Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দাপুটে ফুটবলে শেষ ষোলোয় ফ্রান্স। জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক এমবাপে (France vs Sweden)। গোল সংখ্যায় ক্লোজেকে আগেই ছুঁয়েছিলেন তিনি এবার ভাঙলেন তাঁর রেকর্ড। এখন এই ফরাসি তারকার গোল সংখ্যা ১৮।
‘কিলার’ এমবাপে (France vs Sweden)
ফরাসি বিপ্লবের ফের সেনাপতি কিলিয়ান এমবাপে। তবে নামের শুরুতে কিলিয়ান সরিয়ে ‘কিলার’ বললেও ভুল বলা হবে না। বিপক্ষের রক্ষণকে ভেঙে যে তছনছ করে দিতে পারেন তাঁকে আর কী বলা যায়? মাঠে বলের পজিশন নেওয়া হোক বা ফিনিশ সব জায়গায় একই রাজত্ব করলেন এমবাপে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ছুঁয়ে ফেললেন মেসিকে। দুজনেরই এখন গোল সংখ্যা ৬ (France vs Sweden)।
গোল সংখ্যা এক হলেও, অ্যাসিস্টের জন্য আর্জেন্টাইন তারকাকে পেরিয়ে গেলেন এই ফরাসি তারকা। বিশ্বকাপের নিরিখে মাত্র এক গোলে পিছিয়ে রয়েছেন এমবাপে। মেসির গোল সংখ্যা ১৯, এমবাপের ১৮। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় ভোর রাতে সুইডেনকে ৩-০ গোলে রুয়ে দিল ফ্রান্স। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম দল হিসেবে পাঁচ ম্যাচে তিন বা তারও বেশি গলা করার নজির গড়ল ফ্রান্স। তবে আবারও এই ম্যাচে যে নায়ককে ভুলে চলবে না তিনি বলেন মাইকেল ওলিসে। গোটা মাঠ জুড়ে তিনি দাপট দেখিয়েছেন। গোলের দিকে একাধিক পাসও বাড়ান। এমবাপে আর ওলিসে জুটি এই বিশ্বকাপে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: Kanchan Sreemoyee: ‘হাওয়ার মতো পাশে থেকো’, স্ত্রীকে নিয়ে কাঞ্চনের আবেগঘন পোস্টে
এমবাপের প্রথম শট ছিল নান্দনিক ফুটবলের এক অসামান্য নিদর্শন। যেখানে স্কিলই বলেছে শেষ কথা। প্রথম অর্ধের স্টপেজ টাইমে ডেম্বেলের পাস থেকে বক্সের মধ্যে সুইডেনের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তিনজনের সামনে দিয়ে ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে গোল এমবাপের। সেই সময় রেকর্ডার কথা মনে নেই সমর্থকদের। গ্যালারি জুড়ে কাজ করছে এক চরম অনুভূতি। সেই অনুভূতি তখন মাঠ পেরিয়ে টিভির সামনে বসা দর্শকদেরও আন্দোলিত করে দিচ্ছিল। গোল করেই ছুটে গেলেন দলের কোচ দেশঁর কাছে। জড়িয়ে ধরেন তাঁকে। সদ্য মাতৃভিয়োগ ঘটেছে ফ্রান্সের কোচের। এদিন নিজের প্রথম গোল দেশঁকে উৎসর্গ করেন কিলিয়ান। পায়ের ম্যাজিক নয় মাঠের বাইরে এই অনুভূতিতেও মন জয় করে নিয়েছেন এই ফরাসি তারকা। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় ভোর রাতে সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্স (France vs Sweden)।

এই ম্যাচে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজান দেশঁ। ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখতে শুরু করে ফ্রান্স। যে ত্রয়ী এবার বিপক্ষের বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দিতে বাধ্য তাঁরা হলেন ডেম্বেলে, ওলিসে এবং এমবাপে। এই তিন জনের আক্রমণে বিধ্বস্ত সুইডেনের রক্ষণ। শুরুতে একটু নড়বড়ে লাগলেও পরের দিকে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতে নিতে সময় নেয়নি ফ্রান্স। তবে এই দিন তরুণ সুইডিশ গোলকিপার পরাস্ত করে রাখেন ফ্রান্সের এই তিন তারকাকে। ম্যাচের ২০ মিনিটে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় গোল (France vs Sweden)।
ঝড়ের গতিতে সুইডেনের রক্ষণে একের পর এক হানা দিতে থাকেন ফরাসিরা। বিরতিতে ফ্রান্স ৫-০ গোলে এগিয়ে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। ম্যাচের ৩০ মিনিটে আবার সুযোগ। এবার এমবাপের শট পোস্টে লেগে। খেলার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করতে পারতেন এমবাপে। এদিন অনবদ্য ছিলেন অলিসে। প্রচুর ওয়ার্কলোড নিয়ে খেলেন এই তারকা। একইসঙ্গে একের পর এক গোলে শট। কিন্তু ভাগ্য সহায় ছিল না। ম্যাচের ৩২ মিনিটে আবার সুযোগ পায় ফ্রান্স। এবার অলিসের বাইসাইকেল কিক পোস্টে লাগে। উসমান ডেম্বেলের ফিরতি শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। তবে তাঁর এই বাইসাইকেলে কিক দর্শকদের মন জিতে নিয়েছে।
প্রথম আধ ঘন্টায় সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরে হতাশ হয়ে পড়েন এমবাপে। বার দুয়েক বক্সের বাইরে শট নেন তিনি। তবে সুইডেন বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারেনি তাঁকে। বিশ্বকাপে নিজের ১৭ তম গোল তুলে নিলেন এমবাপে। খেলার ৭৪ মিনিটে ৩-০ গোলে জয় কার্যত নিশ্চিত করে নেয় এমবাপে। বাকিটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। অন্যদিকে বিশ্বকাপে মোট পাঁচ অ্যাসিস্ট অলিসের। এবারের ফ্রান্স দল পরিপূর্ণ। প্রত্যেক ম্যাচে বদলে যাচ্ছে নায়ক। এমবাপে রয়েছেন। এছাড়াও ডেম্বেলে, অলিসেরা দুরন্ত ফর্মে আছেন। এদিন ম্যাচের ৫২ মিনিটে ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন বারকোলা। এবারও সেই অলিসের পাস থেকে। ফলে এই দলের সামনে এখন যে কোন দল পড়লে যে কী অবস্থা হবে সেটা অদৃষ্ট জানে (France vs Sweden)।


