Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইংল্যান্ডের অন্যতম ভরসার নাম হ্যারি কেন আর তাঁর জাদুতেই শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ড (England)।
লড়াই করেও হার কঙ্গোর (England)
এই মুহূর্তে টানটান উত্তেজনায় ভরা ফুটবল বিশ্বকাপ এখন মধ্য লগ্নে। একের পর এক ম্যাচ সাক্ষী থাকছে প্রাণ পাত করা লড়াইয়ের। একদিকে যখন জার্মানির মত দল বিদায় নিচ্ছে তেমন অন্যদিকে লড়াই করে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে অনেক ছোট ছোট দল। শুরুটা দুরন্ত করেও মাঝে ছন্দপতন হয় ইংরেজদের। তাঁদের শক্তি এবং দুর্বলতা দুইই হয়ে দাঁড়ায় হ্যারি কেন। কারণ তিনিই দলের মূল চালিকাশক্তি। তিনি জ্বলে উঠলেই দলের জয় আর তিনি না পারলে দলের হার (England)।
এহেন অবস্থায় রাউন্ড অফ ৩২-র পর্বে মুখোমুখি হয় কঙ্গোর। শুরু থেকেই নজর কাড়ে কঙ্গো। তাঁদের জমাট রক্ষণ ভেদ করা যেন একটা সময় পর্যন্ত ইংল্যান্ডের কাছে দুষ্কর হয়ে ওঠে। তবে শুধু তাই নয় শুরুর সাত মিনিটেই এগিয়ে যায় কঙ্গো। কিন্তু ইংল্যান্ড দলের একজন হ্যারি কেন আছেন। পিছিয়ে পড়েও দলকে জোড়া গোলে জয় এনে দিলেন। এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ড পৌঁছে গেল পরের পর্বে। তাঁদের প্রতিপক্ষ এবার মেক্সিকো (England)।
আরও পড়ুন: Gourab Khanna Divorce Rumours: সন্তানকে কেন্দ্র করেই দূরত্ব! ভাঙনের মুখে গৌরব-আকাঙ্খার সংসার
এই বিশ্বকাপ থেকে অনেকেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্বের সমীকরণ বদলে যেতে চলেছে খুব তাড়াতাড়ি। ইংল্যান্ড আর ডিআর কঙ্গোর ম্যাচ যেন সেই সূচনার একটা অংশ হয়ে থাকল। ইংল্যান্ড দল খাতায় কলমে এগিয়ে থাকলেও তাঁদের বাড়তি সমীহ করেনি কঙ্গো এবং তাঁদের বেশি পাত্তাও দেননি তাঁরা। বরং তাঁদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী মনোভাব নিয়েই খেলা শুরু করেন কঙ্গোর প্লেয়াররা (England)।

এই মেগা মঞ্চে আকরিকের এই দেশের রক্ষণ ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করতে থাকে। গোলরক্ষক লিয়োনেল এমপাসি দুরন্ত খেললেন। বেশ কয়েকটা ভাল সেভ করলেন। এমপাসির দুরন্ত সেভ দেখে হতাশা জলের বোতল আছড়ে ফেললেন ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও। কঙ্গোর অন্য ডিফেন্ডারেরাও অন্তত দু’বার গোল লাইন সেভ করলেন। কঙ্গোর রক্ষণের প্রাচীর ভাঙতে হিমশিম খেলেন জুড বেলিংহ্যামদের। এই ম্যাচেও ইংরেজ দল মন ভরাতে পারেনি।

৭৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডের তারকা শিবিরকে আটকে রাখে কঙ্গো। এই বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলি যে সংঘবদ্ধ ফুটবল খেলছে যা আগামীর বিশ্ব ফুটবলে বড় জায়গা নিয়ে চলেছে। কিন্তু সেই বিপক্ষের একজন কেন আছেন। সেই কেনই আবার সমতা ফেরালেন। তিনিই জয় নিশ্চিত করেন ৮৬ মিনিটে। গর্ডনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ডান পায়ের জোরাল শটে পরাস্ত করেন কঙ্গোর গোলরক্ষককে। সমতা ফেরানোর পরেই ইংল্যান্ড দল কিছুটা গা ঝেরে ওঠে। এরপর তাঁরা চেপে ধরে কঙ্গোকে। শুরুর দিকে যে ফুটবল কঙ্গো খেলেছে সেটা শেষ ১০-১৫ মিনিটে আর দেখা যায়নি (England)।
৬০ মিনিটে রাশফোর্ড এবং ননি মাদুকে তুলে নিয়ে টুখেল বুকায়ো সাকা এবং গর্ডনকে নামানোর পর ইংল্যান্ডকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক মনে হয়েছে তবে সেক্ষেত্রে যেন তাঁদের আগে নামানো হল না সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে। ইংল্যান্ড কোচের এই পরিবর্তনই রং বদলে দেয় ম্যাচের। ৭০ মিনিটে জেড স্পেন্সকে তুলে নামান এবেরেচি এজেকে। দলকে অলআউট আক্রমণে তুলে দেন মরিয়া হয়ে। তাতেই চাপে পড়ে যায় কঙ্গোর রক্ষণ।
কেন দলকে জেতালেন। ১৩ গোল করে বিশ্বকাপে গোলের তালিকায় টপকে গেলেন পেলেকেও। তিনিই নিঃসন্দেহে দিনের শেষে ইংরেজ শিবিরের নায়ক। তবু পেনাল্টির আশায় ওই ঝাঁপটা বিতর্কিত হয়ে থাকবে। প্রযুক্তি, ক্যামেরায় মোড়া বিশ্বকাপে যা দেখল গোটা ফুটবল বিশ্ব (England)।


