Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুখের দিন কবে দেখেবে মহামেডান স্পোর্টিং (Mohammedan Sporting)? এই তো কয়েকদিন আগে নতুন কমিটি কাজ শুরু করল। ডুরান্ড কাপেও শুরুটা ভালো হল। কিন্তু ফের আর্থিকসমস্যা। হলেও মাঠের বাইরের নানা সমস্যায় ফের গভীর সঙ্কটে ঐতিহ্যবাহী মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ক্লাবের বর্তমান সভাপতি হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন আর্থিক বিতর্কে শোরগোল পড়ে গেছে সাদা-কালো শিবিরে। ক্লাবের আর্থিক অবস্থা ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য তাঁর দেওয়া দেড় কোটি টাকার তিনটি চেকই বাউন্স করায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মূল ঘটনা এক নজরে (Mohammedan Sporting)
চলতি বছরের জুলাই মাসে ক্লাবকে আর্থিক সঙ্কট থেকে বাঁচাতে তিন দফায় ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট দেড় কোটি টাকার তিনটি চেক জমা দিয়েছিলেন সভাপতি হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে ক্লাবের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সময়ে চেকগুলি ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হলে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে তিনটি চেকই ফেরত আসে বলে অভিযোগ ওঠে। এর ফলে প্রাক্তন সভাপতি আব্দুল কাদিরির আমলের বকেয়া মেটাতে বড় বাধা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হওয়ায় নতুন ফুটবলারদের নাম নথিভুক্ত করতেও সমস্যা পোহাতে হচ্ছে মহামেডানকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে ক্লাবের অন্যান্য কর্তারা উদ্যোগ নিয়ে কিছু বকেয়া মেটানোর চেষ্টা করেন।
দুই পক্ষের বিপরীতমুখী অবস্থান (Mohammedan Sporting)
এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ক্লাব সভাপতি হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, ক্লাবের ক্ষতি করার তাঁর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তিনি জানান যে তিনি নিজেই ক্লাবের সভাপতি এবং ক্লাবের স্বার্থেই চেক দিয়েছেন, যা কয়েক দিনের মধ্যে মিটে যাবে। নির্দিষ্ট দিনে টাকা না আসলেও কিছুটা সময় এদিক-ওদিক হতে পারে এবং এতে দুর্নীতির কোনও বিষয় নেই বলে তাঁর দাবি। ক্লাবের পক্ষ থেকেও সময় চাওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: Brazil vs India: ৩ অক্টোবর যুবভারতীতে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে আসছে ব্রাজিল!
তবে ক্লাবের সহ-সভাপতি ওয়াসিম আক্রমের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি স্পষ্ট জানান যে হুমায়ুন সাহেব যে তিনটি চেক দিয়েছেন, তার প্রতিটিই বাউন্স করেছে। নির্দিষ্ট তারিখেই তারা চেকগুলি ব্যাঙ্কে জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু ব্যাঙ্ক জানিয়েছে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। সভাপতি হওয়ার সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত ক্লাবের হিসাবে সেই টাকা আসেনি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বর্তমানে খেলোয়াড়দের বকেয়া মেটানোর জন্য বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন এবং সেটাই এখন তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা (Mohammedan Sporting)
মাঠের পারফরম্যান্সে ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচে বাঘপত এফসিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করেছে মহামেডান (Mohammedan Sporting)। তবে সামনে আরও কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্লাবের অন্দরের আর্থিক সংকট দ্রুত সমাধান না হলে দল পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন দলটির সমর্থকরা।



