Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল মহকুমায় ফের সামনে এল বন্যাত্রাণ নিয়ে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ (Ghatal)। সরকারি ত্রিপল, রান্নার সামগ্রী ও ত্রাণের কাপড় পাচারের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠল মনসুকা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। প্রকাশ্য দিবালোকে ভ্যানগাড়িতে করে সরকারি সামগ্রী সরানোর সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়লেন এক পঞ্চায়েত সদস্য। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট। তাঁকে ঘিরেও ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ।

দিনের আলোতেই ‘ত্রাণ পাচার’! (Ghatal)
মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ মনসুকা এলাকার বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, কয়েকটি ভ্যানগাড়িতে ত্রিপল চাপা দিয়ে কিছু মালপত্র অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় মানুষ গাড়িগুলি আটক করেন। এরপর ত্রিপল সরাতেই চোখ কপালে ওঠে সকলের। গাড়ির ভিতরে স্তূপ করে রাখা ছিল সরকারি বন্যাত্রাণের ত্রিপল, রান্নার জিনিসপত্র এবং কাপড়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বন্যাকবলিত এলাকায় এইসব সামগ্রী পৌঁছানোর কথা থাকলেও বাস্তবে তা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে ঘটনাস্থলেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। খবর দেওয়া হয় প্রশাসন ও পুলিশের কাছে।
ঘটনাস্থলে বিধায়ক, ক্ষোভে ফেটে পড়ল জনতা (Ghatal)
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান ঘাটালের বিধায়ক শীতল কপাট। কিন্তু তাঁকে দেখেই এলাকার বহু মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বন্যার সময় মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত পান না তাঁরা। অথচ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী গোপনে মজুত করে পাচার করা হচ্ছিল। এলাকাবাসীর বক্তব্য, “মনসুকা, মেঠেলা সহ বিস্তীর্ণ এলাকা মাসের পর মাস জলের নিচে থাকে। ত্রিপল চাইতে গিয়ে বারবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে সেই জিনিসই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।”
“আমি ফেরত দিতেই নিয়ে যাচ্ছিলাম” (Ghatal)
অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য রাম পালের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর বক্তব্য, বহুবার উপপ্রধানকে ত্রাণ বিলি করার অনুরোধ করলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই তিনি নিজের ব্যক্তিগত গোডাউনে রাখা জিনিসপত্র পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ফেরত দিতে যাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলে বিধায়কের সামনে হাতজোড় করে তিনি বলেন, “আমি পাচার করছিলাম না। পঞ্চায়েতে ফেরত দিতে যাচ্ছিলাম। গ্রামবাসীরা ভুল বুঝে গাড়ি আটক করেছে।” তবে তাঁর এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রশ্ন, যদি ফেরত দেওয়ার উদ্দেশ্যই থাকত, তাহলে এতদিন ধরে সরকারি সামগ্রী ব্যক্তিগত গোডাউনে রাখা ছিল কেন?

উপপ্রধান পলাতক, বাড়ছে রহস্য (Ghatal)
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত উপপ্রধান সহ আরও কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্য এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ। ফলে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনায় বড়সড় ত্রাণ দুর্নীতির চক্র জড়িত থাকতে পারে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শুধু ত্রিপল নয় চাল, শুকনো খাবার, কাপড় সহ একাধিক সরকারি অনুদানের সামগ্রী নিয়মিতভাবে সরিয়ে ফেলা হত। এতদিন রাজনৈতিক চাপে মুখ খুলতে পারেননি সাধারণ মানুষ।
তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ‘ত্রাণ মজুত’(Ghatal)
এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসে। বিজেপির দাবি, মনসুকা এলাকায় একাধিক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী মজুত রয়েছে। খবর পেয়ে বিধায়ক শীতল কপাট এলাকা পরিদর্শনে গেলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা বিজেপি কর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে পৌঁছে যায়। দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে পুলিশ(Ghatal)
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ব্যাপক হিমশিম খেতে হয়। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন খোদ বিধায়কও। পরে এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ টিম। যদিও অভিযোগ উঠেছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় অভিযুক্তদের বাড়ি থেকে সম্ভাব্য মজুত সরকারি সামগ্রী উদ্ধার না করেই এলাকা ছাড়তে হয় বিধায়ককে।

আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: “রামমোহন কলেজে রাম নেই”, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
বন্যাকবলিত মানুষের ক্ষোভ কেন এত গভীর?
ঘাটাল মহকুমা বরাবরই বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর বর্ষার সময় বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বহু পরিবার গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটায়। সেই সময় সরকারি ত্রাণই ভরসা হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের কাছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে সেই ত্রাণ প্রাপকদের হাতে পৌঁছায় না। বরং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা লুকিয়ে রাখা, বণ্টনে অনিয়ম কিংবা পাচারের মতো অভিযোগ বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। এবার সেই অভিযোগ যেন প্রকাশ্যে উঠে এল।



