Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাঁরা সময়ের সীমানা অতিক্রম করে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন (Uttam Kumar)। তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছেন মহানায়ক উত্তম কুমার। মৃত্যুর ৪৭ বছর পরেও তাঁর জনপ্রিয়তা এতটুকু ম্লান হয়নি। বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করছে। ২৪ জুলাই, ২০২৬ মহানায়কের ৪৭তম প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করা হল বাংলা সিনেমার এই অবিস্মরণীয় নক্ষত্রকে।
কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি (Uttam Kumar)
শুক্রবার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকালেই কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মহানায়ক উত্তম কুমারের নতুন আবক্ষ মূর্তি এবং একটি স্মারকফলক উন্মোচন করেন তিনি। মূর্তিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী তথা সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, গেরুয়া শিবিরের একাধিক নেতা-নেত্রী এবং বিশিষ্ট অতিথিরা।
তারকাদের উপস্থিতিতে আবেগঘন পরিবেশ (Uttam Kumar)
মহানায়কের প্রয়াণ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, উত্তম কুমারের নাতনি নবনীতা চট্টোপাধ্যায়, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং অসংখ্য অনুরাগী। অনুষ্ঠানস্থলে মহানায়কের স্মৃতিচারণ করেন উপস্থিত অতিথিরা। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে উত্তম কুমারের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব, মানবিকতা এবং বাংলা সিনেমার প্রতি তাঁর অসামান্য অবদানের কথা।
প্রজন্ম বদলেছে, বদলায়নি মহানায়কের জনপ্রিয়তা
বাংলা সিনেমার ইতিহাসে উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা এক অনন্য ঘটনা। সমাজ বদলেছে, প্রযুক্তির অগ্রগতি হয়েছে, বিনোদনের মাধ্যম পাল্টেছে, কিন্তু মহানায়কের আবেদন আজও অটুট। একসময় সিনেমা হলে তাঁর ছবি মুক্তি পাওয়ার আগের রাত থেকেই টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন পড়ত। অনেকেই রাত জেগে অপেক্ষা করতেন শুধুমাত্র প্রথম দিনের প্রথম শো দেখার জন্য। তাঁরা শুধুই দর্শক ছিলেন না, ছিলেন প্রকৃত অর্থেই মহানায়কের ভক্ত।

আজকের ডিজিটাল যুগেও সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা সোশ্যাল মিডিয়ার যুগের তরুণ-তরুণীরাও সমান আগ্রহ নিয়ে দেখছে ‘সপ্তপদী’, ‘হারানো সুর’, ‘নায়ক’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘ধন্যি মেয়ে’, ‘অগ্নীশ্বর’-এর মতো কালজয়ী ছবি। বহু তরুণ-তরুণীর মুখে আজও শোনা যায় “কী সুইট মাইরি!” যা প্রমাণ করে, মহানায়ক এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
দিনভর ছিল একাধিক সরকারি কর্মসূচি (Uttam Kumar)
রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক স্থানে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের আয়োজন করা হয়। সকালের কর্মসূচির মধ্যে ছিল,
কেওড়াতলা মহাশ্মশানে আবক্ষ মূর্তি ও স্মারকফলক উন্মোচন
মুখ্যমন্ত্রীর মাল্যদান ও শ্রদ্ধা নিবেদন
ভবানীপুরে মহানায়কের পৈতৃক বাড়িতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ
নন্দনে সাংবাদিক বৈঠক
টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদান
আহিরীটলায় শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান
প্রতিটি অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনের শীর্ষকর্তা, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
ভবানীপুরের পৈতৃক বাড়িতে আবেগঘন মুহূর্ত (Uttam Kumar)
কেওড়াতলার অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরে মহানায়কের পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে তাঁর ব্যবহৃত নানা স্মৃতি, ছবি এবং ব্যক্তিগত সংগ্রহের সামনে শ্রদ্ধা জানান তিনি। প্রতিবছরের মতো এবারও অসংখ্য অনুরাগী মহানায়কের বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকেই ফুল হাতে এসে প্রিয় অভিনেতার স্মৃতির সামনে নীরবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
নন্দন, টালিগঞ্জ ও আহিরীটলায়ও শ্রদ্ধার্ঘ্য (Uttam Kumar)
দিনের পরবর্তী কর্মসূচিতে নন্দনে সাংবাদিক বৈঠকে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সময়ে টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদান করেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী। পরে আহিরীটলার মূর্তিতেও সরকারি উদ্যোগে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়। শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও মহানায়ককে স্মরণ করে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
১০০তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের প্রস্তুতি
প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার ঘোষণা করেছে, উত্তম কুমারের ১০০তম জন্মজয়ন্তী অত্যন্ত সাড়ম্বরে উদযাপন করা হবে। এই বিষয়ে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরাম’-এর অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-কে পাঠানো এক চিঠিতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বছরজুড়ে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র উৎসব, স্মারক প্রকাশ, প্রদর্শনী এবং বিশেষ সম্মাননা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
বাংলা সিনেমার চিরন্তন আইকন
১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া উত্তম কুমার শুধুমাত্র একজন অভিনেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলা সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটি বাংলা চলচ্চিত্রকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ‘সপ্তপদী’, ‘সাগরিকা’, ‘হারানো সুর’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘নায়ক’, ‘ঝিন্দের বন্দী’, ‘অগ্নীশ্বর’, ‘অমানুষ’, ‘চিড়িয়াখানা’ এমন অসংখ্য ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও অভিনয়শিল্পের পাঠ্যবিষয় হয়ে রয়েছে। শুধু রোম্যান্টিক নায়ক নন, চরিত্রাভিনেতা হিসেবেও তিনি ছিলেন অসাধারণ। প্রতিটি চরিত্রকে নিজের অভিনয় দক্ষতায় জীবন্ত করে তুলেছিলেন তিনি।



