Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ত্রয়ণ চক্রবর্তী: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার উদ্যোগে এবং লোকসভার পিআরআইডি (PRIDE)-এর সহযোগিতায় ৩ ও ৪ জুলাই নিউ টাউন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত হয়েছে ১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্যদের জন্য দু’দিনের ‘লেজিসলেটিভ বিজনেস’ ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি। নতুন ও পুরনো বিধায়কদের সংসদীয় কার্যপ্রণালি, বিধানসভার নিয়ম-কানুন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও দক্ষ করে তুলতেই এই উদ্যোগ। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী, বিধানসভার অধ্যক্ষ, মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিধায়করা। তবে অনুষ্ঠানের শুরুতেই বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে (Mustafizur Rehman Rana)।
নতুন বিধায়কদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ (Mustafizur Rehman Rana)
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার বিধানসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের অনেকেরই সংসদীয় কার্যপ্রণালি সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সীমিত। সেই কারণেই বিধানসভার কার্যক্রম, প্রশ্নোত্তর পর্ব, আলোচনার নিয়ম, বিল পেশ ও পাসের প্রক্রিয়া, কমিটির ভূমিকা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির শুধু রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকলেই হয় না, সংসদীয় বিধি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এই ধরনের প্রশিক্ষণ সেই অভাব অনেকটাই পূরণ করতে পারে।
কুণাল ঘোষের ওয়াক আউট ঘিরে জল্পনা (Mustafizur Rehman Rana)
কর্মসূচিতে অন্য বিধায়কদের মতোই উপস্থিত হয়েছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কিন্তু উদ্বোধনী পর্ব শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁর তরফে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি, ফলে তাঁর এই পদক্ষেপের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
সিপিআই(এম)-এর একমাত্র বিধায়কের ইতিবাচক বার্তা
ডোমকলের বিধায়ক তথা সিপিআই(এম)-এর একমাত্র বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিধানসভার স্পিকার এবং কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে এমন কর্মসূচি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁর মতে, বর্তমান বিধানসভায় প্রায় ২০০-র কাছাকাছি নতুন বিধায়ক রয়েছেন। ফলে সংসদীয় নিয়ম, বিধানসভার কার্যপ্রণালি এবং আইন প্রণয়নের পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, “একজন ভালো পার্লামেন্টারিয়ান হতে গেলে সংসদীয় নিয়ম-কানুন জানা খুবই দরকার। এই ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও নিয়মিত হওয়া উচিত।”
শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ নয়, বাস্তব প্রয়োগই আসল
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু একদিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর বক্তব্য, “প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য নিজেকে আরও দক্ষ করে তোলা। কিন্তু সেই শিক্ষা যদি বাস্তবে কাজে না লাগানো হয়, তাহলে প্রশিক্ষণ শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ হিসেবেই থেকে যাবে।” বিধানসভায় অতীতে ভাঙচুর, কাগজ ছেঁড়া, বয়কট কিংবা বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এসব আচরণের পরিবর্তন আনতে হলে ধারাবাহিকভাবে সংসদীয় সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য (Mustafizur Rehman Rana)
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্য—মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ওড়িশা থেকে বিধানসভার স্পিকাররা এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সমস্ত সদস্যদের একত্রিত করে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি অবিভক্ত বাংলার ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, একসময় বিধানসভার নাম ছিল “আইনসভা”। তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার উল্লেখ করে বলেন, তাঁর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যেতে পেরেছিল। শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, অতীতে তাঁকে পাঁচবার বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের মর্যাদা ও সংসদীয় গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বাংলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরলেন বিরোধী দলনেতা
নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ, শিক্ষা, শিল্প এবং পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর কথায়, “বাংলার গণতন্ত্র এবং পার্লামেন্টারি সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করব। বাংলার উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।”

কে মুস্তাফিজুর রহমান রানা? (Mustafizur Rehman Rana)
মুস্তাফিজুর রহমান রানা পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল কেন্দ্রের বিধায়ক এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর অন্যতম পরিচিত নেতা (Mustafizur Rehman Rana)। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ডোমকল কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বর্তমান বিধানসভায় বামফ্রন্টের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে প্রবেশ করেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর সিপিআই(এম) তাঁকে রাজ্য কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ দায়িত্ব প্রদান করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান বিধানসভায় বামপন্থী রাজনীতির একমাত্র কণ্ঠস্বর হিসেবে তাঁর ভূমিকা আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন: Debraj Chakraborty: তোলাবাজি থেকে ভিন রাজ্যে বিনিয়োগ! দেবরাজ কাণ্ডে আর কী কী তথ্য উঠে আসছে?
সংসদীয় সংস্কৃতি শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য
এই দু’দিনের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র বিধায়কদের নিয়ম শেখানো নয়, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে তাঁদের আরও সচেতন করে তোলা।



