Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ এবং সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনাটিকে শুধুমাত্র একটি প্রতিবাদ হিসেবে না দেখে এর পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল কাজ করছে বলে দাবি করেছেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা, সাধারণ মানুষের উপর প্রশাসনিক চাপ, হকার উচ্ছেদ, বস্তিবাসীদের অনিশ্চয়তা, দুর্নীতি এবং বিজেপি-তৃণমূলের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

“জয় হয়েছে আদানি-আম্বানির, সাধারণ মানুষের নয়”
মহম্মদ সেলিমের বক্তব্যের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয়নি, বরং কর্পোরেট স্বার্থই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রেলের জমিতে বসবাসকারী দরিদ্র মানুষ সবাই আজ প্রশাসনিক চাপ ও উচ্ছেদের আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতি নতুন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আসাম থেকে গুজরাট পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাজনীতি নিয়ে সরব সিপিআই(এম) (Abhishek Banerjee)
সেলিমের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘Exclusion’ বা বাদ দেওয়ার রাজনীতি। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, কেউ ভাষার ভিত্তিতে, কেউ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে। কিন্তু তাঁর মতে, বিষয়টি আরও গভীর। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির মূল ভিত্তিই হলো মানুষকে কোনও না কোনও অজুহাতে মূলধারা থেকে সরিয়ে দেওয়া। কখনও ভোটাধিকার, কখনও নাগরিকত্ব, আবার কখনও সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে এই রাজনীতি পরিচালিত হয়। এর বিপরীতে সিপিআই(এম)-এর অবস্থান ‘Inclusive Politics’ বা সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার রাজনীতি বলেই দাবি করেন তিনি।

দুর্নীতির টাকা ফেরত চাই, অপমানের রাজনীতি নয়
রাজ্যে কাটমানি, আবাস প্রকল্প, ১০০ দিনের কাজের টাকা এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, জনগণের টাকা যারা লুট করেছে তাদের কাছ থেকে সেই অর্থ ফেরত আদায় করা উচিত। তবে তিনি একইসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিশোধের নামে কাউকে প্রকাশ্যে অপমান করা, পোশাক খুলে দেওয়া বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও সমানভাবে অগ্রহণযোগ্য। তাঁর বক্তব্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি বলেন, অতীতে তৃণমূলের আমলে যেভাবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে, বর্তমানে বিজেপিও একই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নির্বাচনী সংস্কারের পাশাপাশি পুলিশি সংস্কারেরও প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
“অভিষেকের বাড়ির বিক্ষোভ কি পরিকল্পিত?” (Abhishek Banerjee)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সেলিমের সবচেয়ে বিতর্কিত মন্তব্য হলো, এই ঘটনাকে তিনি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ক্রমশ রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে দলটিকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, যারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো সাধারণ কর্মী বা সাধারণ মানুষ; কিন্তু এর পেছনে অন্য রাজনৈতিক পরিকল্পনা থাকতে পারে।
বিজেপি-তৃণমূল ‘সমঝোতা’ তত্ত্ব উত্থাপন
মহম্মদ সেলিম আরও দাবি করেন, বর্তমানে রাজ্যে বামপন্থীদের নেতৃত্বে গরিব মানুষ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, মহিলা এবং হকারদের বিভিন্ন আন্দোলন শক্তিশালী হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মেরুকরণ বজায় রাখতে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয় পক্ষই একে অপরকে প্রাসঙ্গিক রাখতে আগ্রহী হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া তৃণমূলকে আবার জনচর্চার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ঘটনা ‘স্টেজ ম্যানেজ’ করা হতে পারে।
নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবিও তুললেন সেলিম
সেলিমের মতে, এই ধরনের ঘটনার পর খুব শীঘ্রই তৃণমূল নেতৃত্বের জন্য আরও উচ্চস্তরের নিরাপত্তা দাবি তোলা হতে পারে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, ভবিষ্যতে ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবিও সামনে আসতে পারে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক নাটকীয়তা তৈরি করে জনমতকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে দুর্নীতি, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং জনজীবনের প্রকৃত সমস্যাগুলি আড়ালে চলে যায়।

আরও পড়ুন: Smart Border: স্মার্ট বর্ডার প্রকল্পে জোর শাহের, ‘প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করতে হবে’
বামপন্থীদের আন্দোলনই কি উদ্বেগের কারণ?
সেলিমের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদরত সাধারণ মানুষের কথা। তাঁর দাবি, হকার, শ্রমজীবী, সংখ্যালঘু, মহিলা এবং বঞ্চিত মানুষের আন্দোলন ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। এই গণআন্দোলনই অনেক রাজনৈতিক শক্তির অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রকৃত লড়াই হচ্ছে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই এবং সেই লড়াইকে দুর্বল করতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে।



