Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল প্রতীক্ষিত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করল রাজ্য সরকার (Government Job) । দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জট, দুর্নীতির অভিযোগ এবং আদালতে মামলার কারণে বহু পরীক্ষার্থী বয়সসীমা অতিক্রম করে চাকরির সুযোগ হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন। সেই পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই সরকারি চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা পাঁচ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই এই বিষয়ে ঘোষণা করেছিলেন। এবার সেই ঘোষণাকে প্রশাসনিক রূপ দিয়ে রাজ্যের অর্থ দফতর আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করেছে। ফলে বহু চাকরিপ্রার্থীর সামনে নতুন করে সরকারি চাকরিতে আবেদনের দরজা খুলে গেল।

কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত? (Government Job)
গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গে সরকারি নিয়োগকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়। বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ, আদালতের হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে যায়। এর ফলে অসংখ্য শিক্ষিত যুবক-যুবতী বছরের পর বছর ধরে চাকরির প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাননি। অনেকেই বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে সরকারি চাকরির আবেদন করার অধিকার হারানোর মুখে পড়েছিলেন। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালের পর রাজ্যে কার্যত বড় ধরনের নিয়োগ হয়নি। তাই চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষতির কথা মাথায় রেখেই বয়সে বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এটি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি ন্যায়বিচারের একটি উদ্যোগ।
কোন পদে কত বাড়ল বয়সসীমা? (Government Job)
অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রুপের সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রুপ ‘এ’ পদ, গ্রুপ ‘এ’ পদে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা করা হয়েছে ৪১ বছর। তবে যেসব পদে আগে থেকেই ৪১ বছরের বেশি বয়সসীমা কার্যকর ছিল, সেগুলি অপরিবর্তিত থাকবে। গ্রুপ ‘বি’ পদ, গ্রুপ ‘বি’ বিভাগের চাকরির জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪ বছর। গ্রুপ ‘সি’ ও ‘ডি’ পদ, গ্রুপ ‘সি’ এবং গ্রুপ ‘ডি’ পদে চাকরির আবেদন করার সর্বোচ্চ বয়সসীমা করা হয়েছে ৪৫ বছর।

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বাইরে নিয়োগ
পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বাইরে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সরকারি কোম্পানি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়োগের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৪৫ বছর।
কবে থেকে কার্যকর এই নতুন নিয়ম? (Government Job)
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের ১১ মে থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ ওই তারিখের পর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলিতে নতুন বয়সসীমা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশাসনিক নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে? (Government Job)
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ বিভাগের অডিট শাখা থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ভারতীয় সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে ‘পশ্চিমবঙ্গ পরিষেবা (বয়সসীমা বৃদ্ধি) বিধিমালা, ১৯৮১’-এ সংশোধন আনা হয়েছে। এই সংশোধনের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যেসব পদে আগে থেকেই উচ্চতর বয়সসীমা ছিল, সেগুলি আগের মতোই বহাল থাকবে।

নিয়োগ দুর্নীতি ও আন্দোলনের প্রভাব (Government Job)
গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে একাধিক আন্দোলন হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন, অনশন করেছেন, আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ, গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে বিষয়টি রাজ্যের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে। বহু পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেছিলেন যে, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণে তাঁদের কর্মজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বয়সসীমা বৃদ্ধি অনেকের কাছে আংশিক স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়ন (Government Job)
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বয়সে পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বও বারবার এই ইস্যুতে সরব হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah নির্বাচনী সভা থেকে চাকরিপ্রার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে হাঁটা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Howrah Station: হাওড়া স্টেশন চত্বরে উচ্ছেদ অভিযান, রাতভর চলল বুলডোজার
চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া
সরকারের এই ঘোষণার পর চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। আন্দোলনকারী পরীক্ষার্থীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর এই সিদ্ধান্ত নতুন করে লড়াই করার সুযোগ এনে দিল। অনেকের বক্তব্য, নিয়োগে বিলম্বের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা সম্পূর্ণ পূরণ সম্ভব নয়, কিন্তু বয়সসীমা বৃদ্ধির ফলে অন্তত আবার পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাওয়া যাবে। বিশেষ করে যাঁরা কয়েক বছর ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও সুযোগ পাননি, তাঁদের কাছে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।



