Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ (Anant Maharaj)। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জাতীয় বীর নেতাজিকে নিয়ে এমন মন্তব্য কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এই বার্তাই দিয়েছে রাজ্য সরকার।
বঙ্গবিভূষণ ফিরিয়ে নিল রাজ্য (Anant Maharaj)
বিতর্কের জেরে অনন্ত মহারাজের দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় মোট ছ’টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ থাকেনি, আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা (Anant Maharaj)
ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেতাজির মতো জাতীয় বীরকে অসম্মান করার মতো বক্তব্য কোনওভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। অনন্ত মহারাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চাইলেও আইনি প্রক্রিয়া নিজের গতিতেই চলবে বলে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। একইসঙ্গে আপত্তিকর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বহু সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট সরানো এবং কয়েকটি অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে।
হঠাৎ সুর বদল অনন্তের (Anant Maharaj)
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থানের পরেই কার্যত সুর নরম করেন অনন্ত মহারাজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁর অনিচ্ছাকৃত কোনও বক্তব্যে কেউ মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তাঁর এই ক্ষমাপ্রার্থনাকে অনেকেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন:North Bengal: বাঙালি-ভাটিয়াদের নিয়ে মন্তব্যে আইনি জটিলতায় তৃণমূল যুবনেতা
ক্ষমা চাইলেই কি মিটবে বিতর্ক? (Anant Maharaj)
তবে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। কারণ, বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক এফআইআর হয়েছে এবং প্রশাসনের তরফে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক ও আইনি—দুই দিক থেকেই বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনা নয়, ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
‘আইন সবার জন্য সমান’
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মন্ত্রী, সাংসদ বা বিধায়ক যে দলেরই হোন না কেন, আইনের চোখে সবাই সমান। পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। ফলে রাজনৈতিক পরিচয় কোনওভাবেই আইনি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ঢাল হবে না এমনই বার্তা উঠে এসেছে।



