Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লি পুলিশের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পূর্বঘোষিত সংসদ অভিযানে নামে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP protest)। প্রশাসনের তরফে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল, সংসদমুখী এই কর্মসূচির জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকি অনুমতির আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর করা হতো না বলেই জানিয়ে দেয় পুলিশ। কারণ হিসেবে সংসদ ভবন ও সংলগ্ন এলাকার উচ্চ নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সম্ভাব্য অবনতির কথা উল্লেখ করা হয়। তবে পুলিশের এই অবস্থানের পরও আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি থেকে সরে আসেননি। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনও বাধাই তাঁদের আন্দোলন থামাতে পারবে না।

ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, পুলিশের লাঠিচার্জ (CJP protest)
সোমবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলনকারীদের ভিড় বাড়তে থাকে। সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার উদ্দেশ্যে মিছিল এগোতেই পুলিশ একাধিক ব্যারিকেড বসিয়ে পথ আটকায়। অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, ঠেলাঠেলি এবং উত্তেজনার জেরে গোটা এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
৫ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা মোতায়েন
সম্ভাব্য অশান্তির আশঙ্কায় রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নজিরবিহীন। প্রায় পাঁচ হাজার পুলিশকর্মী ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যকে যন্তর মন্তর এবং সংসদ সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা বলয় এতটাই কড়া করা হয়েছিল যে সংসদের দিকে যাওয়ার প্রায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। পাশাপাশি একাধিক এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয় এবং নজরদারির জন্য অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

১৬৩ ধারা জারি, পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যন্তর মন্তর ছাড়া রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৬৩ ধারা কার্যকর করা হয়। এই নির্দেশ অনুযায়ী পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বাধা দেওয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
বন্ধ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন (CJP protest)
নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন সাময়িকভাবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলি হল, রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, সেবা তীর্থ, প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্টেশনগুলিতে যাত্রী পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এর ফলে রাজধানীর যাতায়াতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।
কেন এই আন্দোলন? (CJP protest)
ককরোচ জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের অভিযোগ, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়েছে এবং এর দায় সরকারের এড়ানোর সুযোগ নেই। এই দাবিকেই সামনে রেখে সংসদ অভিযান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুকের অনশন ঘিরেও বিতর্ক (CJP protest)
এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসেন। টানা ২১ দিন অনশনের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। এই পদক্ষেপ ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল থেকেই সোনম ওয়াংচুক সরকারকে তিনটি শর্ত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার যদি ওই শর্তগুলির মধ্যে অন্তত একটি মেনে নেয়, তবে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত।
আরও পড়ুন: Taslima Nasrin: তসলিমার কলকাতায় ফেরা নিয়ে এবার নতুন সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন
রাজধানীতে উত্তেজনা, নজর প্রশাসনের
সংসদ অভিযান ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা তাঁদের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে পুলিশও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।



