Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
প্রতিবেদন ত্রয়ণ চক্রবর্তী: কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক আলোচিত তমন্না-কাণ্ডে দুই অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির পর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দিলেন সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান (Tamanna Case)। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের মাত্র একদিনের মধ্যেই এই গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে শুধুমাত্র একটি মামলার অগ্রগতি হিসেবে না দেখে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পটভূমি (Tamanna Case)
মুস্তাফিজুর রহমান জানান, বিধানসভার অধিবেশন শুরুর প্রথম দিন অর্থাৎ ১৮ তারিখেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছিলেন (Tamanna Case)। অবশেষে গতকাল সেই সুযোগ মেলে। এই বৈঠকে তিনি একা ছিলেন না। তমন্নার মা, আনিস খানের বাবা এবং কাকদ্বীপের দীপঙ্কর দাসের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি ও সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির বক্তব্য সরাসরি সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে পৌঁছে দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে বিচার ও তদন্তের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া পরিবারগুলির কথা মুখ্যমন্ত্রী নিজে শুনেছেন বলেই জানান বিধায়ক।
ধৈর্যের সঙ্গে অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী (Tamanna Case)
মুস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির বক্তব্য শোনেন। তমন্নার মা, আনিস খানের বাবা এবং দীপঙ্কর দাসের পরিবারের সদস্যরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরেন। বিধায়কের দাবি, সমস্ত কথা শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী অবিলম্বে বিষয়গুলি রাজ্যের ডিজিপির কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর প্রতিনিধিদল ডিজিপির সঙ্গেও বৈঠক করে এবং সেখানে বিস্তারিতভাবে সমস্ত অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তোষ (Tamanna Case)
বৈঠকের পর দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায় বলে দাবি করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তমন্না-কাণ্ডে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কাকদ্বীপের ঘটনায় আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচার প্রত্যাশী পরিবারগুলির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রশাসনের এই দ্রুত ভূমিকা প্রশংসার যোগ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘সাধুবাদ’ জানালেও বৃহত্তর দাবি আইনের শাসন
গ্রেপ্তারির ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে মুস্তাফিজুর রহমান স্পষ্টভাবে বলেন, এই পদক্ষেপ অবশ্যই সাধুবাদের যোগ্য। তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দেন যে, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ক্ষেত্রে নয়, রাজ্যের সর্বত্র এবং সব ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে সমানভাবে আইনের শাসন কার্যকর হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা আইন যেন ব্যক্তি, দল বা প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, সমানভাবে সবার জন্য প্রয়োগ হয়।
আগামী পাঁচ বছরের জন্য বার্তা (Tamanna Case)
মুখ্যমন্ত্রীর ‘আইনের শাসন’-এর অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে সিপিআইএম বিধায়ক বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুরু থেকেই আইনের শাসনের কথা বলে এসেছেন। সেই প্রতিশ্রুতি আগামী পাঁচ বছর ধরে বাস্তব ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হোক, সেটাই তাঁর প্রত্যাশা। তাঁর কথায়, বিচারপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তমন্না-কাণ্ডে গ্রেপ্তারি সেই দিক থেকে একটি ইতিবাচক বার্তা দিলেও, প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে যখন রাজ্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে একই ধরনের নিরপেক্ষতা ও দ্রুততা বজায় থাকবে।

আরও পড়ুন : Naushad Siddiqui: মণিপুর থেকে চাকরি দুর্নীতি, একসঙ্গে একাধিক ইস্যুতে নওশাদের তোপ
রাজনৈতিক তাৎপর্য
এই ঘটনায় একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দীর্ঘদিনের দাবির আংশিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সংলাপের একটি নজিরও তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং পরবর্তী গ্রেপ্তারি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করছে।



