Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল সোনারপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে যে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় এলাকা থেকে বের করে আনতে হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
নিহত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই বাধা (Mamata Banerjee)
শনিবার বিকেলে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছনোর কথা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানো এবং পাশে থাকার বার্তা দিতেই তিনি সোনারপুরে যান। কিন্তু বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছতেই আচমকা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় একাংশের মানুষ ও বিক্ষোভকারীরা অভিষেককে ঘিরে ধরে প্রতিবাদ শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দেওয়া হয়, কালো পতাকা দেখানো হয় এবং পরে ডিম, জুতো ও বিভিন্ন বস্তু ছোঁড়া হয়।
টানাহেঁচড়ার মধ্যে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁকে হেলমেট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁর সাদা জামা ছিঁড়ে যায় বলেও জানা যায়। দলীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।

পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় এলাকা ত্যাগ
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঞ্জু কর্মকারের বাড়ি থেকে বের করে আনেন। এরপর তাঁকে দ্রুত কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাঁকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন।
হাসপাতালে পৌঁছলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। ঘটনাটি জানার পর নিজের বাসভবন থেকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে কিছুক্ষণ থাকার পর দেখা যায়, হাসপাতালের পোশাক পরে হুইলচেয়ারে বসে বেরিয়ে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই গাড়িতে করে তিনি হাসপাতাল ছাড়েন। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চ্যাটার্জি এবং তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রিটানি।
ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)
ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন যে, বারবার পুলিশকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করা হলেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মৃত কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি বলেন, “আমাকে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে। মেরে দিক আমাকে। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। একটা পুলিশ নেই। দরজা ভাঙার চেষ্টা চলছে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত।

আদালতে যাওয়ার ঘোষণা (Abhishek Banerjee)
ঘটনার পর দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক হিংসা বা হামলার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে হবে যাতে প্রমাণ সংরক্ষিত থাকে। তিনি আরও জানান, সোনারপুরের এই ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
মমতার তীব্র প্রতিবাদ
সোনারপুরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে তিনি হামলার ঘটনার নিন্দা জানান। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আঘাত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে লেখেন যে এই ধরনের ঘটনার জন্য তাদের লজ্জা পাওয়া উচিত।

রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে প্রবল তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ, বিধায়ক এবং নেতা বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও পাল্টা অভিযোগ তুলেছে। সোনারপুরের এই ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ কতটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তারও এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।



