Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফিনল্যান্ডে এক অনুষ্ঠানে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পশ্চিমী বিশ্বের দ্বিচারিতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “কোনও ইউরোপীয় দেশ ভারতীয় অস্ত্রে আক্রান্ত হয়নি। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় অস্ত্রের কথা তা বলা যায় না।(Jaishankar Mao)” তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের এক প্রবণতাকে সামনে আনে গণতান্ত্রিক দেশগুলিকে কঠোরভাবে বিচার করা হলেও কর্তৃত্ববাদী শাসনকে অনেক সময়ই তুলনামূলকভাবে ছাড় দেওয়া হয়।
পশ্চিমী উদারপন্থী মহলের ভুল মূল্যায়ন (Jaishankar Mao)
এই প্রসঙ্গেই ইতিহাসবিদ ফ্র্যাঙ্ক ডিকোটারের নতুন বই Red Dawn Over China গুরুত্বপূর্ণ। ডিকোটারের মতে, মাও সেতুংয়ের উত্থান শুধু চিনা কমিউনিস্টদের শক্তির ফল ছিল না; পশ্চিমী উদারপন্থী মহলের ভুল মূল্যায়নও এতে বড় ভূমিকা রেখেছিল।
১৯২০ ও ৩০-এর দশকে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি ছিল খুবই ছোট ও দুর্বল। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, জাপানি আগ্রাসন এবং সোভিয়েত সমর্থন মাওকে শক্তিশালী করে তোলে। একই সময়ে মার্কিন সাংবাদিক এডগার স্নোর মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাওকে “কৃষক নেতা”, “সংস্কারক” ও “মুক্তিদাতা” হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর বই Red Star Over China পশ্চিমী দুনিয়ায় মাওয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলে।
ফলে ওয়াশিংটনের অনেক নীতিনির্ধারক বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে মাও গণতন্ত্রমুখী সংস্কারক হতে পারেন। মার্কিন প্রশাসন জাতীয়তাবাদী নেতা চিয়াং কাই-শেকের ওপর আস্থা হারাতে থাকে এবং অস্ত্র সরবরাহও কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়ন গোপনে কমিউনিস্ট বাহিনীকে শক্তিশালী করে তোলে। শেষ পর্যন্ত ১৯৪৯ সালে মাও ক্ষমতায় আসেন।
প্রবন্ধটির যুক্তি হলো, পশ্চিমী বিশ্ব প্রায়ই গণতান্ত্রিক সরকারের ত্রুটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেয়, অথচ কর্তৃত্ববাদী শক্তির বিপদকে অবমূল্যায়ন করে। লেখকের মতে, আজও ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশকে “গণতান্ত্রিক অবক্ষয়” বা “নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্র” হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা সেই পুরনো মানসিকতারই প্রতিফলন (Jaishankar Mao)।
ইতিহাসের শিক্ষা স্পষ্ট গণতন্ত্রকে কঠোরভাবে বিচার করতে গিয়ে যদি স্বৈরতন্ত্রের প্রকৃত চরিত্রকে উপেক্ষা করা হয়, তাহলে তার মূল্য অনেক বড় হতে পারে(Jaishankar Mao)। লেখক এই প্রবণতাকেই আখ্যা দিয়েছেন “মাও সিনড্রোম” নামে।



