Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা দেশ (Lucknow)। প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন বহু পড়ুয়া। আগুনের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে প্রাণ বাঁচাতে অনেক ছাত্রছাত্রী ভবনের একতলা থেকে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ভবনের ভিতরে এখনও বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন।

হঠাৎ আগুন, মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক (Lucknow)
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোচিং সেন্টারে নিয়মমাফিক ক্লাস চলছিল। সেই সময় আচমকাই ভবনের একটি অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন কক্ষে। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় সিঁড়ি ও করিডর, ফলে অনেক পড়ুয়া বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। আতঙ্কিত ছাত্রছাত্রীরা চিৎকার করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে অনেকে জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কয়েকজনকে প্রাণ বাঁচানোর জন্য একতলা থেকে ঝাঁপ দিতেও দেখা যায়।
জীবন বাঁচাতে জানালা দিয়ে ঝাঁপ (Lucknow)
ঘটনার সময় ভবনের ভিতরে শতাধিক পড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় বহু ছাত্রছাত্রী জানালা দিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কেউ মই নিয়ে আসেন, কেউ নিচে চাদর টানটান করে ধরেন যাতে ঝাঁপ দেওয়া পড়ুয়ারা গুরুতর আহত না হন। তবুও অনেকেই চোট পেয়েছেন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উদ্ধারকাজে দমকল ও প্রশাসন (Lucknow)
খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। পাশাপাশি পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দমকল কর্মীরা ভবনের প্রতিটি তলা তল্লাশি চালাচ্ছেন। ধোঁয়ায় ভরা কক্ষগুলিতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খোঁজ চলছে। উদ্ধারকারীদের মতে, সম্পূর্ণ ভবন পরীক্ষা না করা পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে (Lucknow)
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মৃতের সংখ্যা বর্তমানে ১১ হলেও তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও এখনও কিছু পড়ুয়ার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালগুলিতে জরুরি পরিষেবা জোরদার করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বিশেষ দল আহতদের চিকিৎসা করছেন।
আগুন লাগার কারণ নিয়ে শুরু তদন্ত (Lucknow)
কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনার কথা মনে করা হলেও তদন্তকারীরা অন্য দিকগুলিও খতিয়ে দেখছেন। ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, জরুরি নির্গমন পথ খোলা ছিল কি না এবং নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বহু কোচিং সেন্টার ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি, সংকীর্ণ সিঁড়ি এবং অপর্যাপ্ত জরুরি বহির্গমন পথের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন এবং অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার মহড়া বাধ্যতামূলক না হলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন : Kolita Maji: পরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী, স্বপ্নের উড়ান বর্ধমানের কলিতার
শোকের ছায়া
একটি স্বাভাবিক শিক্ষাদিবস মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয়েছে মৃত্যুর বিভীষিকায়। যাঁরা স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে কোচিং সেন্টারে গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই আর ঘরে ফিরতে পারেননি। হাসপাতালের বাইরে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের ভিড়, নিখোঁজদের খোঁজে ছুটে বেড়ানো পরিবারের সদস্যদের কান্না এবং উদ্ধারকারীদের নিরলস প্রচেষ্টা সব মিলিয়ে লখনউ আজ এক গভীর ট্র্যাজেডির সাক্ষী।



