Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সংযুক্তি সময়ের গোলে জয় আয়োজক দেশ কানাডার। বিদায় নিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
সংযুক্তি সময়ের গোলে জয় কানাডার
গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ। নকআউট পর্বের এই খেলায় সব ম্যাচই এখন ডু ওর ডাই ম্যাচ। যে দল জিতবে সেই দল যাবে পরের পর্বে আর অন্য দলকে বিদায় নিতে হবে। যত বিশ্বকাপ এগোচ্ছে ততই উত্তেজনা আরও গাঢ় হচ্ছে আর সেই আবহে নকআউটের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা আর কানাডা।
নকআউটের প্রথম ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জিতে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল কানাডা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না পেলেও সংযুক্তি সময়ে অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম হয় এই আয়োজক দেশ। সংযুক্তি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেন অধিনায়ক স্টিফেন এস্তাকিয়ো। ১-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথম বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল কানাডা।
রাউন্ড অফ ৩২-এর প্রথম ম্যাচে যোগ্য দল হিসাবেই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে কানাডা। গোটা ম্যাচে জুড়ে ভাল ফুটবল খেলেছে তারাই। অনেক বার দক্ষিণ আফ্রিকার গোলের সামনে এসেও সুযোগ নষ্ট করেছে। অথবা তাদের আক্রমণ প্রতিহত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার জমাট রক্ষণ ভেঙে পড়ল এক বারই। আর সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়নি কানাডার।
আরও পড়ুন: Bankura: স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সেলাই মেশিন সমবায়ের গুদামে
ম্যাচের শুরু থেকেই কানাডার রণনীতি ছিল স্পষ্ট। আক্রমণের ঝড় তুলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জেরবার করাই ছিল তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। সেই কাজে সফলও হয়েছিল। কিন্তু কানাডার দলে ভাল কোনও ফিনিশারের অভাব থাকায় সুযোগ তৈরি করেও গোল আসছিল না। জোনাথন ডেভিডকে এ দিন ফিকে মনে হচ্ছিল। ৯০ মিনিটে কটা বল তিনি পায়ে লাগিয়েছেন সন্দেহ রয়েছে। তার পরেও কানাডার আক্রমণ বজায় ছিল মূলত এস্তাকিয়ো এবং নাথান সালিবার জন্য।
প্রথমার্ধের শেষের দিক ছিল বেশ ঘটনাবহুল। এস্তাকিয়োর কর্নার থেকে বোম্বিতো হেড করা বল গোললাইন থেকে কোনও মতে বাঁচান দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার মোদিবা। ফিরতি হেড এবং শট বাঁচান গোলকিপার রনওয়ে উইলিয়ামস। কোনও মতে সে যাত্রা দক্ষিণ আফ্রিকা বেঁচে যায় গোল খাওয়ার হাত থেকে। এর পরেই তৈরি হয় বিতর্ক।
দক্ষিণ আফ্রিকার বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন কানাডার লারিয়া। তাঁকে কড়া ট্যাকল করেন মুদাউ। কানাডার খেলোয়াড়েরা পেনাল্টির আবেদন করলেও রেফারি তাতে আমল দেননি। এমনকি, ঠিক করে ‘ভার’ পরীক্ষাও হয়নি। এখান থেকেই আবার রেফারি এবং ভার নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
বিরতির পরেও কানাডার রণনীতির কোনও পরিবর্তন আসেনি। তাঁরা ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকেন। পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকাল। দুই দলের আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণ দেখে মনে হতে থাকে একটা পর্যায় পর্যন্ত যে খেলা গড়াতে চলেছে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত কিন্তু সংযুক্তি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সব বদলে যায়। ডান দিক থেকে সতীর্থের পাস পেয়েছিলেন এস্তাকিয়ো। একটু সময় নিয়ে ডান পায়ে জোরালো শট মারেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা গোলকিপার জায়গাতেই ছিলেন না। বল সেই সময় জালে জড়িয়ে যায় এবং কানাডার জয় নিশ্চিত হয়।


