Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কাঁকুলিয়া কাণ্ড এবং তার পরবর্তী তদন্তে এবার আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Sona Pappu Case)।
এক বিশাল চক্রের ইঙ্গিত (Sona Pappu Case)
ইডির বিশেষ আদালতে ধৃত ‘সোনা পাপ্পু’ মামলার শুনানিতে সরকারি আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী একাধারে যেমন কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্য তুলে ধরেন, তেমনই এক বিশাল ‘নেক্সাস’ বা চক্রের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
কোনও একক ব্যক্তির অপরাধ নয়
আদালতের বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী স্পষ্ট জানান, ‘এটি কোনও একক ব্যক্তির অপরাধ নয়। এর পিছনে রয়েছে একটি গভীর এবং ত্রিমুখী ষড়যন্ত্র।’
নির্দিষ্ট সন্ত্রাসের রাজত্ব (Sona Pappu Case)
ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদীর বক্তব্য: “এখানে একটি নির্দিষ্ট সন্ত্রাসের রাজত্ব চালানো হচ্ছিল। এর পেছনে একটি ত্রিমুখী নেক্সাস বা চক্র কাজ করছে যেখানে পুলিশ, প্রশাসনের একাংশ এবং ব্যবসায় যুক্ত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িয়ে রয়েছেন। এই তিন পক্ষের সাহায্য ছাড়া এত বড় অপরাধমূলক সাম্রাজ্য চালানো কোনো একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা পুরো বিষয়টির তদন্ত করছি।”
আদালতের ভেতরে ইডির বিস্ফোরক দাবি (Sona Pappu Case)
শুনানি চলাকালীন আদালতের ভেতরে ইডির পক্ষ থেকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর নথিপত্র এবং অভিযোগ পেশ করা হয়।
পয়েন্ট ১: অবৈধ অস্ত্র ও কাঁকুলিয়া কাণ্ড: ইডি জানায়, এই মামলায় ইতিমধ্যেই জয় কামদার এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সমাজবিরোধী বিশ্বজিৎ পোদ্দার এদের হয়ে কাজ করত। ধৃতের কাছ থেকে একটি সম্পূর্ণ লাইসেন্সহীন পিস্তল উদ্ধার হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, এই পিস্তলটি কেনার মাত্র ১৫ দিনের মাথাতেই কাঁকুলিয়ার সেই কুখ্যাত ঘটনাটি ঘটানো হয়েছিল।
পয়েন্ট ২: ভয় দেখিয়ে জমি দখল: ইডির দাবি, মস্তান ও গুন্ডাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে এবং হুমকি দিয়ে কম দামে সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া হতো। কসবা এলাকায় প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের একটি জমি এভাবেই মাত্র ১ কোটি টাকায় জোরপূর্বক লিখিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া অন্য একটি ৫ কোটি টাকার সম্পত্তিও মাত্র ১ কোটি টাকায় হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
পয়েন্ট ৩ : কোটি কোটি টাকার ক্যাশ ডিপোজিট: ধৃতের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে ইডি জানতে পেরেছে, একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রায় ২.১৪ কোটি টাকা সরাসরি ক্যাশে জমা /Deposit করা হয়েছিল। গত আড়াই বছরে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ কোটি টাকার ভারী লেনদেন হয়েছে, যার বড় অংশই সন্দেহজনক। কিছু টাকা ধৃতের স্ত্রীর নামেও রাখা হয়েছিল, যদিও জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর স্ত্রী এই বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: RG Kar Case: আরজি কর মামলার ফাইল খুলতেই রক্ষাকবচের আবেদন: হাইকোর্টে নির্যাতিতার প্রতিবেশী
পাল্টা সওয়াল আসামী পক্ষের (Sona Pappu Case)
পাল্টা সওয়ালে সোনা পাপ্পুর পক্ষের আইনজীবী আদালতের কাছে দাবি করেন যে তাঁর মক্কেল এই অপরাধগুলোর সাথে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তিনি বেশ কিছু ‘প্রেডিকেটেড অফেন্স’ বা পূর্ববর্তী মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন: “২০২১ সালের রামপুরহাটের ঘটনা, হেস্টিংস থানার অস্ত্র মামলা, গড়িয়াহাট থানা এবং রবীন্দ্র সরোবর থানার কোনো ঘটনাতেই তাঁর মক্কেল শারীরিকভাবে উপস্থিত (Physically Present) ছিলেন না।”



