Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
সুকৃতি ভট্টাচার্য, কলকাতা: শনিবারের পর রবিবার, পরপর দু’দিন ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি। সকাল ১০টার কিছুটা আগেই ভবানী ভবনে (Bhabani Bhawan) পৌঁছন সুমিত। সাদা পোশাকে সিআইডি দফতরে ঢোকেন তিনি। শনিবারও দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর সিআইডি (CID) দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
সুমিতের বিরুদ্ধে চার মামলা (Sumit Roy)
শুক্রবার রাতে শালবনির জমি প্রতারণা মামলায় সুমিতকে তলব করে নোটিস পাঠিয়েছিল সিআইডি। সেই নোটিসের ভিত্তিতেই শনিবার নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগে ভবানী ভবনে পৌঁছন তিনি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ফের রবিবার হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ মেনেই এদিন দ্বিতীয়বার সিআইডির দফতরে হাজিরা দেন সুমিত (Sumit Roy)। এই মামলায় সুমিতের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, তদন্তকারীরা তাঁর কাছ থেকে কোন কোন বিষয়ে তথ্য জানতে চাইছেন, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:Dilip Ghosh: পঞ্চায়েত দপ্তরে দুর্নীতি হাজার কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে! কী বললেন দিলীপ ঘোষ
জানা গিয়েছে, জমি সংক্রান্ত মামলা-সহ মোট চারটি মামলায় সুমিতের (Sumit Roy) নাম রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্ট থেকে আপাতত জমি দুর্নীতি মামলায় রক্ষাকবচ পেয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশও রয়েছে। সুমিতের নাম সামনে আসে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতারের পর। অভিযোগ ওঠে, ২০২৬-এর নির্বাচনে টিকিট পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি শালবনির জমি সংক্রান্ত একটি মামলাতেও সুমিতকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সুমিতের খোঁজে অভিষেকের বাড়িতে হানা পুলিশের
অভিযোগের তদন্তে মাসখানেক আগে সুমিতের (Sumit Roy) খোঁজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও গিয়েছিল পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হলেও সেদিন তাঁর সন্ধান মেলেনি। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং লুকআউট নোটিস জারি করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়।
পরবর্তীতে আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতের আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রক্ষাকবচ পাওয়ার পরই তদন্তে হাজিরা দিতে শুরু করেছেন তিনি। তবে টানা দু’দিন ভবানী ভবনে হাজিরা এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ, এই মুহূর্তে তদন্ত কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
আরও পড়ুন: Bengali Film: মাটির ঘোড়ায় কি সত্যিই প্রাণ দিতে পারবে বিশু? আসছে কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহীর নতুন ছবি!
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আক্রমণও অব্যাহত। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিট থেকেই গোটা ‘মাফিয়া রাজ’ নিয়ন্ত্রণ করা হত। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রশ্ন একটাই, দু’দিনের জেরায় সিআইডির হাতে নতুন কিছু তথ্য আসে কি না? আরও কি কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হবে এরপর? নাকি তদন্তের পরবর্তী ধাপে আরও বড় কোনও পদক্ষেপ করতে চলেছে সিআইডি?


