Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চলতি আইপিএল শেষ হলেই তিন বড় তারকা হারাতে পারেন অধিনায়কত্ব (IPL 2026)।
কোপ পড়তে পারে তিনজনের উপর (IPL 2026)
চলতি আইপিএল-এ গ্রুপ পর্বের খেলা প্রায় শেষ লগ্নে। প্লে-অফের দৌড়ে ইতিমধ্যেই এগিয়ে রয়েছে বহু দল তবে এখনও কেউ জায়গা করতে পারেনি। ছিটকে গিয়েছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এবং লখনৌ সুপার জায়ান্টস। শেষ চারে যাওয়ার আশা কার্যত শেষ দিল্লি ক্যাপিটালস এবং কলকাতা নাইট রাইডার্সের। এবার সামনে এসেছে এমন এক রিপোর্ট যেখানে জানা যাচ্ছে এই খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে কোপ পড়তে চলেছে তিন অধিনায়কের উপর। সেই রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে আইপিএল শেষ হলেই চাকরি হারাতে পারেন তিন অধিনায়ক (IPL 2026)।
চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ মোটামুটি সবার জানা। সেখানেই যে কথাটি বলা হয়েছে তার সঙ্গে মিল রয়েছে প্রকৃতির বিবর্তনের। জীবনের সব ক্ষেত্রে এই তত্ত্ব প্রযোজ্য। যেমন ক্রিকেটে দিন যত আধুনিক হচ্ছে ততই খেলার ফরম্যাট এবং ধরণ পাল্টে যাচ্ছে। সেই ফরম্যাটের সঙ্গে যে যত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারছেন সেই টিকে থাকবেন। উদাহরণ হিসেবে বিরাট কোহলির নাম আসে সবার আগে। যেকোন ফরম্যাটেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং দক্ষতার সঙ্গে মাঠ শাসন করছেন। এখান থেকেই চার্লস ডারউইনের বিখ্যাত থিওরি মনে পড়বে, ‘Survival of the Fittest’.
অক্ষর প্যাটেল
সেই তালিকায় অন্যতম বড় নাম অক্ষর প্যাটেল। একদমই খারাপ ফর্মে রয়েছেন দিল্লি অধিনায়ক এবং জাতীয় দলের তারকা অলরাউন্ডার। দিল্লির হয়ে ৯ ইনিংসে তিনি করেছেন মাত্র ১০০ রান। বল হাতেও সাফল্য পাননি তিনি। ১২ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ১০ উইকেট। ইকোনোমি রেট ৮-র বেশি। এমনকি মাঠে তাঁর নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই কারণেই অনেকে মনে করছেন তাঁকে অধিনায়কের পদ থেকে সরানো হতে পারে তবে তাঁকে প্লেয়ার হিসেবে দলে রাখতে পারে দিল্লি।

দলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ অক্ষর। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়েই হেমাং বাদানি ও বেণুগোপাল রাওয়ের উপরে নির্ভর করেছেন। তাই আগামী মরশুমে নেতৃত্বে থাকার সম্ভাবনা কম। কোচিং স্টাফেও বড় বদল আসতে পারে (IPL 2026)।’
অজিঙ্ক রাহানে
২০২৪ সালের আইপিএল-এর খেতাব এসেছিল শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে। পরের মরশুমে তাঁকে সরিয়ে দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়ে আসা হয় অজিঙ্ক রাহানেকে। যদিও এর পিছনে কী যুক্তি রয়েছে সেটা কারোর বোধগম্য হয়নি। দলও সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারেনি। তবে রাহানের নেতৃত্বে শুধুই ব্যর্থতার মুখ দেখেছে কলকাতা। তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ১৩৩ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২৩৭ রান। এমনকি রঘুবংশীর জুটিও কাজে আসেনি একেবারেই।

এই দুই জন মাইল মেরেছেন মোট ২৫টি ছয়। হিসেব করে দেখতে গেলে ম্যাচ প্রতি দুটি করে ছক্কা। যার ফলে দলকে ভুগতে হচ্ছে। যে স্কোর দুশো পার করার কথা সেই স্কোর আটকে যাচ্ছে তার আগেই। না পাওয়ার প্লে-তে তেমন রান আসছে না মাঝের ওভারে (IPL 2026)।
ব্যাটিংয়ের হাল এবং তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। মরশুমের শুরুতে তিনি নিন্দুকদের জবাব দিলেও ব্যাট হাতে জবাব দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এর পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়েও। রাচীন রবীন্দ্রর মত প্লেয়ার বসেই আছেন এখনও তাঁকে কাজে লাগাতে পারেনি নাইট বাহিনী। যদিও সেক্ষত্রে দলের কোচ এবং ম্যানেজমেন্টদের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সেখান থেকেই মনে করা হচ্ছে নেতৃত্ব হারাতে পারেন রাহানে (IPL 2026)।
আরও পড়ুন: Delhi Anouncement: জ্বালানি সাশ্রয়ে দিল্লি সরকারের বড় সিদ্ধান্ত, সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’
ঋষভ পন্থ
ঋষভ পন্থ যখন ভারতীয় ক্রিকেটে এলেন তাঁকে অন্যতম সেরা উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। একদিকে যেমন ঝোড়ো ব্যাটিং তেমন উইকেটকিপিং-এও চটপটে। তাঁর কেরিয়ার গ্রাফ তখন উর্দ্ধগতিতে ছুটছে। হটাৎ করেই ছন্দপতন, দুর্ঘটনার কবলে পড়লেন আবার ফিরে এলেন। এরপর LSG তাঁকে বড় অঙ্কে দলে নেয় এবং অধিনায়ক ঘোষণা করে। তবে তিনি অধিনায়ক হিসেবে পুরোপুরি ব্যর্থ (IPL 2026)।

ব্যাটিং পরিসংখ্যানও হতাশাজনক। তবে তাঁর পরিসংখ্যানের থেকে বেশি যেটা নিয়ে আলোচনা হয় সেটা হল তাঁর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। ২৫১ রান করেছেন ১১ ম্যাচে, স্ট্রাইক রেট ১৩৮। মেরেছেন ৯টি ছয়। তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কোনও ঝলক দেখা যায়নি। তবে বারবার এক্সপেরিমেন্টাল শট খেলতে গিয়ে এবং অযথা তাড়াহুড়া করতে গিয়ে তিনি উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে এসেছেন বারবার।
এছাড়াও তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ওপেনার হিসেবে আরশিন কুলকার্নিকে খেলানো নিয়েও বাড়ছে বিতর্ক। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে ওপেনার হিসেবে যাঁর স্ট্রাইক রেট ১৩৪, তাঁকে কীভাবে আইপিএল-এ ওপেন করতে পাঠানো হয় সেই নিয়ে একাধিক প্রশ্নের মুখে পন্থ। আয়ুষ বাদোনিকে খেলানো নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। হিম্মত সিং সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন। সব মিলিয়ে কোপ পড়তে পারে পন্থের উপর (IPL 2026)।


