Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বারুইপুরের নির্যাতিতার সুবিচারের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা প্রতিবাদ মিছিল শুরু হওয়ার আগেই কলকাতার বালিগঞ্জ এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় (Ballygunge TMC)। বালিগঞ্জ থেকে হাজরা পর্যন্ত নির্ধারিত এই মিছিলকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। তবে মিছিল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগেই স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরির অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই এই প্রতিবাদ ও স্লোগান উঠেছে।

মিছিল শুরুর আগেই স্লোগান যুদ্ধ (Ballygunge TMC)
অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা জমায়েত শুরু করার সময় বিরোধী সমর্থকদের একাংশ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। সেই স্লোগানকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা তৃণমূল কর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। ফলে দুই পক্ষের স্লোগানকে ঘিরে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং নিরাপত্তা বলয় আরও জোরদার করা হয়। যদিও পরিস্থিতি বড় ধরনের সংঘর্ষে না গড়ালেও কিছু সময়ের জন্য এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
আদালতের শর্ত মেনেই মিছিলের অনুমতি (Ballygunge TMC)
এই মিছিল আয়োজনের আগে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে। আদালত মিছিলের অনুমতি দিলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষ মিছিলে অংশ নিতে পারবেন না। যান চলাচলে যাতে দীর্ঘক্ষণ বিঘ্ন না ঘটে, সেই বিষয়ে বিশেষ নজর রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব পুলিশ ও আয়োজকদের যৌথভাবে পালন করতে হবে। নির্ধারিত রুট এবং সময়সূচি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করতে কলকাতা পুলিশ আগেভাগেই এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৃণমূলের (Ballygunge TMC)
ঘটনার পর তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, মিছিল শুরুর আগেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, পুলিশ আগে থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক থাকলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তৃণমূলের বক্তব্য, সুবিচারের দাবিতে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে রাজনৈতিকভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

বিজেপির পাল্টা দাবি (Ballygunge TMC)
অন্যদিকে বিজেপির দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের বক্তব্য, কোনও পরিকল্পিত কর্মসূচি নয়, বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ থেকেই এই ধরনের স্লোগান উঠেছে। বিজেপির মতে, রাজ্যের সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা এবং দুর্নীতির অভিযোগের জেরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ঘটনায়। তবে বিরোধী শিবিরের এই দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর
বারুইপুরের নির্যাতিতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘটনাটির তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারকে আক্রমণ করছে। ফলে একটি ফৌজদারি ঘটনার পাশাপাশি বিষয়টি এখন বড় রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিয়েছে।
নিরাপত্তায় কড়া নজর (Ballygunge TMC)
মিছিলকে ঘিরে বালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট, রাসবিহারী এবং হাজরা সংলগ্ন এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয় এবং নজরদারির জন্য সিসিটিভি ও ভিডিওগ্রাফির ব্যবস্থাও রাখা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সতর্ক থাকায় শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।

আরও পড়ুন: Shapoor Zadran Death: আফগান ক্রিকেটে শোকের ছায়া, প্রয়াত প্রাক্তন পেসার শাপুর জাদরান
রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত
বালিগঞ্জে মিছিল শুরুর আগেই স্লোগান-পাল্টা স্লোগানের ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে যে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ এখনও অত্যন্ত উত্তপ্ত। বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান ক্রমশ মুখোমুখি হয়ে উঠছে। আগামী দিনে এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি, পাল্টা অভিযোগ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ রাজ্যের রাজনীতিতে আরও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।



