Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক (Sayan Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই প্রসঙ্গে সিপিআইএম নেতা সায়ন ব্যানার্জির প্রতিক্রিয়া রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে “ডায়মন্ড হারবার মডেল”, বিরোধী শূন্য রাজনীতি, প্রশাসনিক প্রভাব এবং ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে একের পর এক তীব্র অভিযোগ।

“ক্ষমতা হারাতেই তৃণমূলের আসল চেহারা সামনে এসেছে”
সায়ন ব্যানার্জির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন, পুলিশ এবং অর্থবলের সাহায্যে বিরোধীদের দমন করে রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রেখেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকার সময় যে দল বিরোধীদের কার্যত নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকেই দূরে সরিয়ে রাখত, সেই দলই এখন মানুষের সমর্থন হারিয়ে উপনির্বাচন থেকে পিছিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যারা এতদিন বিরোধী শূন্য নির্বাচন করে জয়লাভ করেছে, ক্ষমতা চলে যেতেই তারাই লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেল।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, রাজনৈতিক শক্তির আসল পরীক্ষা হয় জনসমর্থনের ভিত্তিতে, প্রশাসনিক প্রভাবের উপর নয়।
“ডায়মন্ড হারবার মডেল” (Sayan Banerjee)
সায়ন ব্যানার্জির বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল তথাকথিত “ডায়মন্ড হারবার মডেল” নিয়ে তাঁর সমালোচনা। তিনি অভিযোগ করেন, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদের প্রার্থী দিতেই বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ৯৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত বিরোধী শূন্য ছিল, ৪টি পৌরসভাতেও বিরোধীরা কার্যত প্রার্থী দিতে পারেনি, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বহু আসনে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল, তিনি বলেন, “যে মডেলকে এতদিন উন্নয়নের মডেল বলে প্রচার করা হতো, সেটি আসলে ছিল ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক দখলদারির মডেল।”

ফলতা উপনির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? (Sayan Banerjee)
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপনির্বাচন শুধুমাত্র একটি বিধানসভা আসনের নির্বাচন নয়। এটি ক্ষমতার পরিবর্তনের পর প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষাও বটে। ফলতা বিধানসভা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হওয়ায় এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল এই এলাকা। ফলে এখান থেকে তৃণমূলের সরে দাঁড়ানো বিরোধীদের কাছে বড় রাজনৈতিক বার্তা। সায়ন ব্যানার্জির বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, “মানুষের সমর্থন না থাকলে শুধুমাত্র প্রশাসনিক শক্তি দিয়ে রাজনীতি টেকে না।”
“এখন সরাসরি লড়াই বিজেপি বনাম বামপন্থীদের”
তৃণমূলের সরে দাঁড়ানোর পর রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সায়ন ব্যানার্জি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এখন ফলতায় মূল লড়াই হবে বিজেপি এবং বামপন্থীদের মধ্যে। তিনি দাবি করেন, “আমরাই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রকৃত রাজনৈতিক লড়াই করছি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে বাম শিবির নিজেদেরকে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গণতন্ত্র বনাম “ভয় দেখানোর রাজনীতি” (Sayan Banerjee)
সায়নের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে “গণতন্ত্র” শব্দটি। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনকে একতরফা করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। বিরোধীদের প্রচার করতে না দেওয়া, মনোনয়নে বাধা, রাজনৈতিক সন্ত্রাস এই সব অভিযোগ তিনি পুনরায় সামনে এনেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যারা গণতন্ত্রের উৎসবকে ধ্বংস করেছিল, তারাই আজ গণতন্ত্রের মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।” এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/04/27/jahangir-2026-04-27-19-50-35.jpg)
তৃণমূলের নীরবতা বাড়াচ্ছে জল্পনা (Sayan Banerjee)
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নমিনেশন প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হল? এর পিছনে কি রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে? নাকি জনসমর্থন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল? এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এটিকে “নৈতিক পরাজয়” হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: Dilip Ghosh: “রামমোহন কলেজে রাম নেই”, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
বদলে যাচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র?
ফলতা উপনির্বাচন ঘিরে যে রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনের রাজনীতির দিকনির্দেশক হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন শক্তির রাজনৈতিক অবস্থান, বিরোধীদের নতুন আক্রমণাত্মক কৌশল এবং ভোটারদের মানসিকতার পরিবর্তন সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত মিলছে। সায়ন ব্যানার্জির বক্তব্য সেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিকেই আরও জোরালো করেছে। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলে এবং ফলতা উপনির্বাচন শেষ পর্যন্ত বাংলার বৃহত্তর রাজনীতিতে কী বার্তা দেয়।



