Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে ইরান নিজেদের সুরক্ষিত রাখল আর তার সেনাপতি হয়ে সেই দায়িত্ব সামলালেন আলিরেজা (Alireza Beiranvand)।
ইরানের প্রতিবাদ ফুটবল (Alireza Beiranvand)
পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিবেশের কারণে ইরান ফুটবল দলকে বেশ কিছুটা ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। একদিকে ভিসা সমস্যা আরেকদিকে ম্যাচ শেষে ২৪ ঘন্টার মধ্যে মার্কিন মুলুক ছাড়ার নির্দেশ। যেখানে রিকভারি সময়টাও তাঁরা পাচ্ছেন না। কিন্তু এর মধ্যেও বিশ্বকাপের মঞ্চে যে ফুটবল তাঁরা উপহার দিচ্ছেন সেটা ইতিমধ্যেই প্রশংসাযোগ্য। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আটকে দিল বেলজিয়ামকে (Alireza Beiranvand)।
শুরুতেই অনেকে ধারণা করেছিলেন ৪৮টা দেশ নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ হয়ত সেই টানটান ভাব হারিয়ে ফেলবে। বা হয়ত বহু খাতায় কলমে পিছিয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে বড় দলের খেলা একতরফা হবে কিন্তু না। তেমনটা একদমই হচ্ছে না বরং এবার যেন টানটান উত্তেজনা আরও বহু অংশে বেড়ে যাচ্ছে। বেশ কয়েকটি ম্যাচে কয়েকটি দল যে লড়াই করছে সেটা একপ্রকার অবিশ্বাস্য। সেই প্রাণ পাত করা লড়াইয়ের সাক্ষী থাকছে বিশ্ব ফুটবল। তবে এবার স্ট্রাইকার বা ফরওয়ার্ড নয় বরং চর্চায় গোলকিপাররা। কেপ ভার্দে হোক বা কুরাকাও বা ইরান। এই সব দেশের গোলকিপাররা নিজেদের দক্ষতার পরিচয় রাখছে। বেলজিয়ামের ম্যাচে ইরানের গোলকিপার আলিরেজা একাই ‘রাজা’। ভারতীয় সময় রবিবার মধ্যরাতে তাঁর দস্তানায় আটকে যায় বেলজিয়াম।

বেলজিয়ামের এই ম্যাচে জয় এবং তিন পয়েন্ট সংগ্রহ অনেকেই ভেবেছিলেন নিশ্চিত কিন্তু সেই আশায় জল ঢাললেন একাই ইরান গোলকিপার। ৬ ফিট ৪ ইঞ্চির এই গোলরক্ষক তেমন এক কেল্লান গড়ে তুললেন যা ভেদ করে বেলজিয়ামের কেউ ভিতরে আসতে পারেননি। সত্যি সেভ করে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পান তিনি (Alireza Beiranvand)।
তবে তাঁর উত্থান আরও বেশি কঠিন ছিল। লোরেস্তান পর্বতে কুর্দি লাক যাযাবর পরিবারে জন্ম তাঁর। এটাই দারিদ্রতার মধ্যে দিন কেটেছে তাঁর যে ফুটবল খেলা ছিল বিলাসিতা। তাঁর বাবা সেই কারণে ফুটবল খেলার বিরোধিতা করেছিলেন কারণ তাঁর কাছে একটা গ্লাভসের পিছনে টাকা দেওয়া মানে সেটা জলে ফেলে দেওয়া। সেই অবস্থায় তিনি এমন এক সিদ্ধান্ত নিলেন যা হয়ত আমরা কেউ ভাবতেও পারবো না। টাকা ধার নিয়ে পালিয়ে যান তেহরানের বাসে।

ইরানের রাজধানীতে পৌঁছনোর পর ঘর, বিছানা, বন্ধু, পরিচিত কেউই ছিল না তাঁর, অসাহনা জায়গা তিনি নিঃসঙ্গ একা। মাসের পর মাস স্থানীয় ফুটবল ক্লাবের বাইরে শুয়ে রাত কাটান। খাবারের সন্ধানে রাস্তা ঝার দেওয়া, গাড়ি ধোঁয়া, টায়ার পরিষ্কার করা তো ছিলই। এছাড়াও দিনে ফুটবল খেলার পর, রাতের পর রাত জেগে পিজ্জার দোকানে কাজ করেন, বোধহয় বলা ভাল হেন্ কোনও কাজ নেই যা তিনি করেননি। সেই সময় তাঁর শরীরের বিশেষত্ব নজরে পড়ে কোচদের (Alireza Beiranvand)।
পাহাড়ে বেড়ে ওঠায়, ছোটবেলায় স্থানীয় খেলা ‘ডালপারান’ খেলে বড় হয়েছেন। যা হল, ভেড়াদের রক্ষা করতে দূর পর্যন্ত ভারী পাথর ছোড়া। এটা করতে করতে তাঁর শরীরের ওপরের অংশ একটি অদ্ভুত আকার নেয়। যা আধুনিক ফুটবলে সচরাচর দেখা যায় না। বর্তমানে গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে দুটো নজির গড়েছেন ইরানের গোলকিপার। ফুটবলে সবচেয়ে বড় থ্রো। ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে এই রেকর্ড করেন আলিরেজা। ২০০.১৪ ফিট, অর্থাৎ ৬১.০০২ মিটার দূরে বল ছোড়েন। এর পাশাপাশি আরও একটি রেকর্ড করেন। ফুটবলের ইতিহাসে দীর্ঘতম ড্রপ কিক। যার মাপ ২৫৫.৯৫ ফিট, যা ৭৮.০১৪ মিটার।
আরও পড়ুন: WB Budget 2026: রাজ্য বাজেটে স্বস্তি! বাড়ল আশাকর্মী, সিভিক পুলিশের বেতন
বিশ্বমঞ্চে তবে সেই থ্রো দিয়ে নয় বরং নজর কেড়েছেন সেভ করে। দুই দেশের মধ্যে চলা টানাপড়েনের মধ্যেও ইরান নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে সকলের মন কেড়ে নিয়েছে। যে দল বিশ্রামের সময় পাচ্ছে না ঠিক করে, প্রস্তুতির সময়ও নেই সেই ভাবে সেই দলের এই পারফরমেন্স মুগ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলকে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখল ইরান (Alireza Beiranvand)।


