Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কেটিভি বাংলা ডিজিটাল : ইডি-এর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় অস্বস্তি বাড়ল কালীঘাট তৃণমূলের (Calcutta High Court)। অ্যাকাউন্টগুলো থেকে লেনদেনের অনুমতির আবেদনে সাড়া দিল না হাইকোর্ট। সোমবার এই মামলায় কোনও স্থগিতাদেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। তৃণমূলের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে কোনও হস্তক্ষেপই করলেন না বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ফলে অ্যাকাউন্টগুলো থেকে লেনদেন করতে পারবে না তৃণমূল। ২১ জুলাইয়ের আগে চরম অস্বস্তি বাড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের।
তৃণমূলের অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ (Calcutta High Court)
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় অস্বস্তি বাড়ল কালীঘাট তৃণমূলের। পুলিশ তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করলে, তা খুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের নজরদারিতে একাধিক শর্ত সাপেক্ষে সেই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে লেনদেনের অনুমতি দিয়েছেন। তারপরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তৃণমূলের তীনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আলাদা করে ফ্রিজ করে। সেই অ্যাকাউন্ট গুলো ব্যবহারের আর্জি জানিয়ে নতুন করে হাইকোর্টে আবেদন করে কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সোমবার সেই মামলায় হস্তক্ষেপই করলেন না বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ইডির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের উপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের আবেদন করেছিল তৃণমূল। সেই আবেদনও এদিন খারিজ করে দেন বিচারপতি রাও। বিচারপতি পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, ইডি এই মুহূর্তে তদন্ত করছে। তাই এই মুহূর্তেই ইডির ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্ট নিয়ে আদালত কোনওরকম হস্তক্ষেপ করবে না। গত সপ্তাহেই এই মামলার চূড়ান্ত শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, হাইকোর্টের নির্দেশের পরও কী করে ইডি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে পারে! কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি বিচারপতি রাও।
১৬৪ কোটির লেনদেনের হিসাব চেয়ে ইডির চিঠি (Calcutta High Court)
তদন্তে নেমে ইডি সম্প্রতি তৃণমূলের এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শরৎ বোস রোডের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দাবি করে, তৃণমূলের ওই তিন অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিস মিলছে। অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করার পর ১৬৪ কোটি টাকার লেনদেনের হিসাবে চেয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠিও দিয়েছে ইডি।

একুশে জুলাইয়ের আগে অস্বস্তিতে ‘কালীঘাট’ তৃণমূল (Calcutta High Court)
ইডির ফ্রিজ করা ওই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহারের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। কিন্তু সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ওই মামলায় হস্তক্ষেপই করলেন না। ফলে স্পেশাল অফিসারের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থেকে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ কম অঙ্কের টাকা তুলতে পারবে বলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা ইডির মামলায় কার্যকর হল না। স্বাভাবিকভাবেই একুশে জুলাইয়ের আগে আরও অস্বস্তিতে পড়ল ‘কালীঘাট’ তৃণমূল।
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ ‘কালীঘাট’ তৃণমূল
গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর আড়াআড়িভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে দল। একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের তৃণমূল এবং অপরটি বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। ভাঙনের পর দলের তহবিল কাদের হাতে থাকবে সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম সংঘাত। দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে চিঠি দিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে তৃণমূলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানান দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। অরূপের আবেদনকে সমর্থন জানিয়ে এরপরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পুলিশের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রত শিবিরের ১০ বিধায়ক। সেই আবেদনের ভিত্তিতে তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার যাতে কোনও রকম লেনদেন না হয়, তার জন্য ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেয় পুলিশ। এরপরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট গুলো খুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল।
আরও পড়ুন : CJP protest: পুলিশি বাধা ভেঙেও সংসদ অভিযানে সিজেপি, দিল্লিতে বাড়ছে সংঘাত
সেই মামলায় গত ৯ জুলাই শর্তসাপেক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তথা কালীঘাট তৃণমূলকে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয় হাইকোর্ট। অ্যাকাউন্ট গুলির প্রতিদিনের লেনদেনের উপর নজরদারি রাখার জন্য স্পেশাল অফিসার হিসেবে হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে নিয়োগ করে হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্য নির্দেশ দেন, প্রতিদিনের খরচ ছাড়া বড় কোনও খরচ করতে স্পেশাল অফিসারের অনুমোদন নিতে হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই নির্দেশ বলবৎ থাকবে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সেই দিন তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। বিচারপতি নির্দেশ দিতে গিয়ে বলেন, মামলাকারীদের অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করার অধিকার আছে। আদালত হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ অফিসার নিয়োগ করছে। তিনি তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের উপর নজর রাখবেন।

ওই তিন অ্যাকাউন্টের দলের দুই সিগনেচার অথরিটি এবং শুভাশিস চক্রবর্তীর মধ্যে যে কোনও দু’জনকে চেকে সই করার অনুমতি দিচ্ছে আদালত। তারপর ওই চেকে কাউন্টার সই করবেন স্পেশাল অফিসার। তারপর সেই চেক ব্যাঙ্কে জমা পড়বে। প্রতিদিনের খরচের জন্য এই অ্যাকাউন্ট গুলো থেকে চেক ইস্যু করা যাবে। বড় কোনও খরচের জন্য স্পেশাল অফিসার হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের অনুমতি নিতে হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই তিন অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ব্যবহার করা যাবে। এবং ততদিন পর্যন্ত স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিযুক্ত থাকবেন প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। তবে তদন্ত যেমন চলছে, তেমন চলবে। পরবর্তী শুনানিতে তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তের অগ্ৰগতি রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে। আদালত তদন্তে কোনরকম হস্তক্ষেপ করবে না। কোন পক্ষকে দলের প্রতীকের মালিকানা দেওয়া হবে বা কারা আসল তৃণমূল, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। ২১ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি।
আরও পড়ুন : Madhya Pradesh: উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ! কেন-বেতওয়া প্রকল্পের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন আদিবাসীরা
হাইকোর্ট যেদিন এই নির্দেশ দেয়, তার আগের দিনই তৃণমূলের অ্যাকাউন্টগুলো নতুন করে ফ্রিজ করে ইডি। তাই হাইকোর্টের নির্দেশের পরও তৃণমূল এই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে লেনদেন করতে পারছিল না। তাই অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহারের জন্য নতুন করে হাইকোর্টে আবেদন করে তৃণমূল। কিন্তু সোমবার তৃণমূলের সেই আবেদনে হস্তক্ষেপই করলেন না বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ফলে ইডির মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর শর্তসাপেক্ষে স্পেশাল অফিসারের নজরদারিতে অ্যাকাউন্টগুলো থেকে লেনদেনের নির্দেশ এক্ষেত্রে কার্যকর হল না। ফলে অ্যাকাউন্টগুলো থেকে লেনদেন করতে এখনও পারবে না কালীঘাট তৃণমূল।



