কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইথানল বা E20 নিয়ে প্রবল জল্পনার (E 20 Petrol) মধ্যেই সামনে এল এক তথ্য। দেশের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকরি একসময় দাবি করেন ইথানল মেশানো তেল এলে তেলের দাম কমিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আসলে কাজের কাজ কতটা হয়েছে তা রয়েছে চোখের সামনেই।
২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার। তখন ভারতে পেট্রোলের খুচরো দাম ছিল ৭২ টাকা।
বর্তমানে দাম কত? (E 20 Petrol)
বর্তমানে ক্রুড অয়েল ব্যারেল পিছু ৯৬ (E 20 Petrol) ডলার। অথচ মেট্রো সিটি গুলোতে পেট্রোলের দর বেড়েছে বই কমেনি! নয়াদিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ৯৬.৭২ টাকা। মুম্বইয়ে ১১১.৩৫ টাকা, বেঙ্গালুরুতে ১০২.৮৬ টাকা, চেন্নাইয়ে ১০২.৬৩ টাকা, হায়দরাবাদে ১১২.৬৯ টাকা এবং
কলকাতায় ১০৬.০৩ টাকা।
২০১৪ সালে মোদি সরকার দেশের ক্ষমতায় আসার আগে পেট্রোলের উপর আবগারি শুল্ক (Excise Duty) ছিল লিটার প্রতি ৯.৪৮ টাকা এবং ডিজেলে ছিল ৩.৫৬ টাকা।
ক্রুড অয়েলের দাম কমতে থাকে (E 20 Petrol)
মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম কমতে থাকে। কিন্তু সরকার পেট্রোলের দাম কমানোর বদলে এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়ে দেয় ১১টাকা (জুন ২০১৪ থেকে জানুয়ারি ২০১৬-র মধ্যে)।
২০২০ সালে কোভিড মহামারীর সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দর মারাত্মকভাবে কমে। ৬৯ শতাংশ দামের পতন হয়। তখন আম জনতারও ৬৯ শতাংশ ডিসকাউন্টে পেট্রোল পাওয়া উচিৎ ছিল। কিন্তু ২০২০ সালের মে মাসে মোদি সরকার পেট্রোলে লিটার পিছু ১০ টাকা এবং ডিজেলে ১৩ টাকা অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক চাপায়। সরকার যদি এই শুল্ক না বাড়াত, তাহলে সাধারণ মানুষ ৪০ টাকা/লিটারে পেট্রোল পেত। কিন্তু তা না করে আবগারি শুল্ক বাড়িয়ে ৩২.৯৮ টাকা প্রতি লিটার করা হয়।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে পেট্রোলের দাম ৫.৬০ টাকা বাড়িয়ে দেয় সরকার। সেই সময়ে ৯ দিনে ৮ বার পেট্রোলের দাম বাড়ে। সেই বছরের ৩০ মার্চ দিল্লিতে পেট্রোলের দাম পৌঁছায় ১০১.০১ টাকায়।
২০২৩ সালে ক্রুড অয়েলের দাম আরও কমে। তখনও মোদি সরকার আমজনতার জন্য পেট্রোল-ডিজেলের দাম সস্তা করেনি। মুশকিল সময়ে সমস্ত বোঝা জনগণের উপর চাপিয়ে দেয় সরকার।
যখনই আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম কমে, এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়ে লাভের গুড় সরকার ছিনিয়ে নেয়। অথচ আজ যে পেট্রোল দেশ জুড়ে দেওয়া হচ্ছে তা বিশুদ্ধ পেট্রোল নয়। এখন পেট্রোলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো হচ্ছে। অর্থাৎ E20 পেট্রোল।
আরও পড়ুন: Sudipta Chakraborty: লক্ষ্মীলাভের মঞ্চে বড় পরিবর্তন, পাল্টে যাচ্ছে সঞ্চালিকা!
মজার বিষয়, বাজারে প্রতি লিটার ইথানলের হোলসেল (E 20 Petrol) মূল্য ৬০-৬৫ টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করে। অর্থাৎ পেট্রোলের থেকেও সস্তা হয় ইথানল। তাহলে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল আরও সস্তায় পাওয়ার কথা। কিন্তু তাও সরকার আমজনতাকে সেই সুবিধে দিতে রাজি নয় বিজেপি সরকার। পেট্রোলে ইথানল মেশানোর সবথেকে বেশি ফয়দা হচ্ছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতীন গড়কড়ি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দর কমলেও তার সুবিধা জনগণকে না দিয়ে সমস্ত মুনাফা সরকার নিজে লাভ হিসেবে তুলে নেয়।


