Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জিয়ারুল হক: সিকিমে টানেল নির্মাণের কাজে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল নাগরাকাটা ব্লকের মনমোহনধুরা গ্রামের যুবক অর্জুন সাউতালের (Sikkim Tunnel)। গতকাল তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার ও গোটা এলাকাজুড়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে (Sikkim Tunnel)
প্রায় এক মাস আগে বাড়তি উপার্জনের আশায় সিকিমে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন অর্জুন সাউতাল। সেখানেই কাজ করার সময় দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই স্তব্ধ মনমোহনধুরা গ্রাম। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গোটা পরিবেশ।
দুঃস্বপ্নে পরিণত (Sikkim Tunnel)
অর্জুন সাউতাল ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য। পরিবারে বাবা-মা, চার ভাই এবং বৌদিদের নিয়ে বড় সংসার। সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নে পরিণত হল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে (Sikkim Tunnel)
মাল মহকুমা থেকে এখনও পর্যন্ত সিকিমের এই টানেল দুর্ঘটনায় মোট ছয়জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এর মধ্যে মেটেলি ও নাগরাকাটা ব্লক মিলিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একের পর এক মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর গোটা মহকুমাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে (Sikkim Tunnel)।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ (Sikkim Tunnel)
নাগরাকাটা ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। বাধ্য হয়েই বহু যুবক জীবিকার সন্ধানে ভিন রাজ্যে পাড়ি দেন। কিন্তু জীবিকার সন্ধানে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে বহু মানুষকে আর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিন রাজ্যে কাজের খোঁজে যেতে হতো না।
অসিত মাইতি জানান (Sikkim Tunnel)
দুর্ঘটনার সময় টানেলের বাইরে কর্মরত প্রত্যক্ষদর্শী অসিত মাইতি জানান, আচমকাই একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই বিস্ফোরণের লাল আগুনে টানেলের মুখ আলোকিত হয়ে ওঠে। এরপরই তিনি ও অন্যান্য কর্মীরা টানেলের ভেতরে থাকা শ্রমিকদের খোঁজ শুরু করেন। তবে বিস্ফোরণে টানেলের ভেতরের টেলিফোন-সহ যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজের শুরুতেই বড় বাধার সৃষ্টি হয়।
আসিত মাইতির কথায় (Sikkim Tunnel)
বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। প্রথমদিকে যেসব শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা হয়, সেগুলি এতটাই ঝলসে গিয়েছিল যে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: July21 Mamata: রাতভর ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে পাহারায় ছিল মমতা-অভিষেক!
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের পর টানেলের ভেতরে তাপমাত্রা ও আগুনের তীব্রতা দ্রুত বেড়ে যায়। ভেতরে থাকা বহু শ্রমিক মিথেন গ্যাসের প্রভাবে প্রাণ হারান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকা শোকস্তব্ধ। সহকর্মীদের এভাবে প্রাণ হারাতে দেখে অন্যান্য শ্রমিকরাও গভীরভাবে মর্মাহত।
শোকপ্রকাশ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের
সিকিমের নামচিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক টানেল ধসের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর. এন. রবি। এই দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি তিনি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। লোকভবনের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত ও নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করেছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন (Sikkim Tunnel)।



