Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে (Baruipur)। ঘটনার প্রতিবাদে যেমন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ রাস্তায় নেমে এসেছে, তেমনই রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে সক্রিয় হয়েছে। সোমবার নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল। তবে সেই সফরের শুরুতেই একাধিক জায়গায় পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় প্রতিনিধিদের।

গড়িয়া থেকে সোনারপুর (Baruipur)
সোমবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেসের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল বারুইপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিধায়ক বিভাস সর্দার। তবে যাত্রাপথে গড়িয়া, সোনারপুর-সহ একাধিক এলাকায় তাঁদের গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা বলবৎ থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু সময়ের জন্য প্রতিনিধি দলের যাত্রা ব্যাহত হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে পৌঁছতে সক্ষম হন।
মমতার নির্দেশে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা (Baruipur)
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। পরিবারের সদস্যদের মানসিকভাবে সাহস জোগানোর পাশাপাশি সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তাঁরা। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁরা নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। দলনেত্রীর বার্তা পৌঁছে দিয়ে তিনি বলেন, সরকার এবং দল দু’পক্ষ থেকেই পরিবারের পাশে থাকা হবে এবং ন্যায়বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ক্ষোভের আগুনে ফুঁসছে বারুইপুর (Baruipur)
বারুইপুরের ধপধপি এলাকায় রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ মানুষ মৃতদেহ রাস্তার উপর রেখে অবরোধ করেন। পাশাপাশি রেল অবরোধও হয়, যার জেরে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়। ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও সিট গঠন (Baruipur)
ঘটনার খবর পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীর নির্দেশে ঘটনার দিনই বিকেলের মধ্যে একটি ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়। এই তদন্তের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্ত।
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার (Baruipur)
পুলিশ তদন্ত শুরু করার পর দ্রুত সাফল্য আসে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই দ্রুত গ্রেপ্তারকে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি—শুধু গ্রেপ্তার নয়, দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেও ন্যায়বিচারের দাবি
বারুইপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনা এখন রাজ্যের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে শাসকদল দাবি করছে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নির্যাতিতার পরিবারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে এগোয় এবং আদালতের মাধ্যমে কত দ্রুত নির্যাতিতার পরিবার প্রকৃত ন্যায়বিচার পায়।

আরও পড়ুন: Diabetes Cure Temple: মন্দিরে গেলেই সারবে সুগার! কোথায় জানেন?
এখন নজর তদন্ত ও বিচারের গতির দিকে
বারুইপুরের এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি ফৌজদারি মামলাই নয়, বরং নারী নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। প্রতিনিধি দলের সফর, প্রশাসনের তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলন—সবকিছুর মধ্যেই এখন একটাই প্রত্যাশা, নির্যাতিতার পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।



