Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ফুটবল বিশ্বকাপের বলের গল্পটা মূলত সাদামাটা চামড়ার গোলক থেকে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বল হয়ে ওঠার, যা বিশ্বকাপের মতই রোমাঞ্চকর (World Cup Match Ball)।
বিশ্বকাপের ময়দানে গল্প বলা বল (World Cup Match Ball)
পৃথিবীতে বিবর্তন যে ঘটে সেই তত্ত্ব আমরা জেনেছি ডারউইনের থেকে। মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসও অবাক করার মত। এক সময় মানুষ ঝুঁকে পড়ে হাঁটতো এরপর ধীরে ধীরে বিবর্তিত হয়ে দুই পা। মানুষের সভ্যতার ইতিহাসে আগুনের আবিষ্কার ছিল সবথেকে উল্লেখযোগ্য। আধুনিক সভ্যতার ইতিহাস শুরু বলা যায় সেখান থেকেই। তবে কি শুধু প্রাণী জগত? না! এর সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে চারপাশ। পৃথিবীর ইতিহাস যেমন বিশ্বযুদ্ধ দেখেছে তেমন দেখেছে সভ্যতার উত্থান পতন (World Cup Match Ball)।
এক সময়ের পাড়া আর আজকের পাড়ার মধ্যেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। বদলে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা, একসময় টেলিফোন থাকত তারের সঙ্গে বাঁধা আর আজ সেই তার নেই কিন্তু মানুষ বাঁধা পড়েছে ফোনের সঙ্গে। ফোন স্মার্ট হয়েছে। তবে সেই সঙ্গে বদলে গেছে বিনোদনের ভাষা থেকে ক্রীড়া জগত। ক্রিকেটে এক সময় শুধু টেস্ট ছিল আর টি-টোয়েন্টি হয়ে ১০ ওভারের খেলাও হচ্ছে বর্তমানে। তেমন বদলেছে ফুটবল বিশ্ব। আর সেই বিশ্বের সবথেকে বড় প্রতিযোগিতা হল ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। ১৯৩০ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের নাম যদিও ছিল জুলে-রিমে কাপ। সেই সময়ের ফিফা সভাপতি এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে তাঁর নামেই রাখা হয় এই কাপের নাম। পরবর্তীতে এই নাম পাল্টে হয় বিশ্বকাপ (World Cup Match Ball)।

সেই সময় ১৩টি দল নিয়ে শুরু হওয়া এই কাপ ২০২৬ সালে আয়োজিত হতে চলেছে ৪৮টি দল নিয়ে। এবার এই কারণে ঐতিহাসিক যেমন তেমন ঐতিহাসিক কারণ এই মহারণ আয়োজিত হবে তিনটি দেশে। আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডায়। সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপ আগের সববারকে যে ছাপিয়ে যেতে চলেছে সেটা অনুমেয়। বিশ্বকাপে একদিকে যেমন দলের জার্সির দিকে নজর থাকে তেমন রয়েছে বলের ইতিহাস।
আজকের যে বল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্মার্ট হয়েছে আগে সেটা ছিল শুধুই চামড়ার গোলক। এই বিশ্বকাপের বলের বিবরণে যাওয়ার আগে বলের ইতিহাস সম্পর্কে দু চার কথা না বললেই নয়। ১৯০ সালে এই ফুটবলকে নিয়েই তৈরি হয়েছিল গোলযোগ। সেইবার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা এবং উরুগুয়ে। কিন্তু সমস্যা দেখা যায় কোন দেশের বল দিয়ে খেলা হবে। সেই সময় ঠিক হয় প্রথম হাফ খেলা হবে আর্জেন্টিনার বল দিয়ে আর দ্বিতীয় হাফ খেলা হবে উরুগুয়ের বল দিয়ে। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় হাফে উরুগুয়ে ৪-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে শিরোপা ঘরে তোলে (World Cup Match Ball)।
এরপর ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে থাকে ফুটবল বলে। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথম অফিশিয়াল বল হিসেবে বিখ্যাত অ্যাডিডাস টেলস্টার। এই বলটিও প্রথম সাদা-কালো প্যানেল দিয়েই তৈরি হয়েছিল যাতে সাদাকালো টিভি-তে স্পষ্ট দেখা যায়। এর সঙ্গে খেয়াল করলে দেখা যাবে সামাজিক বা আশেপাশের পরিবর্তনের গভীর প্রভাব থাকে ফুটবল মাঠেও।
১৯৭৮ সাল থেকে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী ‘ট্যাংগো’ ডিজাইনের বাইরে গিয়ে ফ্রান্স বিশ্বকাপে আসে ‘ট্রিওডোর’। ফ্রান্সের পতাকার রঙে সাজানো এই বলটিই ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম রঙিন বল। সেখান থেকে ১৯৯৪ সালের বলে ব্যবহার করা হয় আধুনিক প্রযুক্তি। ‘কুয়েস্ট্রা’ তৈরিতে রকেট তৈরির প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল।
