Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইতিহাসের সঙ্গে লোককথার মিশেলে রানি পদ্মিনী বা পদ্মাবতীর (Rani Padmavati) কাহিনি আজও মানুষের মনে বিশেষ জায়গা করে আছে। তবে পদ্মিনীকে ঘিরে যে সব গল্প প্রচলিত, তার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত প্রমাণ খুব বেশি নেই। আলাউদ্দিন খিলজির চিতোর আক্রমণের প্রায় আড়াইশো বছর পর আওয়াধি কবি মালিক মহম্মদ জায়সির ‘পদ্মাবৎ’ কাব্যে প্রথম বিস্তৃতভাবে উঠে আসে পদ্মাবতীর গল্প।
কে এই পদ্মিনী? (Rani Padmavati)
কাহিনি অনুযায়ী, সিংহল রাজ্যের রাজা (Rani Padmavati) গান্ধর্ব্যসেন ও রানি চম্পাবতীর কন্যা ছিলেন পদ্মিনী। অসাধারণ সৌন্দর্যের পাশাপাশি তাঁর ছিল তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও যুদ্ধবিদ্যায় দক্ষতা। স্বয়ম্বরের সময় যোদ্ধার ছদ্মবেশে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি উপস্থিত রাজাদের সঙ্গে তরোয়াল যুদ্ধে লড়েন। শেষ পর্যন্ত চিতোরের রাজা রতন সিং তাঁকে পরাজিত করেন এবং পদ্মিনী তাঁকেই স্বামী হিসেবে বেছে নেন।
খিলজির চিতোর আক্রমণ (Rani Padmavati)
চিতোরে গিয়ে পদ্মিনীর সৌন্দর্য ও প্রজ্ঞার খ্যাতি আরও ছড়িয়ে পড়ে। রাজা রতন সিংয়ের সভার শিল্পী রাঘব চেতন কোনও অপরাধে রাজসভা থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, তিনিই আলাউদ্দিন খিলজির কাছে পদ্মিনীর সৌন্দর্যের কথা জানান এবং তাঁর আঁকা ছবি দেখান। এরপর পদ্মিনীকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় খিলজি চিতোর আক্রমণ করেন।

আরও পড়ুন: Mahua Moitra: হাইকোর্টে স্বস্তি মহুয়ার, খারিজ কৃষ্ণনগর আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা
প্রবল যুদ্ধের পর রাজপুতরা পরাজিত হন এবং রতন সিংয়ের মৃত্যু হয়। দুর্গে শত্রুর প্রবেশ অনিবার্য বুঝে পদ্মিনী-সহ বহু রাজপুত নারী সম্মান রক্ষার জন্য জহরব্রত গ্রহণ করেন বলে লোককথায় উল্লেখ রয়েছে। তাঁরা আগুনের কুণ্ডে আত্মাহুতি দেন। খিলজি দুর্গে পৌঁছনোর আগেই শেষ হয় পদ্মিনীর জীবন। আজও চিতোরগড়ে ‘জহর কুণ্ড’-কে ঘিরে সেই কিংবদন্তির স্মৃতি বহন করে ইতিহাস, লোকগাথা ও রাজপুত ঐতিহ্য।


