Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এতদিনের যে রেকর্ড ছিল ব্রাজিলের নামে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ না হারা সেই রেকর্ড এখন অর্ধ সত্য। ড্র দিয়ে অভিযান শুরু ব্রাজিলের (Brazil vs Morocco)
প্রথম ম্যাচ ড্র করে শুরু বিশ্বযুদ্ধ (Brazil vs Morocco)
বিশ্বকাপের অন্যতম প্রতীক্ষিত ম্যাচগুলির মধ্যে ব্রাজিলের যে কোন ম্যাচ রাখা যেতেই পারে। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সমর্থকরা তাকিয়ে রয়েছেন হেক্সার দিকে। এই গ্রিক শব্দের অর্থ ছয়। নিউ ইয়র্ক আর আজ কলকাতার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য ধরা কঠিন। একমাত্র সময়ের হেরফের ছাড়া আর বাকি তেমন কোনও পার্থক্য নেই। কারণ সেখানে স্টেডিয়ামের উত্তেজনার কলকাতার রাস্তায়। যদিও গোটা ভারত জুড়েই আজ যেন উৎসব (Brazil vs Morocco)।
ভারতের সমর্থকরা বিশ্বকাপের সময় ভাগ হয়ে যান প্রধানত দুই ভাগে। একদল সাপোর্ট করেন আর্জেন্টিনা আর আরেক পক্ষ তখন ব্রাজিল। উত্তর কলকাতার এক গলির ক্লাবের মুখে আড্ডা বসত প্রজন্ম নির্বিশেষে। সেখানে এখনও যদি বর্তমানের ফুটবলের কথা ওঠে সেখানে এক প্রবীণ বলে ওঠে ‘ইন দ্য ইয়ার’, এর অর্থ ততক্ষণে সবার বোঝা হয়ে গেছে। তবে সেই লাইন কোনওদিন শেষ হয়নি। প্রজন্ম বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে কিন্তু ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা বদলায়নি। সাদা কালো টিভি থেকে আজকের স্মার্ট টিভি কিন্তু আড্ডার বিষয় এখনও ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল।’
খাতায় কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও কোনওভাবেই মরক্কোকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না সমর্থকরা। এর আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নামার আগে মরক্কোর হাকিমি জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁরা এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বেন না বিনা যুদ্ধে। অর্থাৎ ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচ্যগ্র মেদিনী।’ এর প্রবাদের সূত্রপাত মহাভারতের সময় থেকে যখন বিনা যুদ্ধে এক সূচের সমান জমিও দিতে রাজি হয়নি কৌরবরা (Brazil vs Morocco)। তবে সেই যুদ্ধ কি দেখা গেল আজকের ম্যাচে?
আরও পড়ুন: Chief of the Army Staff: ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ
একদিকে রয়েছে ব্রাজিল, যে দল পাঁচবার বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে আর অন্যদিকে রয়েছে মরক্কো, যে দলটি ২০২২ বিশ্বকাপে ইতিহাস তৈরি করেছিল। সেখান থেকে এই ম্যাচ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে শুরু থেকেই রয়েছে আলাদা উন্মাদনা। সেই উন্মাদনা কয়েকগুণ বেড়ে গেল যখন রেফারির বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে বল নিয়ে দুই দল দৌড় শুরু করল (Brazil vs Morocco)।
ভোর ৪-টে বাজে, এই সময় বাঙালি সাধারণত একবার ওঠে আর সেটা মহালয়ার ভোরে তার অন্যতম কারণ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনা। এটা ছাড়া বাঙালির দুর্গাপুজো শুরুই হয় না। তবে আরেকবার এই রাত জেগে অপেক্ষায় থাকবে ভারত সহ আপামর বাঙালি আর সেটা হল ফুটবল বিশ্বকাপ। সেখানে ব্রাজিলের খেলা না হলে যেন বিশ্বকাপ শুরুই হয় না। বাইরে যখন পাড়া পাহারা দেওয়ার সময় সেই পরিচিত মানুষটা বাঁশি বাজিয়ে সজাগ করছেন সেই সময় তাঁর বাঁশি যেন মনে হচ্ছে ময়দানের বাঁশি। সবাইকে আরেকবার বিশ্বকাপের জন্য সজাগ করে তুলছে (Brazil vs Morocco)।
ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপনে না বরং ব্রাজিলের পোস্টারে মুখ ঢেকেছে শহর। তবে এই ম্যাচের শুরু থেকেই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নেইমারের চোট। প্রথম ম্যাচে যে নেইমারকে পাওয়া যাবে না সেটা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিল দলের কোচ। তবে দলে ছিলেন জুনিয়র, ক্যাসেমিরো, সান্তোসদের মত তারকারা। এই ম্যাচে যেমনটা আগে থেকেই আশা করা গেছিল ব্রাজিল কোচ দল সাজাতে চলেছেন ৪-২-৩-১ পজিশনে, ঠিক সেই পথেই হাঁটলেন তিনি। নতুন করে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে যে কম্বিনেশনে সাফল্য এসেছে সেটাই ধরে রাখলেন। অন্যদিকে বিপক্ষ দলও একই স্ট্রাটেজিতে দলের ঘুঁটি সাজিয়েছেন। এর থেকে সহজেই অনুমেয় যে দুই দলই শুরু থেকে আক্রমণের পথেই হাঁটবে আর সেটাই দেখা গেল ম্যাচ শুরুর সময় থেকে।
নেইমারহীন ব্রাজিলের এই ম্যাচের শুরুটা যেন একটু ছন্নছাড়া ছিল। কোথাও গিয়ে সেই পুরনো ছন্দের ব্রাজিলকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অন্যদিকে মরক্কো শুরু থেকেই আক্রমণ গড়তে থাকেন। সাম্বা ব্রিগেদের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যেতে থাকেন সাইবারিরা। আর প্রথম গোল আসে তাঁর বুট থেকেই। অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং দক্ষতার সঙ্গে এই ম্যাচে তাঁরা খেলেন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে।
প্রথম গোল খাওয়ার পর ব্রাজিল সমর্থকরা একটু হলেও বিমর্ষ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হারেনি। তবে কি এবার সেই রেকর্ড ভাঙতে চলেছে? এই প্রশ্নের উত্তর তখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকদের। তবে এরপর ধীরে ধীরে ব্রাজিলের শিল্প ভেসে উঠতে থাকে দর্শকদের সামনে।
তবে তাঁর জবাব ব্রাজিলই দিয়ে দেয় ৩২ মিনিটের মাথায়। সেই সময় ভিনি রীতিমতো ঘোল খাইয়ে দিল বিপক্ষের রক্ষণকে। জুনিয়র -এর বুট থেকে আসে ব্রাজিলের প্রথম গোল। গোলের সাইড লাইন থেকে নিখুঁত শটে গোল আসে আর এই শট ছিল ব্রাজিলসুলভ, নিখুঁত টাইমিংয়ে বলকে দিশা দিতে ভুল করেননি জুনিয়র। আর এই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই গ্যারালি জুড়ে দেখা যায় সাম্বা ঢেউ। প্রাণ ফিরে পেলেন ব্রাজিল সমর্থকরা। প্রথম হাফ শেষ হওয়ার আগেই হলুদ কার্ড দেখেন ক্যাসেমিরো। এর আগে ব্রাজিলের এবানিয়েও দেখেন হলুদ কার্ড। প্রথম হাফ শেষে হয় ১-১ স্কোরে (Brazil vs Morocco)।
দ্বিতীয় হাফে আশা করা গেছিল ব্রাজিলের সেই পুরনো ছন্দ আবার দেখা যাবে কিন্তু সেটা হল না। বরং মরক্কো এই ম্যাচে নিজেদের দক্ষতা আবারও প্রমাণ করল। খাতায় কলমে ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখা হলেও ময়দানে সেটা হল না। বরং মরক্কোর খেলা তুলনামূলক ছিল নান্দনিক। বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন হওয়ার পর শিল্প আসে কিনা সেটা সময় বলবে। তবে আজকের মানুষ অপেক্ষায় ছিল ব্রাজিলের শৈল্পিক ফুটবল দেখার জন্য তবে সেক্ষত্রে কিছুটা নিরাশই হতে হল। ১-১ থেকেই এই ম্যাচ শেষ হল। আজকের পরপর দুটি ম্যাচই ড্র হয়ে শেষ হল। এখন দেখার ব্রাজিল পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।


