Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা তথা বিধাননগর পুরসভার কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তোলাবাজি, আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি, ভোট-পরবর্তী হিংসাসহ একাধিক অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সন্ধান পাচ্ছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর (Debraj Chakraborty)।

দেবরাজ চক্রবর্তীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপ, নথিপত্র এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি হস্তান্তর এবং একাধিক সংস্থার সঙ্গে আর্থিক যোগসূত্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
ল্যাপটপ থেকে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য (Debraj Chakraborty)
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপে এমন একাধিক নথি ও তথ্য মিলেছে যা আর্থিক লেনদেনের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে “ডিসি গ্লোবাল” নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বা ‘সাইফন’ করার সম্ভাব্য তথ্য তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ওই সংস্থার মাধ্যমে আদৌ বেআইনিভাবে অর্থ অন্যত্র সরানো হয়েছিল কি না, এবং যদি হয়ে থাকে, সেই অর্থের উৎস ও গন্তব্য কোথায় ছিল। প্রয়োজনে আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার সহায়তাও নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে (Debraj Chakraborty)।
সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে বাড়ছে সন্দেহ (Debraj Chakraborty)
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন বা হস্তান্তর সংক্রান্ত তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সংশ্লিষ্ট নথিগুলি খতিয়ে দেখে বোঝার চেষ্টা চলছে, এই সম্পত্তিগুলি বৈধ উপায়ে অর্জিত হয়েছিল কি না এবং পরবর্তীতে কার নামে বা কীভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই সম্পত্তিগুলির প্রকৃত বাজারমূল্য, ক্রয়-বিক্রয়ের আর্থিক উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

একাধিক সংস্থার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের খোঁজ
তদন্তে উঠে এসেছে, দেবরাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে একাধিক বেসরকারি সংস্থার আর্থিক লেনদেনের তথ্য। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে হওয়া এই লেনদেনের প্রকৃতি, বিনিয়োগের উদ্দেশ্য এবং আর্থিক উৎস নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলে তদন্তকারী মহলের ধারণা।
ঝাড়খণ্ডের ব্যবসায়ীর সঙ্গে আর্থিক যোগসূত্র (Debraj Chakraborty)
তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেবরাজ চক্রবর্তীর আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। শুধু ব্যবসায়িক সম্পর্কই নয়, ওই ব্যবসায়ীর মালিকানাধীন একটি রিসোর্ট ও হোটেল প্রকল্পেও বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের সম্ভাবনার তথ্য সামনে এসেছে। এর ফলে তদন্তের পরিধি এখন পশ্চিমবঙ্গের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভিন রাজ্যেও বিস্তৃত হতে চলেছে। ঝাড়খণ্ডে সংশ্লিষ্ট হোটেল ও রিসোর্ট প্রকল্পে বিনিয়োগের উৎস, পরিমাণ এবং আইনি বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভিন রাজ্যে বিনিয়োগের দিকেও নজর পুলিশের (Debraj Chakraborty)
পুলিশ এখন বিশেষভাবে অনুসন্ধান করছে, দেবরাজ চক্রবর্তী কি শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই নয়, অন্য রাজ্যেও হোটেল বা আতিথ্য শিল্পে বিনিয়োগ করেছিলেন? যদি করে থাকেন, সেই বিনিয়োগের অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং তা বৈধ উপায়ে হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তোলাবাজির মামলায় গঠিত হল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)
দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তোলাবাজির মামলার তদন্ত আরও জোরদার করতে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট একটি ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। এই সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন এক ডেপুটি কমিশনার (ডিসি)। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট থানার আইসি এবং আরও চারজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ পুলিশ আধিকারিক। তদন্তের প্রতিটি দিক দ্রুত এবং পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখাই এই বিশেষ দলের প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: Samantha Ruth Prabhu Pregnancy: সি ইউ সিক্স প্যাক: মা হচ্ছেন সামান্থা
একাধিক মামলার তদন্তে গতি (Debraj Chakraborty)
দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে থাকা তোলাবাজি, আয়-বহির্ভূত সম্পত্তি, ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত এখন সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে। উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য, আর্থিক নথি, সম্পত্তির কাগজপত্র এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার সঙ্গে লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছেন।