২০১০ সালের বিশ্বকাপের বল জাবুলানি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত বল। জুলু শব্দ জাবুলানির অর্থ ছিল উদযাপন। এই বলের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য বাইরের আচ্ছাদনে গ্রিপ নাম এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়াও ১১টি ভিন্ন রঙের ত্রিভুজ প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল। যার অর্থ ছিল মাঠের ১১ জন খেলোয়াড়, দক্ষিণ আফ্রিকার ১১টি ভাষা, দক্ষিণ আফ্রিকার ১১টি বিখ্যাত গোষ্ঠী। তবে এই বল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলরক্ষকরা বলেছিলেন, ‘দুঃখজনক যে বিশ্বকাপের মত এত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় এরকম বাজে বল ব্যবহার করা হচ্ছে (World Cup Match Ball)।’
২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হবে যে বল তার সরকারি নাম ‘ট্রিওন্ডা’ (TRIONDA)। এই বলটিও তৈরি করেছে বিখ্যাত সংস্থা অ্যাডিডাস। এই বল প্রথমবারের মত ঘোরানো হবে তিন আয়োজক দেশ তথা আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে। যএই নামের পিছনেও লুকিয়ে রয়েছে অর্থ যা বিশ্বকাপের উন্মাদনার সঙ্গেই এক হয়ে যায়। Tri শব্দটার মানে হচ্ছে তিন আর অন্যদিকে Onda একটি স্প্যানিশ শব্দ যার অর্থ ওয়েভ বা ঢেউ। এখানে তিন দেশকে ফুটবল ঐকবদ্ধ করে ফুটবলের ঢেউতে ভাসতে চলেছে সেটাই বোঝানো হয়েছে।
এই বলের ডিজাইন করেছে এই সংস্থার ডিজাইন টিম। যেখানে বলের মধ্যে দেখা যাবে তিনটি দেশের সংস্কৃতি ও পতাকার রং। লাল রং কানাডার, সবুজ মেক্সিকো এবং নীল যুক্তরাষ্ট্র বা আমেরিকার জন্য। এছাড়াও বলেও উপর রয়েছে ম্যাপেল লিফ, ঈগল এবং স্টার-এর প্রতীক। বিশ্বকাপে ব্যবহৃত বেশিরভাগ বলই তৈরি হয় পাকিস্তানের শিয়ালকোট শহরে, যা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রধান বল উৎপাদন কেন্দ্র। এই বলও তৈরি হয়েছে এখানেই। এটি তৈরি করেছে Forward Sports নামের প্রতিষ্ঠান, যারা আগের World Cup ball ‘Al Rihla’-ও তৈরি করেছিল। TRIONDA শুধু একটি ফুটবল নয়, এটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বল এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ (World Cup Match Ball)।
আরও পড়ুন: Aneek Dutta Death: ফের টলিউডে রহস্যমৃত্যু: রাহুলের পর প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্ত
এই বলের বিশেষত্ব
১. নতুন ৪-প্যানেল ডিজাইন
এই বলে মাত্র ৪টি panel ব্যবহার করা হয়েছে, যা World Cup ইতিহাসে সবচেয়ে কম। এতে বলের aerodynamics আরও ভালো হয়েছে এবং শট বেশি stable হয় (World Cup Match Ball)।
২. Connected Ball Technology
বলটির ভিতরে একটি special motion sensor chip রয়েছে।
এটি প্রতি সেকেন্ডে 500 বার data পাঠাতে পারে।
৩. VAR-এ সাহায্য করবে
এই sensor VAR ও semi-automated offside technology-কে সাহায্য করবে। Offside, handball বা touch detection আরও accurate হবে।
৪. Wet condition-এও ভালো grip
বলটির textured surface ও deep seam design থাকার কারণে বৃষ্টি বা ভেজা মাঠেও grip ও control ভালো থাকবে।
৫. Tournament spirit
বলটির পুরো design-এই তিন দেশের unity, culture ও football passion ফুটিয়ে তোলা হয়েছে (World Cup Match Ball)।
ফুটনোট
এই বিশ্বকাপে দেখা যাবে তিনটি মাসকট। সেইগুলি হল ‘টাক ঈগল’, ‘মেপল’ নামের মুস আর মেক্সিকোর জঙ্গল থেকে আসা ‘জায়ু’ নামের জাগুয়ার। এই মাসকট ফুটবলের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ওতপ্রোতভাবে। এখানে মেপল গোলকিপার, জায়ু স্ট্রাইকার এবং মাঝমাঠে সবকিছু গুছিয়ে রাখে ক্লাচ, অর্থাৎ মিডফিল্ডার। এই তিন মাসকট একসঙ্গে ফুটবলের একতা, বৈচিত্র এবং ফুটবল নিয়ে বহমান আবেগের প্রতীক।


