Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করার পরেই নজিরবিহীন তৎপরতা দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক পরেই তিনি পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারেন। সেই বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বা ‘হাত খুলে’ কাজ করতে হবে।
বেআইনি অস্ত্র উদ্ধারে রাজ্যজুড়ে মহাপরিকল্পনা (Suvendu Adhikari)
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। সূত্রের খবর, আগামী শনিবার থেকেই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বেআইনি অস্ত্র ও বোমা উদ্ধারে এক ব্যাপক অভিযানে নামছে পুলিশ বাহিনী। প্রতিটি থানায় ইতিমধ্যেই পুলিশের শীর্ষস্তর থেকে এই সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তকে অস্ত্র ও বারুদমুক্ত করা।
কড়া নজরদারি ও নিয়মিত রিপোর্টিং (Suvendu Adhikari)
প্রশাসন এবারের অভিযানে কোনো ফাঁক রাখতে নারাজ। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রতিদিন কোথায় কত অভিযান চালানো হলো এবং *কী পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হলো, তার প্রতিদিনের রিপোর্ট জমা দিতে হবে, অভিযান শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পর সামগ্রিক অগ্রগতির একটি বিশেষ রিপোর্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পেশ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ তদারকি করা হবে।

থানার মালখানা ও নথিপত্র পরীক্ষা (Suvendu Adhikari)
অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি থানার অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো নিয়েও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। থানার নিজস্ব মালখানায় কত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত আছে, তার প্রকৃত হিসেব প্রশাসন জানতে চায়। পুলিশের রেজিস্টারের সাথে মালখানার অস্ত্রের মিল আছে কি না, *তা খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ১৫ মে-র মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২১-এর নির্বাচন পরবর্তী হিংসার পুনঃতদন্ত (Suvendu Adhikari)
এবারের নির্দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলোর পুনঃমূল্যায়ন। সেই সময়ে হওয়া মামলাগুলোতে পুলিশের দেওয়া আগের রিপোর্টগুলো খতিয়ে দেখা হবে। যদি প্রয়োজন মনে হয়, তবে সেই মামলাগুলোর পুনরায় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়েও একটি আলাদা ও সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট তলব করেছে শীর্ষস্তর।
আরও পড়ুন: Garga Chatterjee Arrest: গ্রেপ্তার গর্গ চাটার্জী, নেপথ্যে কোন কারণ?

সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়া
রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হিংসা রুখতে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেমন নতুন করে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চলবে, অন্যদিকে অতীতের অমীমাংসিত বা বিতর্কিত মামলাগুলোর জট খোলার চেষ্টাও করা হবে। মূলত একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলাই এই মুহূর্তে বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।



