Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কলকাতার রেড রোডে দুর্গাপুজোর কার্নিভাল হয়ে উঠেছিল বাংলার উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ (Kolkata Durga Puja)। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে সেই আয়োজনের ধারায় এবার বড় পরিবর্তন আসছে। রেড রোডের পরিবর্তে মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের সূচনা করার ঘোষণা করা হয়েছে।
মহালয়াতেই উৎসবের মহাসূচনা (Kolkata Durga Puja)
সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে রাজ্যের পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানানো হয়েছে, মহালয়ার দিন চার ঘণ্টার বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক উদযাপন। থাকবে ড্রোন শো, সমন্বিত আতশবাজি, আলোকসজ্জা, ভিজ্যুয়াল এফেক্ট এবং নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
শহরজুড়ে উৎসবের আবহ (Kolkata Durga Puja)
শুধু ইডেনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না আয়োজন। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে রোড শো ও বিশেষ ব্র্যান্ডিংয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর যৌথভাবে গোটা কর্মসূচি পরিচালনা করবে। শহরের চারটি ঘাটেও দু’দিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ সাজসজ্জার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পুজোর অনুমতিতে আর আদালতের দরজায় নয়
পুজো উদ্যোক্তাদের অনুমতি পেতে যাতে বারবার প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে না হয়, তার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সহজ পোর্টালের মাধ্যমে অনুমতির ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসন এবং পুজো কমিটিগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়াতেও নিয়মিত বৈঠক ও ডিজিটাল মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
অনুদানে বদল, বড় পুজোকে ‘না’ (Kolkata Durga Puja)
সরকারি অনুদানের ক্ষেত্রেও এবার নতুন নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। বড় বাজেটের পুজোগুলিকে সরকারি আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, তাঁদেরই সাহায্য দেওয়া হবে। যেসব পুজো কমিটি সরকারি সহায়তা ছাড়া পুজো করতে পারবে না, তাদের এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। থানায় আবেদন ও যাচাইয়ের পর সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং ষষ্ঠীর আগেই টাকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিনামূল্যে, পুজোয় স্বস্তি উদ্যোক্তাদের
পুজো কমিটিগুলির জন্য আরও একটি বড় ঘোষণা—বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু। একইসঙ্গে লাইসেন্স সংক্রান্ত ঝামেলা কমানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তাঁর আহ্বান, উদ্যোক্তারা যেন মন খুলে পুজো করেন, তবে সরকারি অর্থসাহায্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
পুরস্কারে ঐতিহ্য ও পরিবেশের গুরুত্ব (Kolkata Durga Puja)
সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, পরিবেশবান্ধব পুজো, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং মৃৎশিল্পীদের কাজ—বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। বিচারক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক ও শাস্ত্রীয় জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিসর্জনের সময় প্রতিমার পবিত্রতা ও মর্যাদা বজায় রাখার উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: Annapurna Yojana Helpline: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে অভিযোগ? চালু হেল্পলাইন নম্বর
নিরাপত্তা, বিসর্জন ও ঐতিহ্য—নতুন গাইডলাইনে নজর
পুজোর সময় যান চলাচল ও জননিরাপত্তা নিয়েও একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেবীপক্ষ শুরুর আগে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজয়া দশমীর বিসর্জনে পঞ্জিকা মেনে চলার পাশাপাশি ঘাটের পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বিবেচনায় নির্দিষ্ট ‘কাট-অফ’ তারিখ রাখা হবে। সব মিলিয়ে রেড রোডের পুরনো কার্নিভালের বদলে ইডেনের মহালয়া-উদ্বোধনকে সামনে রেখে বাংলার দুর্গোৎসবকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।



