Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: “মন তোরে কে ভুলালে হায়। কল্পনারে সত্য করি জান একি দায়॥” সত্যিই সমাজ (Raja Ram Mohan Roy) সংস্কারের অনেক কল্পনাকে সত্যি করে তুলেছিলেন তিনি। অনেকে যা ভাবতেও পারেনি, সেই কল্পনাকেই বাস্তব রূপে গড়ে তুলেছিলেন তিনি। তিনি আর কেউ নয়, তিনি রাজা রামমোহন রায়। ২২ মে ১৭৭২ সালে জন্ম হয়েছিল রাজা রামমোহন রায়ের। সমাজ সংস্কারক হিসেবেই সুপ্রসিদ্ধ ছিলেন তিনি। সতীদাহ প্রথা, মূর্তিপূজার বিরোধিতায় তার নাম উল্লেখযোগ্য। আর তার এই সমাজ সংস্কারের কাজের অন্যতম মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছিল সংবাদ পত্র। এই প্রকাশনার পরিসরেও রামমোহনের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মত। তাঁর গলায় ছিল প্রতিবাদের উদ্দত্ত স্বর আর সংবাদপত্রের লেখনীর কালো ছাপা অক্ষরের বিস্তীর্ণ পরিভাষা। যার মাধ্যমে জনগণের মনে জেগে উঠেছিল নবজাগরণের সুর।
সংবাদ কৌমুদী (Raja Ram Mohan Roy)
১৮২১ সালে প্রকাশিত হয় রামমোহনের (Raja Ram Mohan Roy) পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা সংবাদ কৌমুদী। ভবানীচরণ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন এর সম্পাদক। সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে, আধুনিক শিক্ষার পক্ষে লিখিত প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
মিরাৎ-উল-আখবার (Raja Ram Mohan Roy)
ফার্সি ভাষার প্রথম ভারতীয় পত্রিকা, ১৮২২ সালে (Raja Ram Mohan Roy) প্রকাশিত। শুধু দেশের অন্দরের খবর নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রসারের জন্য এর আবির্ভাব। সম্পাদনার দায়িত্বে রামমোহন ছিলেন নিজেই।
ব্রাহ্মণিক ম্যাগাজিন
১৮২১ সালেই এর প্রথম আত্মপ্রকাশ। ভাষা ছিল ইংরেজি। ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ কারণ, খ্রিস্টান ধর্মের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নীতির সমালোচনাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া একেশ্বরবাদ নিয়েও লেখালেখি চলত এই পত্রিকায়।

আরও পড়ুন: Cockroach Janata Party: আত্মপ্রকাশের পর ইস্তেহার, ককরোচ পার্টির ভাবনায় কোন কোন ইস্যু?
সংবাদ পত্রের স্বাধীনতায় অবদান
রাজা রামমোহন রায় মনে করতেন সংবাদ পত্রের কাজ হল জনমত গঠন করা। এছাড়া ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করতেন তিনি। ১৮২৩ সালে ব্রিটিশ সরকার ‘লাইসেন্সিং রেগুলেশন’ নামক কঠোর আইন জারি করে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করে।এই সেন্সরশিপ আইনের বিরুদ্ধে রাজা রামমোহন রায় সুপ্রিম কোর্টে একটি আপিল (পিটিশন) দায়ের করেন। এই পিটিশনই পরবর্তীতে ভারতের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ইতিহাসে ‘ম্যাগনা কার্টা’ (Magna Carta) হিসেবে গণ্য হয়।


