Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও অশান্তির ছবি সামনে এসেছে (Kashmir)। বহুদিন ধরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করে আসছেন যে, প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এবারের নির্বাচনেও সেই অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। ভোটগ্রহণের প্রথম দিন থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, বিক্ষোভ, গুলিবর্ষণ এবং কারচুপির অভিযোগে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভই এবার বিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে।
ভোটের দিন থেকেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি (Kashmir)
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে তিন দফার নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয় সোমবার। ভোট শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে অশান্তির খবর আসতে থাকে। রাওয়ালকোট, কোটলি, নিকিয়াল-সহ একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং ব্যালট বাক্সে হামলার অভিযোগ সামনে আসে। অনেক জায়গায় উত্তেজিত জনতা ব্যালট পুড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। কোথাও ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা, কোথাও আবার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচনী পরিবেশ কার্যত সংঘর্ষের ময়দানে পরিণত হয় (Kashmir)।
রাওয়ালকোটে বিক্ষোভ দমনে গুলির অভিযোগ (Kashmir)
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয় রাওয়ালকোটে। সেখানে গত প্রায় ৫২ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)। সংগঠনের দাবি ছিল, প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মতামতকে সম্মান জানাতে হবে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণ মিছিল চলাকালীন হঠাৎই নিরাপত্তাবাহিনী গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোনও পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ করা হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। যদিও সরকারি তরফে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হতে পারে, তাই প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হামলার ভিডিও (Kashmir)
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওগুলিতে গুলির শব্দ, ছুটোছুটি, আহত মানুষ এবং রাস্তায় পড়ে থাকা দেহ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী ভিডিও বার্তায় বলেন, “পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। চারদিকে মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। কোনওমতে প্রাণ নিয়ে ফিরতে পেরেছি।” তবে এই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওগুলিকে প্রাথমিক তথ্য হিসেবেই দেখা উচিত।
কারচুপির অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সংঘাত
নির্বাচনী হিংসার পাশাপাশি ভোটে কারচুপির অভিযোগও সামনে এসেছে। কোটলি জেলার নিকিয়াল এলাকায় ভোট চলাকালীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির (PPP) এক কর্মী মুখতার ইউনুস গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে অভিযোগ। এরপরই পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বুথ দখল, হিংসা এবং ভোট প্রভাবিত করার ঘটনায় পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N)-এর কর্মীরা জড়িত। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
নির্বাচন বয়কট করল পিটিআই (Kashmir)
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI) এই নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। দলের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ নয় এবং প্রশাসনের পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত প্রভাব নির্বাচনকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: Cockroach janata party: সোনম অনশন ভাঙলেন, তবুও মোদির কড়া বার্তার পরও প্রতিবাদে অনড় পড়ুয়ারা
গণতন্ত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
এই ঘটনার পর আবারও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে (Kashmir)। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ অতীতে বহুবার অভিযোগ করেছে যে, সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর নানা ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে যে হিংসা, প্রাণহানি এবং রাজনৈতিক অভিযোগ সামনে এসেছে, তা সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।



