাদি স্লোগানে সরব হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। তালা খোলার পর বহু সাধারণ মানুষকে ভিতরে প্রবেশ করে কাজ করতে দেখা যায়। যদিও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
বিজেপিকে বদনাম করার চেষ্টা
এ বিষয়ে বিজেপি প্রার্থী দীপক কুমার হালদার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “গণনার দিন দুপুর থেকেই তৃণমূলের কিছু দুষ্কৃতী নিজেদের রং বদলাতে শুরু করে। মুখে গেরুয়া আবির মেখে, জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে তারা বিজেপির নাম ভাঙিয়ে একের পর এক পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় তালা মেরে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করা এবং বিজেপিকে বদনাম করা। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, বিজেপি কখনও সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ করার রাজনীতি করে না।” তিনি আরও বলেন, “আজ সকালে আমরা এলাকাবাসীর অনুরোধে এখানে এসেছি। মানুষের সমস্যা দেখে আমরা চুপ করে থাকতে পারিনি। তাই সমস্ত পঞ্চায়েত ও পৌরসভার তালা খুলে পরিষেবা স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা করেছি। সাধারণ মানুষের সুবিধাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যারা এই ধরনের নোংরা কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ
বিজেপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। তবে তারা কোনওরকম হিংসার পথে না গিয়ে প্রশাসনিক পরিষেবা সচল রাখার পক্ষেই রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, পরিবর্তনের পরে বহু জায়গায় কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ানো যায়।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পাল্টা অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে। যদিও এ বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে। ফলে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসনও।
সোমবার সকাল থেকে ডায়মন্ড হারবার পৌরসভা ও চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে পরিষেবা পান, সেই বিষয়েও প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: Diljit Dosanjh: বিনোদন ছেড়ে রাজনীতির মাঠে! পাঞ্জাব নির্বাচনের প্রার্থী দিলজিৎ?
রাজ্যে পরিবর্তনের পর থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। দলবদল, কার্যালয় দখল, পতাকা পরিবর্তন থেকে শুরু করে একাধিক ঘটনায় বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তারই মধ্যে ডায়মন্ড হারবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। তবে সবকিছুর মধ্যেই সাধারণ মানুষের একটাই দাবি-রাজনৈতিক সংঘাত নয়, স্বাভাবিক পরিষেবা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক।


