Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাহাঙ্গীর বাদশা, পূর্ব মেদিনীপুর: পূর্ব মেদিনীপুর জেলার (Kolaghat Chit Fund Scam) কোলাঘাট থানার অন্তর্গত কোলাঘাট ব্লকের দেড়িয়াচক গ্রামের পশ্চিম মহল এলাকায় অবস্থিত ‘অগ্রদূত সংঘ সঞ্চয় প্রকল্প’-কে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বহু মানুষ এই সঞ্চয় প্রকল্পে নিয়মিত টাকা জমা করলেও এখন আর সেই টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্রতারিত গ্রাহকেরা অগ্রদূত সংঘের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন।
কী দাবি জনগণের? (Kolaghat Chit Fund Scam)
অভিযোগকারীদের দাবি, সপ্তাহে সপ্তাহে তাঁরা (Kolaghat Chit Fund Scam) কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয় প্রকল্পে জমা দিয়েছেন ভবিষ্যতের সুরক্ষার আশায়। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর কিংবা প্রয়োজনের সময় সেই টাকা চাইতে গেলে নানা অজুহাতে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদেরও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ।
কার বিরুদ্ধে অভিযোগ? (Kolaghat Chit Fund Scam)
এই ঘটনায় মূল অভিযোগের তির অগ্রদূত সংঘের সভাপতি সুরজিৎ মান্নার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং একসময় কোলাঘাট পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
প্রতারিত গ্রাহকদের অভিযোগ, এই সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন সেই টাকা ফেরত না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বহু পরিবার। তাঁদের দাবি, দ্রুত সমস্ত আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে হবে। প্রয়োজনে ক্লাবের সম্পত্তি এবং অভিযুক্তদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করেও গ্রাহকদের পাওনা টাকা মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
লিখিত অভিযোগ দায়ের
ইতিমধ্যেই একাধিক প্রতারিত গ্রাহক কোলাঘাট থানায় সুরজিৎ মান্নার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোলাঘাট থানার পুলিশ।
আরও পড়ুন: Tangra Tok Recipe: শেষ পাতে ট্যাংরার টক, স্বাদে গন্ধে দারুণ!
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সুরজিৎ মান্নাকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাঁর বাড়িতে গেলেও তাঁর দেখা মেলেনি। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এই অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতারিত গ্রাহকদের একটাই দাবি-তাঁদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


