Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুপর্ণা বেরা: রাজ্যে স্কুলছুট সমস্যা দূর (Nabanna) করা এবং প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার সুনিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য শিক্ষা দপ্তর। বিকাশ ভবনে সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং (NIOS)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি বা MoU স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
‘কোনও শিশু যেন শিক্ষার বাইরে না থাকে’: শিক্ষামন্ত্রী (Nabanna)
রাজ্যের বিদ্যালয় শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন (Nabanna) জানিয়েছেন, জাতীয় শিক্ষানীতি এবং শিক্ষার অধিকার আইনের মূল উদ্দেশ্যই হল কোনও শিশুকে শিক্ষার বাইরে না রাখা। কিন্তু আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, পরিবারের কাজের প্রয়োজন বা বাবা-মায়ের অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে অনেক সময় শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
রাজ্য বদলালেও থামবে না পড়াশোনা (Nabanna)
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এই নতুন ব্যবস্থায় পরিযায়ী শ্রমিকদের (Nabanna) সন্তান বা যেকোনও শিক্ষার্থী এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে গেলেও পড়াশোনা বন্ধ হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কেউ কেরালায় গিয়ে NIOS-এ রেজিস্ট্রেশন করার পর যদি ওড়িশায় চলে যায়, তাহলে সেখানকার NIOS সেন্টারে বসেই নিজের ভাষায় পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি, যে সমস্ত বয়স্ক বা তরুণ কোনও কারণে আগে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি, তাঁরাও এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ফের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত পৌঁছবে NIOS সেন্টার (Nabanna)
এই উদ্যোগের সুবিধা যাতে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার (Nabanna) শিক্ষার্থীরাও পান, তার জন্য NIOS-এর সেন্টারগুলোকে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষা দপ্তরের দাবি, এর ফলে রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের পথ আরও সহজ হবে।
কারা স্বাক্ষর করলেন MoU-তে? (Nabanna)
সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং NIOS-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত (Nabanna) এই চুক্তিতে NIOS-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন শাকিল আহমেদ। পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের (PBSSM) পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন বিভু গোয়েল।
প্রথম শ্রেণি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সুযোগ
এই ব্যবস্থার আওতায় ১ম থেকে ৮ম শ্রেণী (প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি), ১০ম শ্রেণী (মাধ্যমিক) এবং ১০+২ (উচ্চ মাধ্যমিক)—সমস্ত স্তরের শিক্ষাই গ্রহণ করা যাবে। অর্থাৎ, প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা এই ব্যবস্থার সুবিধা নিতে পারবেন।
নিজের গতিতে পড়াশোনার সুযোগ
NIOS-এর এই ব্যবস্থায় সাধারণ স্কুলের মতো এক বছরের মধ্যে কোর্স শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো গতিতে (Pace) পড়াশোনা ও পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে রেজিস্ট্রেশনের পর কোর্স শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সময় দেওয়া হবে।
NIOS সার্টিফিকেটের রয়েছে সরকারি স্বীকৃতি
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শংসাপত্র সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের স্বীকৃত। ভারতের যেকোনও বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর এবং বেসরকারি সংস্থায় এই সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য হবে। পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, CBSE, ICSE এবং অন্যান্য রাজ্য বোর্ডের সার্টিফিকেটের মতোই NIOS-এর সার্টিফিকেট সমমানের বলে জানানো হয়েছে।


