Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পশ্চিমবঙ্গের বহুচর্চিত পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার কেন্দ্রবিন্দুতে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা (Sujit Bose)। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র হাতে গ্রেফতারের পর আদালতে তাঁর হেফাজত চেয়ে বিস্ফোরক একের পর এক অভিযোগ তুলে ধরেন ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী। অন্যদিকে, সুজিত বসুর আইনজীবী অমলেশ সরকার পাল্টা দাবি করেন এই গ্রেপ্তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আইনি ভিত্তিহীন। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালত রায় স্থগিত রাখে।

আদালতে ইডির বিস্ফোরক দাবি (Sujit Bose)
ইডির বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক আর্থিক লেনদেন, সন্দেহজনক সম্পত্তি এবং তথাকথিত চাকরি সুপারিশের অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত অয়ন শীলের জবানবন্দিতে সুজিত বসুর নাম উঠে এসেছে। ইডির আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানকে প্রায় ৪০ জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, আরও বহু ব্যক্তির নাম সুপারিশের মাধ্যমে মোট প্রায় ১৫০ জনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার পেছনে বেআইনি আর্থিক লেনদেন চলত।
কোটি কোটি টাকার লেনদেন! (Sujit Bose)
ইডির দাবি অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল সম্পত্তি গচ্ছিত রাখা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁ এবং একটি ধাবার অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিক পরিমাণ নগদ লেনদেনের তথ্য। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অভিযোগ, করোনা অতিমারির সময় যখন বিধিনিষেধের কারণে অধিকাংশ রেস্তোরাঁ কার্যত বন্ধ ছিল, তখনও সংশ্লিষ্ট একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকার লেনদেন হয়। একইভাবে একটি ধাবার অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ জমা পড়ার অভিযোগ তুলেছে ইডি।

তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জানায় (Sujit Bose)
কোথাও ৬৮ লক্ষ টাকা, কোথাও ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা, আবার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৬৭ লক্ষ, ১ কোটি ২ লক্ষ, ১.৬ কোটি ও ১.৮ কোটির মতো বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। ইডির দাবি, এই সমস্ত লেনদেনের উৎস এবং উদ্দেশ্য অত্যন্ত সন্দেহজনক।
“টাকা ও বাড়ির বিনিময়ে চাকরি” (Sujit Bose)
আদালতে ইডির তরফে দাবি করা হয়, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা এবং বাড়ি নেওয়া হত। তদন্তকারীদের মতে, প্রতিটি লেনদেন আলাদা আলাদা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যাতে সরাসরি যোগসূত্র আড়াল করা যায়। ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫টি কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। “স্বভূমি প্রাইভেট প্রজেক্ট” নামের একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টেও সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
এছাড়াও আদালতে উল্লেখ করা হয় (Sujit Bose)
২০১৪ সালে ABS Infozone, ২০১৬ সালে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, এই দুই সংস্থার সঙ্গে সুজিত বসুর শেয়ার সংক্রান্ত যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ইডির দাবি, একটি সংস্থায় তাঁর ৬৭ শতাংশ এবং অন্যটিতে ১৬ শতাংশ শেয়ার ছিল।

“ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট হতে পারে” (Sujit Bose)
ইডি আদালতে দাবি করে, সুজিত বসু অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও তিনি জামিন পেলে সাক্ষী ও প্রমাণ প্রভাবিত করতে পারেন।
তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ (Sujit Bose)
ডিজিটাল ডকুমেন্ট ট্যাম্পার করা হয়েছে, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও অর্থ লেনদেনের সূত্র মিলেছে। এই সমস্ত কারণ দেখিয়ে ইডি ১০ দিনের হেফাজত চায়।
“চার্জশিটে নামই নেই” (Sujit Bose)
অন্যদিকে সুজিত বসুর আইনজীবী অমলেশ সরকার আদালতে দাবি করেন, সিবিআইয়ের মূল চার্জশিটে তাঁর মক্কেলের নামই নেই। তিনি আদালতে বলেন, ৩০ জুন ২০২৪-এ জমা দেওয়া চার্জশিটে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান এবং অয়ন শীলের নাম ছিল। পরবর্তী অতিরিক্ত চার্জশিটেও স্থানীয় সংস্থার একজন ডিরেক্টরের নাম থাকলেও সুজিত বসুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিরক্ষার বক্তব্য, তদন্ত শেষ হওয়ার পরেও যদি কোনও চার্জশিটে নাম না থাকে, তাহলে হঠাৎ ২০২৬ সালে গ্রেপ্তারির ভিত্তি কোথায়?
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা যায় না (Sujit Bose)
সুজিত বসুর আইনজীবী আদালতে পিএমএলএ আইনের বিভিন্ন ধারা তুলে ধরে দাবি করেন, শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না, গ্রেপ্তারের আগে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ দেখাতে হয়, ইডি বারবার সমন পাঠালেও তাঁর মক্কেল তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তিনি আদালতে আরও বলেন, তাঁকে প্রায় ৫০টি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল এবং প্রতিবারই তিনি হাজিরা দিয়েছেন। ১ মে ডাকার পর আবার ১১ মে ডাকা হয়, এবং সেদিনই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আইনজীবীর প্রশ্ন, “যদি এতদিন তদন্ত চলেই থাকে, তাহলে চার বছর পরে হঠাৎ গ্রেপ্তার কেন?” ইডির পাল্টা যুক্তি: “তদন্তের ভিত তৈরি হওয়ার পরই গ্রেপ্তার” ইডির তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, কোনও তদন্তে প্রাথমিক তথ্য সামনে এলেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয় না। প্রথমে তথ্য যাচাই, আর্থিক নথি সংগ্রহ এবং লেনদেনের চেইন তৈরি করা হয়।

তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জানায় (Sujit Bose)
“একটি দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়েই আরও একটি দুর্নীতির সূত্র উঠে এসেছে।” ইডির বক্তব্য, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত চলাকালীনই পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির তথ্য সামনে আসে। ২০২২ সালে প্রাথমিক তথ্য মিললেও, তা যাচাই করে শক্ত ভিত্তি তৈরি করার পরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Sujit Bose: দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার সুজিত বসুকে আদালতে পেশ
আদালতের সিদ্ধান্ত: রায় স্থগিত
দুই পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর আদালত তাৎক্ষণিক কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। হেফাজত না জামিন তা নিয়ে রায় স্থগিত রাখা হয়েছে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকে। কারণ এই মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন আর্থিক লেনদেন, কোম্পানির যোগসূত্র এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলেও এই মামলা নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।



